মাত্র ৩ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা লাভ করুন। Profitable Food Item Business
যারা সল্প (আয়ে) ইনবেস্ট  বাবসা করে নিজেকে সাবলম্বি করতে চান তাদের জন্যই আজকের বাবসার আইডিয়া।
আপনারা কনফেক্সনারি দোকান গুলিতে রেডিমেড কিছু খাদ্য দ্রব্য পাবেন। যেমন= সিঙ্গারা, চমুচা, বার্গার ইত্যাদি । তা ছাড়া রাস্তার পাশের ভ্যানের দোকান গুলিতেও এগুলো প্রছুর বিক্রি হয়।
আজকে আমি সেরকম খাবারের সাপ্লাই করার একটি লাভজনক আইডিয়া আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

কিভাবে শুরু করবেন?
আজকে আমি কেবল দুইটা প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলবো। সিঙ্গারা এবং চমুচা ।  এই ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে কোন দোকান দিতে হবেনা । পরিবহনের জন্য একটা সাইকেল হলেই ছলবে।
ব্যবসা শুরুর আগে আপনি বাজার যাচাই করে নিবেন। অর্থাৎ আপনার কি পরিমাণ কাস্টমার আছে সেটা ভালো করে দেখে নিবেন।
প্রাথমিক ভাবে মোটামুটি ১০০০ পিস প্রতিদিন সেল করার ক্যপাসিটি করে নেবেন।
স্থায়ী দোকান, ভেন গাড়ি, টং দোকান ইত্যাদি মিলিয়ে ২০ টি দোকান হলেই ছলবে। তাহলে প্রতি দোকানে প্রতিদিন ৫০ পিস দিলেই হবে। তবে চেষ্টা করবেন এই দোকানের পরিমাণ দিন দিন বাড়াতে।

আপনি কিভাবে কাজ শিখবেন ।
সিঙ্গারা এবং চমুচা বানানো তেমন কোন কঠিন কাজ না। প্রথমে এক কেজি আলু কিনে নিজেই ট্রাই করতে পারেন। বানিয়ে দু চার জনকে খাওয়াতে পারেন।
কয়েক বার ট্রাই করেন। হয়ে যাবে। আজকাল ইউটিউবে প্রচুর পরিমাণে ভিডিও পাওয়া যায়।

 তবে সিঙ্গারা এবং চমুচা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে।
গরু বা মুরগির কলিজার সিঙ্গারার বেশ কদর আছে। দাম ও একটু বেশী।

ব্যবসা শুরু করতে কত মুলধন লাগবে?
যেহেতু এটা একটা রোলিং বাবসা তাই মুল্ধন কম হলেও ছলবে। প্রথমে কিছু  সামগ্রি কিনে নিবেন, যেমন=
কড়াই ২ পিস -২০০০ টাকা
দা,ছুরি, খুন্তি ইত্যাদি মিলিয়ে ২০০০ টাকা
সাইকেল ১০,০০০ টাকা
তাহলে মুলধন সামগ্রী কিনলেন ১৪,০০০ হাজার টাকা। এটা প্রতি বছর অয় ব্যয় হিসাবে ধরে নিবেন।
এবার আসি সিঙ্গারা এবং চমুচা বানানোর খরছ হিসাবে।
সিঙ্গারা এবং চমুচা সিঙ্গারা বানানোর মূল উপাদান হলো পেঁয়াজ,আলু, ময়দা আর তেল। চেষ্টা করবেন এগুলি কোন পাইকারি দোকান থেকে কিনে নিতে। তাহলে
বাজার দরের চেয়ে অনেক কমে কিনতে পারবেন। পাম তেল খোলাটা কিনতে পারেন, দামে কম আছে। বস্তা ময়াদা কিনবেন। আর পেঁয়াজ ইন্ডিয়ান টা কিনবেন।
প্রতি পিস সিঙ্গারা এবং চমুচা বানাতে ২.৫ - ৩ টাকার বেশী খরছ হয়না। যা বাজারে ৫-৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। তাহলে ১০০০ পিস সিঙ্গারা এবং চমুচা তৈরি করতে মোটামোটি ৩,০০০ হাজার টাকার কাঁচা মাল লাগবে।

লাভ লোকশান
প্রত্যেকটি সিঙ্গারা এবং চমুচা বিক্রি করে আপনি ১-২ টাকার বেশি লাভ করতে পারবেনা। জদি দোকানদারের কাছে ৪ টাকা প্রতি
পিস বিক্রি করেন তবে ১০০০ সিঙ্গারা এবং চমুচা আপনি ৪০০০ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। আপনার লাভ হবে প্রতিদিন ১,০০০ হাজার টাকা ।
এই ব্যবসার নিয়ম হলো প্রতি দিনের টাকা বিকালে বা সন্ধ্যায় তুলতে হয়। কারণ অনেকেই নগদ টাকা দিবেনা। তবে সিঙ্গারা বা চমুচা কিন্তু মানুষ
খুব ভোরে খায়না। তাই ১০ কি ১১ টার দিকে দোকানে বিতরণ শুরু করবেন। সাথে ১৫-২০ পিস কাঁচা মরিছ দিয়ে দিতে পারেন।
যদি সব কিছু ঠিক ঠাক থাকে তবে আপনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা অনায়সেই লাভ করতে পারবেন।

বিস্তারিত
সঠিক সিন্ধান্ত নিতে আমাদের আমদানি রপ্তানি সেবা নিন

আমাদের আমদানী রপ্তানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ঘঠিত ওয়েবসাইটে, আপনাকে স্বাগতম ৷ আমার ২০১০ সাল থেকে আমদানি রপ্তানি ব্যবসার সাথে জড়িত। ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন ভাবে সবাইকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে আমদানি বিষয়ে সেবা দিয়ে আসতেছি। আমদের ফেসবুক পেজ alibaba.com.bd থেকে প্রচুর ফ্যান কে সহযোগিতা করি। বর্তমানে আমদের ফ্যান পেজে ৫০০০+ মত ফলোয়ার এবং লাইক রয়েছে।

আপনাদের জন্য আমাদের YouTube Channel ও ওয়েবসাইটে আমদানী রপ্তানি বিষয়ে প্রচুর মুল্যবান তথ্য দেয়া আছে ৷

২০১০ সাল থেকে আমরা চায়না থেকে পন্য আমদানী করে থাকি ৷ আমাদের দেশে আমদানী ব্যবসা প্রচুর লাভজনক বিধায় অনেকেই এই ব্যবসা শিখতে চাচ্ছেন ৷ গত সাত বছরে প্রচুর নতুন আমদানীকারকে প্রতারিত হতে দেখেছি ৷

অনেকেই অভিযোগ করেন দাম পরিশোধের পর পন্য হাতে পাননা ৷ এগুলি নিয়ে অনেক ভিডিও আছে আমাদের ৷ আমাদের চ্যানেল থেকে দেখে নিতে পারেন ৷

আলিবাবা থেকে যে কোন পণ্য আমদানি করার বিস্তারিত নিয়ম, প্রয়োজনে সেলার এর সাথে কথা বলে দাম নির্ধারণ করা, পণ্য আপনার হাতে আসা পর্যন্ত কত দাম পবে তা জানা, পণ্যের সঠিক HS Code বের করে সঠিক ট্যাক্স জানা, শিপিং চার্জ এসব কিছু জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 

বাংলাদেশে এখনও অনেকেই আছেন যারা পণ্য আমদানি করে বার বার সরকারী ট্যাক্সের ঝামেলায় পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এর কারণ খুজতে গিয়ে অনেকেই নিজের অজ্ঞতাকে দোষারোপ করেছেন। এটা সম্পূর্ণ একটা ভুল ধারণা। কখনই আপনি নিজে সব কিছু জানা সম্ভভ না।যেমন আপনি একটা পণ্যের সঠিক এইস এস কোড কি হবে তা বের করতে যত কষ্ট হবে তার চেয়ে সহজ হবে একজন  সি এন্ড এফের । কারণ তারা এই এইস এস কোড নিয়ে সবসময় কাজ করে।

একজন আমদানি কারককে লাভের মুখ দেখাতে পারে কেবল সি এন্ড এফ Clearing & Forwarding Agents (C&F) Company। কারন কিভাবে আমদানি করলে সকারের  ঝামেলা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা কেবল সি এন্ড এফেই বলতে পারবে।

আমাদের প্রচুর সাবস্ক্রাইবার আর ভিজিটরদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা হয়ত কিছু না বুঝেই পণ্য আমদানি করে নিয়ে আসছেন। আমরা আমাদের সকল সাবস্ক্রাইবার আর ভিজিটরদের ঢাকা এয়ারপোর্ট, এবং চট্রগ্রাম পোর্টে সকল প্রকার সি এন্ড এফ সেবা প্রদানের জন্য চালু করেছি সহজ এবং বিশ্বস্ত সি এন্ড এফ কনসাল্টিং ফার্ম ঢাকা সার্ভিস "" Double S Corporation""

এছাড়া আপনি যদি আলিবাবা সম্পর্কে মোটেই ধারণা না থাকে তবে আপনি খুব সহজেই আমাদের দিয়ে চায়না এবং আলিবাবা থেকে পণ্য আমদানি করতে পারবেন । তবে আলিবাবা থেকে পাইকারি পণ্য আমদানি করতে হবে। খুচরা  পণ্য আমদানি করলে লাভ করতে খুব কঠিন হয়। আমরা দুই ভাবে আমদানি করে থাকি। শিপে চট্টগ্রাম পোর্ট দিয়ে আর বিমানে এয়ারপোর্ট দিয়ে ।

ফেসবুকে আমাদের সরাসরি আলিবাবা থেকে আপনার পছন্দের পণ্যের লিঙ্ক মেসেজ করুন এখানে ক্লিক করে

আমাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করুন অথবা ইমেইল করুন 01310-576357

md.shafiullah08@gmail.com

বিস্তারিত
এজেন্ট ব্যংকিং কী ? কিভাবে শুরু করবেন ? কত টাকা লাভ হবে ? ।। What is agent Banking and how to start agent Banking

এজেন্ট ব্যংকিং কী ?

এজেন্ট ব্যংকিং হলো এমন ব্যংকিং সেবা যা কোন ব্রাঞ্চের অধীনে ব্যংকিং সেবা দিয়ে থাকে । এজেন্ট ব্যংকিং এর কাজ মুল ব্রাঞ্চ এর অধীনে হয়ে থাকে । তবে এর কাজ ব্রঞ্চের মত নয় । তবে বর্তমানে এজেন্ট ব্যংকিং সেবা একটি বিজনেস এ পরিনত হয়েছে । বর্তমানে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী ব্যংকগুলো এজেন্ট ব্যংকিং এর সেবা দিয়ে থাকে ।


এজেন্ট ব্যংক থেকে কি কি সেবা প্রধান করা যাবে ?

মুল ব্যংকে যে সকল কাজ হয়ে থাকে এজেন্ট ব্যংকে সে ধরনের কাজ হয়ে থাকে । যেমন : একাউন্ট খোলা , স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী আমানত সংগ্রহ করা । লোন প্রধান করা , চেক প্রধান করা , কার্ড প্রধান করা , বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করা , আরো ইত্যদি । তবে আপনি যে ধরনের সেবা প্রধান করবেন চেষ্টা করবেন খুব সহযে যেন গ্রহকরা তা গ্রহন করতে পারে ।


কিভাবে শুরু করবেন ?
এজেন্ট ব্যংকিং শুরু করতে হলে প্রথমত আপনাকে একটি ব্যংক নিদিষ্ট করতে হবে । অথ্যাৎ আপনি যে ব্যংকের এজেন্ট আনবেন । বর্তমানে আনেক ব্যংক এজেন্ট ব্যংক দিয়ে থাকে । এজেন্ট ব্যংক দেওয়ার পুর্বে আপনাকে একটি নিদিষ্ট স্থান নির্ধারন করতে হবে স্থানটি যেন আপনার আশে পাশে যে কোন জনকীর্ন এবং মানুষের পরিচিত ও যাতায়াতে সহয স্থান হয় । তবে আপনি যে স্থান নির্বাচন করবেন অথাৎ যেখানে এটি দিবেন তার যাবতীয় খরচ আপনাকে বহন করতে হবে। যখন আপনার স্থান নির্বাচন হয়ে যাবে তখন আপনি যে ব্যংকের এজেন্ট আনবেন তার প্রধান কার্যলয়ে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে । আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করার পর তারা আপনার এলাকায় আসবে এবং এজেন্ট ব্যংকিং এর সম্ভব্যতা যাচাই করবে এবং যিনি আবেদন করছে তার সম্পর্কে যাচাই করবে । তো সব মিলিয়ে তাদের যাচাই যদি ঠিক ঠাক হয় তাহলে তারা আপনার আবেদন গ্রহন করবে ।
কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে ?

আমরা প্রথমে উল্লেখ করেছি এজেন্ট ব্যংকিং এক ধরনের বিজনেস তাই অন্যন্য বিজনেস এর মত এটিতে বিনিয়োগ করতে হবে । প্রথম আবস্থা আপনি যখন আবেদন করবেন সে আবেদন কৃত ব্যংকে আপনার ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার একটি ডিপোজিট দেখাতে হবে । এছাডা আফিসের কম্পিউটার ও ডেকেরশন বাবদ ২ থেকে ৩ লাখ টাকা লাগবে । তবে সেটি আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করবে ।


এজেন্ট ব্যংকিং লাভের উৎসহ কী ?

গ্রহকের ডিপোজিট থেকে ২-৩% । কারেন্ট একাউন্ট , ডিপোজিট , ফিক্সডিপোজিট , ফরেন রেমিটেন্স একাউন্ট বোনাস , চেক বই ইসু , এটিএম কার্ড ইস্যু , বিদ্যুৎ বিল , ইটিলিটি বিল , লোন প্রদান করলে ১% কমিশন , পার্সপোট ফ্রি জমা ইত্যাদি সহ আরো আনেক লাভের উৎসহ রয়েছে ।


খরচ :
প্রথমিক ভাবে ডেকেরেশন বাবদ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ করতে হবে। এটি হলো আপনার স্থায়ী খরচ । এছাড়া আপনাকে প্রতি মাসে কিছু খরচ করতে হবে । যেমন : দোকান ভাড়া বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং কর্মচারী বেতন বাবদ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল ও অন্যন্য খরচ বাবদ ১ থেকে ২ হাজার টাকা। তাছাড়া প্রতি এজেন্ট ব্যংকে মুল ব্যংক থেকে একজন স্থয়ী ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে যার বেতন ব্যংক কতৃপক্ষ দিয়ে থাকে । তো সব মিলিয়ে প্রতি মাসে আপনার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে । তবে সেটি আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে খরচ কমতে ও বাড়তে পারে ।


লাভ লোকসান :

এজেন্ট ব্যংকে প্রথম আবস্থায় আপনার তেমন লাভ হবে না তবে এটি যেহেতু একটি বিজনেস তাই আপনাকে এটি চালিয়ে যেতে হবে । প্রথম আবস্থায় ব্যংক কতৃপক্ষ বলে দিবে প্রথম ১ বছর আপনার তেমন বেশি লাভ হবে না। কারন আপনার ব্যংকে সেভিং না বাড়লে লাভ বাড়বে না । আপনার ব্যংকে যত বেশি টাকা টাকা যমা পড়বে তত বেশি আপনার লাভ হবে । তাই আপনাকে প্রথম বছর আপনার ব্যংকের পরিচিতি ছড়িয়ে দিতে হবে । মোটামুটি আপনার ব্যংকে যদি ৫ কোটি টাকা সেভিংস হয় তাহলে আপনি প্রতি মাসে ৭০ - ৮০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন । খরচ বাদে প্রতি মাসে আপনি ৪৫-৫০ হাজার আনায়াসে আয় করতে পারবেন । তবে আপনার সেভিংস যত বাড়বে আপনার আয় তত বাড়বে । প্রথম বছর আপনাকে একটু প্ররিশ্রম করতে হবে । আপনার ব্যংকে যত প্রচার বাড়বে আপনার এবং মানুষের আমানত বাড়বে আপনার আয় তত বাড়বে ।

বিস্তারিত
ব্যবসার শুরুতে এই ৩ টি বড় ভুল করলে ব্যবসা শেষ । ভুলের সমাধান । Laws Of Successful Business | Bangla Business Tips

আমরা অনেকেই ব্যবসা শুরু করি কিন্তু সেটা সফলতার মুখ দেখতে পারেনা। আমি আজকে কিছু ভুল কারন আপনাদের সাথে আলোচনা করবো  যে সব ভুল গুলি করার কারনে আমাদের ব্যবসা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনা। মনোযোগ দিয়ে পোস্টটি পড়বেন । 


আমাদের প্রথম যে ভুল সেটা হলো 

কম টাকায় ব্যবসা শুরু করতে চাই

অনেকেই আমরা চাই ৫-১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করতে। কিন্তু এই ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে আমদের যা হয় সেটা হলো ব্যবসাতো হয়ই না উপরন্তু আমরা আমাদের সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়ে ফেলি। ধরুন আপনি চাচ্ছেন অনলাইনে  কসমেটিক্সের ব্যবসা করবেন। এবার আপনি ঢাকার চক বাজার থেকে ৫০০০ টাকার কসমেটিক্সে কিনে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করলেন। কিন্তু সমস্যা হলো আরেকজন ১ লাখ টাকা নিয়ে কসমেটিক্সে ব্যবসা শুরু
করলো। উনি অবশ্যই আপনার থেকে কমে কিনতে পারবেন, কারন আপনি কিনবেন ৫০০০ টাকার আর উনি কিনবে ১০ লাখ টাকার ।
অথবা উনি চাইলেই বিদেশ থেকে এগুলি আমদানি করে সেল করতে পারবেন। তখন তো আরো কমে উনি কিনতে পারবেন। তাহলে ৫০০০ টাকার এই পণ্য  নিয়ে আপনি  ১০ লাখ টাকা মূলধনের ব্যাক্তির সাথে কখনই টেক্কা দিতে পারবেন না। এর পর উনি ১ লাখ টাকায় ১০ টা আইটেম নিয়ে দোকান সাজাবে আর আপনি ৫০০০ টাকায় একটা আইটেমের অল্প কিছু নিয়ে শুরু করবেন। দরকার নাই এভাবে ব্যবসা শুরু করার।

তাহলে এর কি সমাধান ? সমাধান একটাই সেটা হলো যাদের মূলধন কম তারা এই ৫-১০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করার দরকার নাই।
হ্যাঁ, আপনার অনেক সখ ব্যবসা করার। সেটা আরো পরে পুরন করা যাবে। এখন আপনি একটা চাকরি ধরেন। কোথাও থেকে একটা চাকরি জোগাড় করুন। ৫০০০ টাকার একটা ব্যবসা থেকে আপনি কতই বা আয় করতে পারবেন। বড়জোর মাসে ১০০০ টাকা । তবে সেটা যদি হয় ঝালমুড়ি বিক্রির ব্যবসা তবে হয়তো আপনি আরেকটু বেশী আয় করতে পারবেন। আর একটা মাস ব্যগার খাটলেন । সময়ের মূল্য বুঝুন। ডেইলি আপনি একটা ব্যবসায় এক ঘণ্টা সময় দিলেন। ত্রিশ দিনে ত্রিশ ঘণ্টা। ঘণ্টা যদি ১০০ টাকা করে ধরি তাহলেও আপনি ব্যায় করলেন ৩০০০ টাকার সময়। আপনার দরকার একটা চাকরি জোগাড় করা যেখান থেকে আপনি প্রতি মাসে একটা   বেতন পাবেন। ধরুন আপনি মাসে ১৫০০০ টাকা বেতনের একটা চাকরি জোগাড় করলেন ।

কিন্তু ব্যবসা থেকে এই ১৫০০০ টাকা আয় করতে আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা। কারন ব্যবসায় ৫% এর বেশী লাভ  করাটা অনেক কস্ট  সাধ্য ব্যপার। এর পর রিস্ক তো আছেই । ভুল হলে আপনি পুজিও হারাতে পারেন।

এবারের কাজ হলো ১৫০০০ থেকে ২ হাজার করে জমা করতে থাকুন আর আপনার কাঙ্খিত ব্যবসা শিখতে থাকুন। বছরে ২৪ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারবেন।
৫ বছর ধরে অপেক্ষা করুন। এই ফাঁকে আপনার ব্যাংকে জমবে ১২৫০০০ টাকা।

আর ৫ বছরে আপনি হয়ে যাবেন এই ব্যবসার মাষ্টার । এবার আপনার কাংখিত ব্যবসা শুরু করে দিন ধীরে ধীরে।

যদি মাসে ৫% ও আয় করতে পারেন তবে ৫০০০ টাকা+২০০০ টাকা= মোট ৭০০০ টাকা।

৫ বছরে অবশ্যই আপনার সেলারি ২০ হাজার টাকা হবে।

আপনি চাইলেই এখন ৫০০০ টাকা জমা রাখতে পারেন। ৫০০০ টাকা প্রফিট+ ৫০০০ টাকা সেলারি থেকে জমা = ১০ হাজার টাকা । বছরে আপনার জমা হবে ১২০০০০ টাকা।
 টোটাল মূলধন হবে ২৪০০০০ টাকা। আপনি যদি মাসে ৫% ও প্রফিট করতে পারেন তবে আপনি পাবেন টোটাল ১২০০০+৫০০০ টাকা = টোটাল ১৭০০০ টাকা।

তাহলে বছরে আপানার জমবে ২০৪০০০ টাকা। আর আপনার টোটাল মূলধন গিয়ে দাঁড়াবে ৪৪৪০০০ টাকা। তাহলে আপনার ব্যবসার মূলধন গিয়ে দাঁড়ালো  ৫ লাখ এর
কাচা কাছি ।

দেখুন এবার আপনি চাইলে পুরো দমে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন । সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে মাত্র তিন বছরের মাথায় আপনার ব্যবসা হয়ে দাঁড়াবে ৫ লাখ টাকার মূলধনে ।
আপনাকে এবার হারাতে কষ্ট হবে।
 

তাহলে কম টাকায় ব্যবসা শুরু করার চিন্তা মাথায় থেকে বাদ দিয়ে একটা চাকরি জোগাড় করুন আর উপরের থিউরিটা চিন্তা করুন।

দ্বিতীয় যে ভুলটা আমরা করি সেটা হলো

ব্যবসা শিখতে আমরা সময় দিতে চাইনা। 

একটা চাকরির জন্য আমরা ১৭ বছর ধরে মাস্টার্স পাস করি আর ব্যবসা করতে গেলেই চিন্তা করি কাল থেকেই আমি  বিল গেটস হয়ে জাবো। আমাদের হাতে তখন আর সময় থাকেনা। একটা ব্যবসা দাড়াতে ১৭ বছর লাগেনা ভাই। ১০ বছর যদি কেউ ব্যবসায় ঠিক মত লেগে থাকে
তাহলে ব্যবসায় সফলতা আসবেই। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা ব্যবসা শুরু করি ১৭  বছর পড়া শুনা শেষ করে। আসলে তখন আমাদের দরকার ১ নং সূত্র ফলো করা।
একটা চাকরি ম্যানেজ করে  সেখান থেকে ৫ বছর টাকা জমিয়ে ব্যবসাটাকে ভালো করে জেনে এর পর শুরু করা। তত দিনে ব্যবসা আর অভিজ্ঞতা দুইটাই আপনার ভালো অবস্থানে চলে যাবে।

অথবা পড়াশুনা শেষ করে আপনি এমন একটা চাকরি নিন যেখানে থেকে আপনার কাংখিত ব্যবসাটাও শিখা হবে। যেমন ধরুন আপনি চাচ্ছেন আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করবেন । এবার একটা আমদানি রপ্তানির প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতে পারেন। ৫ বছর যদি আপনি মাসে ৫০০০ করে জমাতে পারেন তবে ৩ লাখ টাকা আপানার ক্যাশ জমে যাবে।
এবার শুরু করে দিন ব্যবসা। আপনার জমানো টাকা দিয়ে স্যাম্পল আমদানি করে কাস্টমার ধরা শুরু করে দিতে পারবেন। অথবা অন ডিমান্ড পণ্য আমদানি করে দিতে পারবেন।

পড়া শুনা যেমন একটা শিক্ষা যেখানে ১৭ বছর শিক্ষা নেয়ার পর ২০-৩০ হাজার টাকা  সেলারি পান তেমনি একটা ব্যবসাও এক ধরনের শিক্ষা। ১৭ বছর দরকার নাই ।
৫ বছর ধরে শিক্ষা নিন। এর পর ৫ বছর ধরে ব্যবসা শুরু করলেই দেখবেন আপানার মাসিক সেলারি কমপক্ষে ২ লাখ টাকা। দেখুন ২৫ বছরে আপনি হয়তো চাকরিতে প্রবেশ করলেন ৩০ হাজার টাকা দিয়ে। ১০ বছর পর আপনি পাবেন ৭০-৮০ হাজার টাকা। ভালো কোম্পানি হলে। কিন্তু ১০ বছর ধরে একটা ব্যবসা শুরু করলে মাসে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন খুব সহজেই।

দেখুন আমরা ব্যবসাতে সময় দিতে চাইনা। কিন্তু এটাও যে একটা শিক্ষা এবং সেটা আমাদের শিখতে হবে এই কথাটা আমরা মানতেই চাইনা। সুতরাং ব্যবসা শিখতেও আমাদের সময় দিতে হবে।

আর ব্যবসা না শিখে ব্যবসা করার মানে হলো ব্যবসায় নিশ্চিত লোকসান। কারন পড়া শুনা না করে কেউ যদি চিন্তা করে সে বি সি এস পাস করবে তাহলে সেটা যেমন  অসম্ভব কিছু চিন্তা করা ছাড়া কিছুই না তেমন ব্যবসা না শিখে বিল গেটস হবার চিন্তা করাটাও অসম্ভব কিছু।

ব্যবসা মানেই অনলাইনে বিক্রি বা দোকান দেয়া ।

এটা হচ্ছে আমাদের আরেকটি ভুল। আমরা ব্যবসা মানেই মনে করি চক বাজার থেকে কিছু পাইকারি কিনে অনলাইনে বা অফলাইনে কিছু বিক্রি করা। এটা আমাদের একটা ভুল ধারনা।   এখনকার যুগের ব্যাবসা মানেই পণ্য কেনা বেচা নয়। আপনি চাইলেই একটা ডিজিটাল ব্যবসারা এজেন্সি খুলতে পারেন।  যেমন এখন ফেসবুক বুস্টিং, গুগোল  অ্যাড দেয়া, ইত্যাদি ব্যবসা খুব রমরমা ব্যবসা। কেন আপনাকে বাজার থেকে  পণ্য কিনেই ব্যবসা করতে হবে আপনি চাইলেই ডিজিটাল যুগে একটা ডিজিটাল ব্যবসাও শুরু করতে পারবেন। সুতরাং ব্যবসা মানে পণ্য না। দেখুন বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশী আয় করা ফেসবুকের কি কোন পণ্য আছে ? নাই। তারা ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করেই সবচেয়ে বড়োলোক । সুতরাং এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে চিন্তা করুন।

বিস্তারিত
স্টার্টআপ ব্যবসা ব্যর্থ হওয়ার ২১ টি কারন ।

আজকাল আমাদের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য যে সমস্যাটি বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে সেটা হলো নতুন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়া। অনেকেই শুরু করেন কিন্তু কিছু দিনের মাঝেই আমাদের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। আজকে আমি এরকম ২১ টি আক্রন খুঁজে বের করেছি জেসব কারনে নতুন উদ্যোগ গুলি ব্যর্থ হয়ে যায়। পোষ্ট টি মন দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।


১। স্টার্টআপ ব্যবসার ক্রেতা বা সেবা গ্রহণকারী চিনতে ব্যর্থ হওয়া।

স্টার্টআপ ব্যবসার শুরুতে আপনাকে জানতে হবে আপনার ব্যবসা আসলে কাদের জন্যে করবেন ? আপনার পণ্য বা সেবাটি কাদের জন্যে তা ভালোভাবে বের করতে হবে? আপনার স্টার্টআপ ব্যবসার ক্রেতা বা সেবা গ্রহণকারী আসলে কারা হবে ? এই বিষয়গুলোতে সঠিক ধারণা না থাকার কারনেই অধিকাংশ স্টার্টআপ ব্যবসা ব্যর্থ হয় । অগোছালো ভাবে ক্রেতা বা সেবা গ্রহণকারী খুঁজে বেড়ালে খরছ অনেক বেশী হবে।


২। প্রোডাক্ট সোসিং এর সঠিক ব্যবস্থা না থাকা।

হঠাৎ করে দেখলেন বাজারে এই ব্যবসা করলে খুব ভালো গ্রো করেছে । আপনিও চাইতেছেন এই ব্যবসা শুরু করতে। এবারের কাজ হলো প্রোডাক্ট সোসিং এর ব্যবস্থা করা ।

এবার চার দিকে আলাপ করলেন আর দেখলেন আপনার বন্ধুই এই পণ্য সাপ্লায় করে। আপনি ছিন্তা করলেন আপনাকে এই প্রোডাক্ট আপনার বন্ধুই তো সাপ্লাই দিতে পারবে ।

আবার আপনার আরেক আত্বীয় আপনাকে কম দামে আরেকটি প্রোডাক্ট দিবে । তাহলে অন্য প্রতিযোগীদের থেকেও আপনি কম দামে প্রোডাক্ট আপনার কাস্টমাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন এবং অনেক লাভ করতে পারবেন। ব্যাস আপনি বড় বযসায়ি হয়ে গেলেন আর দেখলেন লাভ আর লাভ।

যদি আপনার মাঝে এই সব চিন্তাগুলো থাকে । তাহলে থামেন ! এসব ছিন্তা করে যারাই ব্যবসা শুরু করেন তাদের  স্টার্টআপগুলোই হলো পৃথিবীর ব্যর্থ স্টার্টআপগুলোর অন্যতম ।

আপনি মানতে চান আর না চান । ব্যাতিক্রম থাকতে পারে কিন্তু অল্পকিছু সফলতার গল্প দিয়ে বাস্তবতা মেনে নেয়া ঠিক না ।

ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই প্রোডাক্ট সোসিং এর সঠিক ব্যবস্থা করে নিতে হবে।


৩। আপনার উদ্যোগটা কি নিজের আয়ত্বের মাঝেই আছে ?

যে কোন উদ্যোগ শুরু করার আগে আপনাকে ছিন্তা করতে হবে উদ্যোগটা কি নিজের আয়ত্বের মাঝেই আছে ? না হয় আপনার নিজের আয়ত্তের মাঝে যা নেই সেই বিষয় নিয়ে স্টার্টআপ শুরু করার কোন প্রয়োজন নেই । এতে আপনার পরিশ্রম এবং সময়ের খরচ। উদাহারন স্বরূপ বলা যায় আপনি চাইতেছেন একটা ইউটিউবের মত ভিডিও শেয়ার করার সাইট তৈরি করতে, কিন্তু এটার জন্য আপনার অনেক বড় হোস্টিং লাগবে অনেক প্রচারণা লাগবে আর অবশ্যই অনেক বড় বাজেটের দরকার হবে। আর নতুন করে ইউটিউবের সাথে পাল্লা দিতে হলে আপনাকে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হবে বৈ কি। সেহেতু আপনি চাইলেই এসব বড় উদ্যোগ নিতে পারবেন না।

নিলেও ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকবে।


৪।  সঠিক সময়ে সঠিক স্টার্টআপ শুরু করতে না পারা

সঠিক সময়ে আপনার স্টার্টআপটি শুরু করতে না পারাও  স্টার্টআপ ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ ।  এখন কি মার্কেটে কি ধরনের ট্রেন্ড চলতেছে সেটা যদি আপনি বুঝতে না পারেন তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান সামনে এগিয়ে যেতে পারবেনা । যেমন নকিয়ার কথাই ধরেন। ওরা একসময় মোবাইল মার্কেটের ৭০% দখল করে ছিল। কিন্তু একটা সময় গুগল অ্যানড্রয়েড বাজারে আনে। নকিয়া তাদের মোবাইলে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম অপারগতা জানায়। আর তাদের এক গুয়েমির উপর অটল থাকে।

ফলে নোকিয়া হয়ে পরে সবচেয়ে অচল প্রতিষ্ঠান। কয়েকবার হাত বদল হয়েও নিজেকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি নকিয়া।


৫। আপনার স্টার্টআপে ভিন্নতা নেই

একজন এইরকম স্টার্টআপ শুরু করেছে এবং আপনিও আরম্ভ করে দিলেন কোন কিছু না জেনে । তাহলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যাবে। মার্কেট রিসার্চ বলে একটা কথা সারা বিশ্বে প্রচলিত আছে। কেন সেটা জানেন ? কারণ স্টার্টআপ এর কত সম্ভাবনা তা যাচাই করা। আপনি যদি মার্কেট রিসার্চ না করে কোন কিছু শুরু করে দেন তাহলে সেটা নিয়ে আপনাকে সমস্যায় পরতে হবে। যেমন ধরেন পাঠাও বাংলাদেশে অনেক ভালো মার্কেট দখল করে আছে। অনেকেই পাঠাও এর মত রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালু করেছিলো কিন্তু তারা কেউ সফলতার মুখ দেখতে পারেনি। কারন তারা সবাই পাঠাও এর আইডিয়া কেবল কপি পেস্ট করতেছিলো ।


৬। স্টার্টআপে রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্টে সমস্যা

কেন রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্টের পিছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার জায়ান্ট কোম্পানি খরচ করে । সেটা ভেবে দেখেছেন ? ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রের কথা সবাই জানেন । এর পিছনে যত খরচ করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তার থেকে আরও বেশি কিভাবে আয় করলো ? শুধু কি গল্পটা ভালো ছিল ? না ! পুরো প্রি- প্রোডাকশন,

পোস্ট প্রোডাকশন এবং সামগ্রিক উপস্থাপন ভালো ছিল আর ভালো একটা টিম। আর তাই  বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। হলিউডের ‘ইনসেপশন’ চলচ্চিত্রের কথা মনে আছে ? ? এই চলচ্চিত্র কত বিখ্যাত হয়েছে । কিন্তু এর পিছনের গল্প জানেন ? আট বছর ধরে চলচ্চিত্রটির পরিচালক ‘ক্রিস্টেফার নোলান’ এর গল্প নিয়ে কাজ করেন এবং ২০১০ সালে এই চলচ্চিত্র মুক্তি পায় । সেইজন্যে আপনাকেও অনেক টাকা খরচ করতে হবে তা নয় । কিন্তু আপনাকে রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্ট নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে । কারণ রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্টের ওপর আপনার কোম্পানির ভালো অবস্থা নির্ভর করবে।


৭। ব্যবসায়িক পার্টনার নির্বাচনে সমস্যা

উপযুক্ত ব্যবসায়িক পার্টনার না পাওয়া বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোর ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ । আপনার পার্টনার যদি শুধু টাকা দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেন কিংবা আপনার ওপর সবকিছু নির্ভর করে তাহলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অবশ্যই এই বিষয় চিন্তার কারণ । আপনাকে এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দক্ষ পার্টনার খুঁজে বের করুন । আর তা না হলে নিজেই একা ব্যবসা করুন । আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বলেন "বন্ধুকে নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেনা। বন্ধুকে নিয়ে যে ব্যবসা শুরু করা হয় সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয় না " কেন হয়না সেটা তিনি বলেন নি ।


৮। ইন্টারনেট রিলেটেড কোম্পানিতে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দক্ষ লোক না রাখা

অনলাইন ব্যবসার ব্যাপারে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দক্ষ লোক কোম্পানিতে না রাখা স্টার্টআপগুলোর ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ। যেমন ধরুন আপনার একটি ই কমার্স ব্যবসা ।

সে জন্য আপনি কেবল একটি সাইট ডেভেলপ করলেই সব হয়ে যাবেনা । সাইটের ডাটা সিকুয়েরিটি , সাইটের নিরাপত্তা এবং সাইটের ক্রমাগত উন্নতি প্রতিনিয়ত খেয়াল রাখতে হবে। ইন্টারনেট রিলেটেড কোম্পানিতে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দক্ষ লোক না রাখার ফলে সাইট স্লো হয়ে যায়। সাইটে ভাইরাস অ্যাটাক করে সাইট নষ্ট যায়।

ফলে কোন স্টার্টআপ ভালো সম্ভাবনা তৈরি করার পরেও ব্যর্থ হচ্ছে ।


৯। সঠিক টিম তৈরি করতে পারেনা

বাংলাদেশের অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি গুলিই শুরুতে সঠিক টিম তৈরি করতে পারেনা। তাদের চিন্তা থাকে আস্তে আস্তে সব ঠিক করবো ।

নতুন স্টার্টআপে এইরকম একটা চিন্তা করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। যেমন আলিবাবার ১৭ জন উদ্যোক্তা আজকের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেয়।

একটা স্টার্টআপ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার পর কিছু ব্যবসায়িক সুযোগ হঠাৎ করে চলে আসে এবং আপনি সেই সুযোগগুলো নেয়ার পর সঠিক সার্ভিস আপনার কাস্টমারকে দিতে পারেন না । যেমন বাংলাদেশে ছোট ছোট অনেক কুরিয়ার কোম্পানি নতুন করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এদের সার্ভিস প্রথমে অনেক ভালো দেয়া শুরু করে। কিন্তু কিছুদিন পর যখন কাস্টমার বাড়তে শুরু করে তখন সেবাটা আর সেরকম দিতে পারেন না। ফলে কাস্টমার অসন্তোষ শুরু হয় আর দিনে দিনে তাদের ব্যবসাও লাটে উঠে ।


১০। কোম্পানি সব কিছুই আউটসোর্স করে

আপনার নিজের কোম্পানির কোন প্রোডাকশন নেই এবং সবকিছুই আউটসোর্স করে কেনা। আবার সেই প্রোডাক্ট ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা । এতে করে একই প্রোডাক্টের দাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দামে বিক্রি করছে । কারন উৎপাদন কারী থেকে নিয়ে সবাই ইচ্ছা মত দাম বাড়িয়ে দিয়ে মার্কেটে বিক্রি করে ।

এতে করে ক্রেতা অসন্তোষ বেড়েছে । আর আপনার কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এজন্য নিজেদের উৎপাদন ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে পণ্য সঠিক দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।


১১।  কোম্পানির পুরো টিমের মাঝে সমন্বয়ের অভাব

একটি স্টার্টআপ ব্যর্থ হবার আরেকটি কারন হলো কোম্পানির পুরো টিমের মাঝে সমন্বয়ের অভাব । কোনো ডিপার্টমেন্ট তৈরি না করা । অনেক সময় প্রোডাক্ট সম্পর্কে কোম্পানির সকল কর্মীদের ভালো ধারণা থাকে না । আবার স্টার্টআপ কোম্পানির কর্মীদের কাস্টমাদের সাথে বিহেভিয়ার বলে যে একটা বিষয় আছে সেই বিষয়ে ব্যাপক ঘাটতি থাকা। কর্মীরা কাস্টমার এনগেজমেন্টে সবসময়ে মনোযোগ দেয় না । পুরনো কাস্টমারদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ভালো উদ্যোগের অভাব।

এছাড়া কোম্পানির কলসেন্টারে ভালো কাস্টমার সাপোর্ট দিতে ব্যর্থ হওয়া । এসব কারনে একটা স্টার্টআপ ব্যর্থ হতে পারে।


১২। টার্গেট কাস্টমার তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়া

স্টার্টআপ ব্যবসা ব্যর্থ  হবার আরেকটি কারন হলো আপনি টার্গেট কাস্টমার তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন । আপনাকে আগে বুঝতে হবে আপনার পণ্যের আসল কাস্টমার আসলে কারা।  টার্গেট কাস্টমার তৈরির পিছনে সঠিক ক্যাম্পেইনের অভাব । কেবল চিন্তা করলেই হবেনা যে, আমাদের পণ্যের অনেক কাস্টমার মার্কেটে আছে ।

এর সাথে এই বিষয়টাও খেয়াল রাখতে হবে যে কাস্টমারের আসলে কি প্রোডাক্ট প্রয়োজন এবং সেই প্রোডাক্ট কেনার ব্যপারে কাস্টমারের ভিতর আগ্রহ তৈরি করার ভালো টিম তৈরি করে রাখতে হবে ।


১৩। সবধরণের প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটে বিক্রি শুরু করা

কিছু স্টার্টআপ ব্যবসা ব্যর্থ  হাবার আরেকটি কারন হলো সবধরণের প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটে বিক্রি শুরু করা কিংবা একই প্রোডাক্ট নিয়ে সব কোম্পানির কাজ করা ।

নিশ প্রোডাক্ট বা নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অনীহা । যেমন ধরুন আমাদের ই কমার্স কোম্পানি গুলি । অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান গুলি কিছু আমদানিকারক থেকে পণ্য নিয়ে বাজারে বিক্রি করা শুরু করে। ফলে একই প্রোডাক্টে দামের ক্ষেত্রে অনেক ভিন্নতা থাকে। আবার অনেকেই চিন্তা করেন আমাদের কিছু লাভ হওয়াই দরকার। ফলে সব ধরনের পণ্য নিয়েই তারা মার্কেটিং করতে থাকেন। এক্ষেত্রে কাস্টমার আসলে বুঝতে পারেনা এই প্রতিষ্ঠান কোন পণ্য বিক্রিতে বেশী অভিজ্ঞ। যেমন ধরুন আপনি কাপড় চোপড় নিয়ে একটা ই কমার্স ওয়েবসাইট খুললেন। ব্যবসা কিছুটা খারাফ যাচ্ছে সে কারনে আপনি সেখানে আবার হাউজ হোল্ডস পণ্য বিক্রি করা শুরু করলেন। ফলে কাস্টমার আপনার উপর আস্থা হারাতে শুরু করবে।


১৪। বড় বাজেটে ফান্ড সমস্য়া

অনেক স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর বড় বাজেটের ফান্ড থাকেনা । ফলে তারা যে স্টার্টআপ পরিকল্পনাটি নেয় সেখানে সমস্যায় পরলে তা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে তার স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা থাকেনা । এজন্য তাদের পরিকল্পনা গুলি অধিকাংশ  ব্যর্থ হতে শুরু করে। এজন্য এমন কোন ব্যবসা শুরু করা যাবেনা

যা আপনার সাধ্যের মধ্যে নেই।  ব্যবসার পরিকল্পনা আর বাজেটে অর্থের সমন্বয় সাধন করা খুবই দরকার।


১৫। কোম্পানির সঠিক কাঠামো ক্ষেত্রে সমস্য়া রয়েছে

অনেক স্টার্টআপ কোম্পানির কোন নির্দিষ্ট কাঠামো নেই। কে কোন পদে থেকে কোম্পানি পরিচালনা করবে, কার কি দায়িত্ব এসব নিয়ে সঠিক কোন ধারনাই কোম্পানির থাকেনা। ফলে সবাই একই বিষয়ে নাক গলাতে শুরু করে।  আর এতে করে কোম্পানির গতিশীলতা থাকেনা এবং একটা সময় কোম্পানিগুলো ভালো কিছু করতে পারছেনা ।


১৬। ফান্ড রাইজিং এর ব্যাপার

অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি ভবিষ্যতে কোম্পানির প্রয়োজনে ফান্ড রাইজিং এর বিষয়ে এনজেল ইনভেস্টরদের মাঝে তেমন আগ্রহ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

কোম্পানি আসলে কোথায় যাবে, কি পরিমাণ লাভ করবে, কি পরিমাণ ইনভেস্ট দরকার সেই ব্যাপারে সঠিক কোন ডাটা বা এনালাইসিস রিপোর্ট তারা দিতে পারেনা।

ফলে এনজেল ইনভেস্টররা ও ইনভেস্ট করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনা।


১৭।ইনোভেশন এর অভাব

স্টার্টআপ কোম্পানি গুলি  ব্যর্থ  হবার আরেকটি কারন হলো তাদের মধ্যে ইনোভেশন এর অভাব । সময়ের সাথে সাথে ক্রিয়েটিভ আইডিয়া এবং টিম তৈরি করা এবং সেই টিমকে পরিচর্যা করার যে একটা ব্যাপার আছে সেটা লক্ষ্য না করা । যেমন ব্যাংকিং খাতে এখন দিজিটালাইজেসন একটি কমন ব্যপার।


১৮। কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য কত টাকা প্রয়োজন তার কোন ধারণা নেই

কত টাকা নিয়ে আসলে কি রকম  স্টার্টআপ শুরু করা উচিত তার কোন ধারণা না থাকাও একটি স্টার্টআপ ব্যর্থ  হবার অন্যতম কারন হতে পারে। আপনাকে অবশ্যই ব্যবসা শুরু করার আগে জানতে হবে ব্যবসায় কি রকম ফান্ড দরকার। নাহলে ব্যবসা শুরু হবে কিন্তু ফান্ড না থাকার কারনে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।


১৯। সঠিক মার্কেটিং প্ল্যানিং নিয়ে কাজ না করা

সম্ভাব্য এবং বর্তমান কাস্টমারদের ডাটা নিয়ে কাজ না করা । মার্কেটিং প্ল্যানিং ঠিক না করে মার্কেটিং করা । কোন কোন প্ল্যাটফর্মে মার্কেটিং করবে তা সঠিক না জানা এবং ব্যবহার করতে না পারা। স্টোর খুলে কেবল ফেসবুকে মার্কেটিং করাটাই মার্কেটিং না। অফলাইনেও মার্কেটিং করার ব্যাপক পরিকল্পনা থাকতে হবে।


২০।  ব্র্যান্ড ভ্যালু  তৈরিতে গুরুত্ব না দেয়া

ব্র্যান্ড ভ্যালু  তৈরিতে গুরুত্ব না দেয়া । সঠিক ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের হাজির করতে না পারা এবং কত বছরের জন্যে আসলে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্র্যান্ডকে চায় সেই ব্যাপারে কোন স্পষ্ট ধারণা নেই। ব্যবসাতে ব্র্যান্ড খুবই গুরত্ত পূর্ণ । যেমন ধরুন ইয়োলো একটা কাপড়ের নাম করা ব্র্যান্ড। ফলে তারা যাই বিক্রি করবে এই নামে সবাই ধারনা করে নিবে যে  ইয়োলো ব্র্যান্ডের সবই খুব ভালো পণ্য । আসলেই  ইয়োলো ভালো মানের পণ্য বিক্রি করে থাকে।


২১।  ব্যবসা সম্প্রসারণের ব্যাপারে মনোযোগ কম থাকা

ব্যবসা সম্প্রসারণের ব্যাপারে মনোযোগ কম থাকাও স্টার্টআপ ব্যবসা বন্ধ হবার আরেকটি কারন। অনেকেই মনে করেন ব্যবসাতো চলতেছে আমার কি সমস্যা।

তারা তাদের ব্যবসা কে আরো বড় আকার করার ব্যপারে তেমন একটা মনজুগি নন। ফলে একসময় তারা অন্যদের ছেয়ে আকারে ক্ষুদ্র হতে হতে একসময় মার্কেট থেকে হারিয়ে যেতে থাকে।


আমার জানা মতে এই একুশটি কারনে একটা ব্যবসা ব্যর্থ হতে পারে। আপনার কাছে যদি আরো কিছু জানা তাহকে তবে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।



বিস্তারিত
সফল উদ্যোক্তাদের অভ্যাস

উদ্যোক্তা হিসেবে স্বাভাবিক ভাবেই আপনি সব সময়েই আপনার ব্যবসার উপার্জন বাড়াতে চাইবেন। কিছু উদ্যোক্তা একদম শুরু থেকেই খুব ভালো আয় করেন, কেউবা একটু সময় নিয়ে সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। কিছু উদ্যোক্তার আয়ের হার সময়ের সাথে বাড়তে থাকে, কারওবা একটা জায়গায় এসে থমকে যায় – বাড়েও না আবার কমেও না।

সময়ের সাথে সাথে যাঁদের আয় বাড়ে, তাঁরা আসলে কি করেন? কি এমন জাদু জানেন তাঁরা যে, অন্যরা যখন থেমে আছে বা পিছিয়ে যাচ্ছে – তাঁদের এ্যাকাউন্ট শুধুই ফুলে ফেঁপে উঠছে?

আলিবাবার জ্যাক মা অথবা আমাজন এর জেফ বেজোস এর মত বিশ্বসেরা সফল উদ্যোক্তাদের কথা কথা নাহয় বাদই দিলাম, আমাদের আশপাশে তাকালেও এমন উদ্যোক্তা দেখা যায়, যাঁরা দেখার মত কিছু না করেও ঠিকই ব্যবসায় ভালো লাভ করেন।

এটা আসলে খুব কঠিন বা আশ্চর্যজনক কিছু নয়। যেসব উদ্যোক্তা অন্যদের চেয়ে ব্যবসা থেকে বেশি আয় করেন, তাঁরা কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস চর্চা করেন। কেউ হয়তো জেনে করেন, কেউ হয়তো এগুলোর উপকারিতা না জেনেই চর্চা করেন। কিন্তু দুই দলই সমান ভাবে লাভবান হন।

আজ আপনাকে এমনই ৭টি অভ্যাসের কথা বলব – যেগুলো চর্চা করলে আপনার আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

০১. ইউনিক হোন

যেসব উদ্যোক্তা গতানুগতিক ব্যবসা করেন – তারা বেশিরভাগ সময়েই একটা জায়গায় এসে আটকে যান। তাঁদের আর্থিক অবস্থা এক রকম ভাবে চলতে থাকেন। তাঁরা হয়তো নিয়মিত আয় করেন – কিন্তু তাঁদের আয়ের হার বাড়ে না।

বিশ্বখ্যাত অনলাইন লেনদেন প্রতিষ্ঠান পে-পাল এর সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থেইল তাঁর বেস্ট সেলিং বই জিরো টু ওয়ান – এ লিখেছেন, কোনও ব্যবসাকে যদি সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফল হতে হয়, তবে অবশ্যই তার মধ্যে এমন কিছু থাকতে হবে – যা এর আগে কেউ করেনি।

আপনি যখন পুরোপুরি ইউনিক কোনও আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন, অথবা প্রচলিত কোনও ব্যবসায় ইউনিক কিছু নিয়ে আসবেন – তখন আপনার পন্য বা সেবা নেয়ার জন্য মানুষের আগ্রহ বেশি থাকবে।

ব্যাপারটা এমন নয় যে আপনাকে একদম নতুন আইডিয়া নিয়েই মাঠে নামতে হবে। প্রচলিত ব্যবসাতেও নতুন নতুন আইডিয়া যোগ করে তাকে মানুষের চোখে ইউনিক বানানো যায়। আমাজন ডট কম এর কথাই ধরুন, এটা আসলে একটা খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। খুচরা দোকানের আইডিয়াকেই অন লাইনে এনে জেফ বেজোস আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী।আপনার যদি একটি দোকান থাকে, আপনি দোকানের ডিজাইনে একটু পরিবর্তন এনেই কিন্তু অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করতে পারেন। ওয়ালমার্ট এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটন তাঁর পাশের দোকানের সাথে প্রতিযোগীতায় এগিয়ে থাকার জন্য তাঁর নিজের দোকানের সামনে একটি পপকর্ণ ও একটি আইসক্রিমের গাড়ি বসিয়ে দিয়েছিলেন। এই দু’টি গাড়ির বিক্রী থেকে যদিও তাঁর খুব একটা লাভ হত না – কিন্তু এগুলোর কারণে তাঁর দোকানের সামনে বেশি ক্রেতা আসতো। ফলে তাঁর দোকানের বিক্রী বেড়ে যাচ্ছিল।

নিজের ব্যবসার বিক্রী বাড়ানোর জন্য সব সময়েই এমন আইডিয়ার কথা ভাবতে থাকুন, যেগুলো সরাসরি আপনার পন্যের সাথে জড়িত না হলেও ক্রেতা আকৃষ্ট করে। অনেক রেস্টুরেন্টেই দেখবেন বাচ্চাদের খেলার জন্য আলাদা জায়গা করা থাকে। এটা রেস্টুরেন্টের সাথে সরাসরি জড়িত না হলেও – এর ফলে রেস্টুরেন্টে ক্রেতা আসার পরিমান বাড়ে, ফলে আয়ও বৃদ্ধি পায়।

আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের এমন কোনও সমস্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন, যার সঠিক সমাধান এখন পর্যন্ত কেউ করেনি। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসার আয়ের হার বাড়ানোর জন্য এটা খুবই ভালো একটি উপায়।সব সময়ে প্রতিযোগীদের দিকে নজর রাখুন। তারা কি করছে – তা দেখার পাশাপাশি, তারা কি করছে না – এটাও বোঝার চেষ্টা করুন। নিজেকে যত অনন্য ভাবে তুলে ধরতে পারবেন – ততই বেশি ক্রেতা আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে।

০২. ঝুঁকি নিতে ভয় পাবেন না

ব্যবসার আয়ের গতি কমে যাওয়ার একটা প্রধান কারণ হল অনেক উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে অতিরিক্ত ভয় পান। ব্যবসা একটা স্থিতিশীল জায়গায় এসে পড়ার পর তাঁরা আর নতুন করে কিছু চেষ্টা করতে চান না। কারণ তাঁরা ভয় পান ব্যবসার বর্তমান লাভজনক অবস্থা এতে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

কিন্তু ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে হলে আপনাকে নতুন নতুন জিনিস চেষ্টা করতেই হবে। ধরুন আপনার একটি রেস্টুরেন্ট আছে। রেস্টুরেন্টের অবস্থান অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ জন ক্রেতা এখানে আসবে। এই রেস্টুরেন্ট থেকে আপনার নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট হারে আয় হয়। এখন এই আয়ের হার বাড়াতে হলে আপনাকে অন্য এলাকাতেও এটার শাখা খুলতে হবে।

এখন আপনি যদি নতুন এলাকায় রেস্টুরেন্টের শাখা খুলতে চান, তবে আপনাকে বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হবে। সেইসাথে বর্তমান রেস্টুরেন্টে দেয়া সময়ের বেশ কিছুটা সেখানে বরাদ্দ করতে হবে। তাছাড়া নতুন কর্মচারী নিয়োগ, মার্কেটিং – ইত্যাদি বেশ কিছু কাজ করতে হবে। এবং এরপরও ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাবে না যে, নতুন রেস্টুরেন্টটা পুরোনোটার মতই চলবে।

কিন্তু যদি বর্তমান আয়ের হার বাড়াতে চান, তবে অবশ্যই আপনাকে নতুন একটি রেস্টুরেন্ট খুলতে হবে। এই ঝুঁকিটুকু না নিলে যে অবস্থায় আছেন, সেই অবস্থাতেই থাকতে হবে। একজন সত্যিকার সফল উদ্যোক্তা সব সময় নিজের ব্যবসার পসার বাড়াতে চান। আর এজন্য হিসেব করে ঝুঁকি নেন।

পে পাল এর আরেক প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কথাই ধরুন। পে পাল দিয়ে আর্থিক লেনদেনের চেহারা পাল্টে দেয়ার পর তিনি কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি।টেসলা, স্পেস এক্স – একে একে অনেক ব্যবসার দিকে হাত বাড়িয়েছেন তিনি। একারণেই বিশ্বের সেরা উদ্যোক্তাদের একজন হতে পেরেছেন মাস্ক।

আপনি যে ব্যবসাই করেন না কেন, সব সময়ে সুযোগ খুঁজুন ব্যবসার আওতাকে আরও বড় করার। এই কাজে ঝুঁকি থাকবেই। কিন্তু যদি নিয়মিত ব্যবসার আয়ের হার বাড়াতে চান, তবে এই ঝুঁকিটুকু নেয়ার মানসিকতা আপনার থাকতেই হবে।

বিশ্বখ্যাত লেখক জেমস স্টিফেন্স এর এই উক্তিটি সব সময়ে মনে রাখবেন, “নতুন কিছু করার আগ্রহ ভয়কে এমন ভাবে জয় করে, যেমনটা সাহস দিয়েও সম্ভব নয়”

০৩. টাইম ম্যানেজমেন্ট

সময়

মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হল সময়। জীবনের যে কোনও ক্ষেত্রেই সময়ের মূল্য যতটা, ততটা মূল্য কোনওকিছুরই নেই। ব্যবসার ক্ষেত্রে এই কথাটা আরও ভালো করে খাটে।

যে কোনও সফল উদ্যোক্তাই দারুন ভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করেন। তাঁরা জানেন যে তাঁদের ব্যবসা একমাত্র তখনই উন্নতি করবে, যখন তাঁরা সময়ের কাজ সময়ে করবেন। সময়মত ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করবেন।

আপনার সার্ভিস বা পন্য গ্রহণ করার জন্য যদি ক্রেতাদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়, তবে তাঁরা বিরক্ত হয়ে অন্যের কাছে যাবেন। ২ দিনে ডেলিভারি দেয়ার কথা বলে যদি ৫ দিন লাগান – সেটা কোনও ক্রেতাই ভালো চোখে দেখবেন না। এতে করে বাজারে আপনার সুনাম নষ্ট হবে। গ্রাহক বাড়ার বদলে দিনে দিনে কমতে থাকবে। অন্যদিকে যদি ব্যবসার সব কাজ সময়মত করেন, তবে তা বাজারে আপনার সুনাম সৃষ্টি করবে। নতুন নতুন গ্রাহক আপনার পন্য বা সেবা নিতে আগ্রহী হবে। কারণ, আপনার সুন্দর টাইম ম্যানেজমেন্টের কারণে পুরাতন ক্রেতারাই নতুন ক্রেতার কাছে আপনাকে রিকমেন্ড করবেন। আর ক্রেতা বাড়া মানেই আপনার আয় বাড়া।

০৪. কথা ও কাজে মিল রাখুন

ক্রেতাদের যা বলবেন, তাঁরা যেন সেটাই পায়। বিজ্ঞাপনে যা থাকবে, তারচেয়ে বেশি দিন। কোনওভাবেই কম দেবেন না। কথা ও কাজে এক না থাকলে আপনার ব্যবসার কোনওদিন উন্নতি হবে না। সততার মূল্য সবখানেই আছে। হয়তো সততার ফলাফল পেতে সময় লাগে, কিন্তু একবার পাওয়া শুরু হলে আপনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।

আপনার কথার সাথে যদি সার্ভিসের মিল না থাকে, তবে একজন ক্রেতা একবার এসে আর আসবে না। সেইসাথে মুখে মুখে আপনার দুর্নামও ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে ব্যবসার প্রসার তো হবেই না, বরং দিন দিন কমতে থাকবে। অনেক বড় বড় কোম্পানী শুধুমাত্র এই কারণে বাজারে টিঁকে থাকতে পারেনি।

অন্যদিকে কথার সাথে যদি সার্ভিসের মিল থাকে – তবে ক্রেতা তো ফিরে আসবেই, মানুষের মুখে মুখেই আপনার ব্যবসার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে – যার ফলে অনেক নতুন নতুন ক্রেতা যোগ হবে। ফলে ব্যবসার আয়ও দিন দিন বাড়তে থাকবে।

আপনার যা নেই – কখনওই তা থাকার কথা বলবেন না। ক্রেতার সাথে স‌ৎ থাকুন। আপনার ব্যবসার আয় কমার বদলে দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

০৫. সব সময়ে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন

আগেই বলেছি, ব্যবসার আয় বাড়াতে আপনাকে নতুন ধরনের আইডিয়া প্রয়োগ করতে হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে এমন কিছু আনতে হবে যা আগে কেউ আনেনি। এই আইডিয়াগুলো কোত্থেকে আসবে? – অবশ্যই নতুন জিনিস শেখার মধ্য দিয়ে। নতুন অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়ে। নতুন প্রযুক্তি ও ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে হবে।মানুষ কি চাচ্ছে – সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সেই অনুযায়ী নিজের পন্য ও সেবার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

কখনও কি ভেবেছেন গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট – এর মত কোম্পানীগুলো কেন কিছুদিন পরপরই আপডেট আনে?

এর কারণ তারা সব সময়ে ক্রেতাদের নতুন নতুন চাহিদা সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখে – এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের পন্য ও সার্ভিস আপডেট করে। এই ধরনের আপডেট যে কোনও ব্যবসাতেই আনা যায়। শুধু উদ্যোক্তাকে শেখার মানসিকতা রাখতে হবে।পৃথিবীর প্রায় সব বড় বড় সফল উদ্যোক্তাদের রুটিন এর একটি অংশ বরাদ্দ থাকে নতুন জিনিস শেখার জন্য।

ফেসবুক সারাবিশ্বে জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ, এটি বিশ্বের সব ধরনের মানুষের চাহিদা বোঝে। আর এই চাহিদা বোঝার গুরুত্ব অনুধাবন করার পেছনে রয়েছে মার্ক জুকারবার্গ এর একটি দারুন অভ্যাস। তিনি নিয়মিত পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি ও তাদের সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশুনা করেন। এর ফলে তিনি বুঝতে পারেন, কোন দেশের মানুষ কি পছন্দ করে, এবং তাদের আচার ব্যবহার কেমন। এভাবেই তিনি নির্দিষ্ট ধরনের মানুষের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের সার্ভিস দিতে পারেন। একারণেই ফেসবুক বাংলাদেশেও যেমন জনপ্রিয়, তেমনি নরওয়েতেও জনপ্রিয়। কিন্তু দু’টি দেশের মানুষের প্রায় কোনও জায়গাতেই মিল নেই।

মানুষের চাহিদা সম্পর্কে জানা, নতুন আইডিয়া চিন্তা করা ও কাজে লাগানো, ব্যবসায় নতুন নতুন কৌশল কাজে লাগানো – এগুলো একটি ব্যবসাকে একটি ধারাবাহিক উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসে। ফলে ব্যবসার প্রসার হওয়ার পাশাপাশি আয়ও বাড়তে থাকে।

০৬. ক্রেতাদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখুন

আপনি যে ব্যবসাই করেন না কেন, ক্রেতারাই তার প্রাণ। মানুষ যদি আপনার পন্য বা সেবা গ্রহণ না করে – তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য।

সফল উদ্যোক্তারা নিয়মিত ভাবে ক্রেতাদের জন্য সময় দেন। আমাজন সেরা অনলাইন শপ হতে পারার একটি বড় কারণ এর অসাধারণ কাস্টোমার সার্ভিস। শুধুমাত্র কাস্টোমার সার্ভিস ভালো না হওয়ার কারণে অনেক ব্যবসাই ভালো পন্য থাকার পরও সফল হতে পারেনি।

ক্রেতাদের চাহিদা ও অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়া, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা একটি ব্যবসার উন্নতির অন্যতম শর্ত। ৪ নম্বর পয়েন্টে বলেছি যে, কথা ও কাজে মিল রাখলে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, এবং তাদের মাধ্যমেই নতুন ক্রেতা আসে। এই ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কাছাকাছি। ক্রেতাদের সাথে যদি ভালো সম্পর্ক থাকে, তারা যদি আপনার সাথে যোগাযোগ করে সময়মত রেসপন্স পায়, আপনার কাস্টোমার সার্ভিস যদি উন্নত মানের হয় – তবে বর্তমান ক্রেতারা তো আপনার সাথে থাকবেই – তারাই আপনার জন্য আরও নতুন ক্রেতা নিয়ে আসবেন। ফলে আপনার আয়ও দিনে দিনে বাড়তে থাকবে।

০৭. সার্ভিসের মান বাড়াতে থাকুন

নতুন কোনও ব্যবসা একটু ভালো করতে শুরু করলে অনেক উদ্যোক্তা একটি চরম ভুল করে বসেন। যার ফলে ব্যবসা শেষ হয়ে যায়, অথবা একটা পর্যায়ে আসার পর আর উন্নতি হয় না।

এমন অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাঁরা প্রথম দিকে খুব ভালো সার্ভিস দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেন। কিন্তু কিছুদিন পরই দেখা যায় তাঁদের সেই সার্ভিস আর নেই। কারণ, ব্যবসা মোটামুটি ভালো একটা জায়গায় আসার পর তাঁরা ভাবেন এখন আর তাঁদের সার্ভিসের মান বাড়ানোর দরকার নেই, এমনিতেই কাস্টোমার আসবে। কিন্তু এটা চরম ভুল। যে সার্ভিসের জন্য প্রথমে কাস্টোমাররা এসেছিলেন – সেই সার্ভিস পরে না পেলে তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

অনেক সময়ে দেখা যায় প্রথম দিকে যখন দিনে ১০ জন কাস্টোমার আসতেন তাঁদের জন্য ২ জন লোক যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু কাস্টোমারের সংখ্যা ৫০ জন হয়ে গেলেও সেই ২জন দিয়েই চালানোর চেষ্টা করা হয়। এতে করে ক্রেতারা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের কাঙ্খিত সার্ভিস পাবেন না। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাকে অবশ্যই নতুন লোক নিয়োগ দিতে হবে এবং সার্ভিসের মান বাড়াতে হবে। না হলে তাঁর আয়ের অবনতি হবে, এবং বাজারে নাম খারাপ হবে।

এছাড়া সাধারণ ভাবেও একটি ব্যবসার প্রসার ও আয়কে ধারাবাহিক ভাবে বাড়াতে

বিস্তারিত
কিভাবে শুরু করবেন কাগজের ব্যবসা (A to Z) paper business

আজকের পর্বে কাগজ নিয়ে কিভাবে ব্যবসা করা যায় এবং কাগজের পাইকারি বাজার ও রিম কাগজের ধরন ও রিম কাগজের দাম ও রিম কাগজের পাইকারি দাম  নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।


কাগজ এমন এক পন্য যা কম বেশি সবাই ব্যবহার করে। কাগজের চাহিদা সব থেকে বেশী ছাত্র ছাত্রীদের এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। তাই বলা যায় কাগজের চাহিদা সব সময় বেশী। তবে পরীক্ষা উপলক্ষ্যে এর চাহিদা বেশী থাকে। তা ছাড়া আমরা কাগজের নানা রকম ব্যবহার করি  যেমনঃ (১)কাগজের ব্যাগ (২) কাগজের পেকেট (৩) কাগজের খাম (৪) কাগজের কাটুন (৫)  কাগজের ফুল (৬) কাগজের ফুল এবং কাগজের বিভিন্ন প্রকার শপিজ আরো ইত্যাদি। কাগজের ব্যবসায় সল্প সময়ে অধিক লাভ করা। এ ব্যবসায় পন্য বিক্রিতে তেমন বেশী ঝামেলা নেই। তো আপনি চাইলে শুরু করতে পারেন কাগজের ব্যবসা।


কিভাবে কাগজের ব্যবসা শুরু করবো??


আপনি কাগজের ব্যবসা শুরু করতে হলে পথমে আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনি কাগজের ব্যবসাটি কি পাইকারি হিসেবে চালু করবেন নাকি কাগজের ব্যবসাটিকে খুচরা বিক্রেতা  হিসেবে চালু করবেন।

(*) আপনি কাগজের ব্যবসাটি পেশার ভিন্নতার কারনে বিভিন্ন ভাবে শুরু করে পারেন যেমনঃ


(১)কাগজের ব্যবসাটি মুল ব্যবসা হিসাবে

(২) কাগজের ব্যবসাটি সাইড ব্যবসা হিসাবে

(৩) কাগজের ব্যবসাটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাপ্লায়ার হিসাবে

(৪) আনলাইনের মাধ্যমে  বিক্রি করে

আজকের পর্বে কাগজের ব্যবসাটি মুল ব্যবসা হিসাবে কিভাবে শুরু করবেন এ বিষয়ে আলোচনা করব। কারন এটি নিয়ে আলোচনা করলে সব সম্পর্কে আপনাদের ধারনা দেওয়া যাবে।


প্রধান ব্যবসা হিসেবে কাগজের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন??


এভাবে ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে শহর বা যেখান থেকে মানুষ পাইকারি পন্য কিনে সে সব স্থানে দোকান দিতে হবে। আর যদি মনে করেন খুচরা বিক্রি করবেন তাহলে আপনার আশেপাশে জনবহুল বাজারে দিলে চলবে। চেস্টা করবেন সব আইটেমের কাগজ স্টকে রাখতে।



কাগজের বিভিন্ন প্রকার সাইজ 


কাগজের ব্যবসা করতে হলে আমাদের কাগজের বিভিন্ন সাইজ সম্পর্কে জানতে হবে। কাগজের ব্যবসায় কাগজের সাইজ সম্পর্কে যানা আনেক গুরুত্ব রয়েছে।


কাগজের সাইজ কিভাবে নির্নয় করা হয়??


কাগজের আকার কাগজের মাত্রা নির্দেশ করে। কাগজ আকার ঘোষণা করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মান হল ISO 216 এবং ISO 269। তিনটি সিরিজ যেমন A, B এবং C আকার C হল ISO 269 দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয় যখন আকার A এবং B ISO 216 এর অধীনে আসে। ISO 216 এই পদ্ধতিতে ডিজাইন করা হয়েছে যে সমস্ত প্রকারের আকৃতি অনুপাত একই, তারা A, B বা C. উভয় দিকের অনুপাতটি 1 এর বর্গক্ষেত্রের মূল এক হতে পারে। এর মানে, যখন আপনি A0 কাগজের কাটা দুই মধ্যে যে আপনি A1 কাগজ পাবেন। যখন আপনি A1 কে অর্ধেক কাটাবেন, তখন আপনি A2 কাগজ পাবেন। এই কাগজ আকারের মধ্যে থেকে, যেমন A3, A4, এবং A5 হিসাবে আকার মানুষ দ্বারা প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।


জিএসএম কী?


 কাগজ ওজন জন্য, সবচেয়ে সাধারণত অনুসরণ মান ISO 536 দ্বারা সেট মান হয়। আইএসও 536 অনুসরণ দেশ যে কাগজ এবং বোর্ড বোঝায়, গ্র্যামমেজ সংজ্ঞায়িত, বা কাগজ প্রতি বর্গ মিটার ওজন। A0 এলাকায় 1 বর্গ মিটার আকারের আকার এবং তাই 80 জিএসএম থাকা কাগজগুলির যে কোনো শীট 80 গ্রাম হবে, অন্যটি A0 শীট 100 জিএসএম হবে 100 গ্রাম ওজন।


অফিসে, 70-80 জিএসএম হল বিশ্বের অনেক অংশে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন কাগজের মান ওজন, যদিও 100 জনের বেশি জিএসএম গুরুতর কাগজে যোগাযোগের জন্য কিছু লোক পছন্দ করে। কিছু অ্যাকাউন্টেন্ট 90gsm প্রায় 120gsm ঝাঁকনি খুব ভারী ওজন কাগজপত্র ব্যবহার। এই আনুষ্ঠানিক correspondences জন্য ব্যবহার করা হয়। সাধারনত, 160 জিএসএম থেকে যে কোনও কাগজে কার্ডের বেধ হিসাবে বিবেচিত হয়। ফাইল বিভাজকদের 180 এবং 200 এর মধ্যে একটি জিএসএম আছে। সংবাদপত্র যতটা সম্ভব হালকা হতে হবে, এবং এইভাবে, তাদের অধিকাংশের প্রায় 45 এবং 50 এর একটি জিএসএম রয়েছে।


আকার বা ওজন:


 কাগজের আকারে, আকার 0 থেকে 10 এর মধ্যে থাকে। অর্থাৎ, আমরা A0 থেকে A10, B0 থেকে B10, এবং C0 থেকে C10 পর্যন্ত আয়তাকার।


B0 হল সবচেয়ে বড় কাগজের আকার এবং এ 10টি ছোট কাগজের আকার।


উদাহরণ:


A0 1 বর্গ মিটারের কাগজের আকার মানে। নির্দিষ্ট হতে, এটি 841 মিমি × 1189 মিমি বা 33. 1 ইঞ্চি × 46. 8 ইঞ্চি।

এটি হলো বিশ্বব্যপি সাইজ তবে বাংলাদেশে জি,এস,এম পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। যেমনঃ ৪০জি,এস,এম । ৪২জি,এস,এম। ৫০জি,এস,এম। ৮০ জি,এস,এম।  পিন্ট এর কাজে ব্যবহৃত A4 65 জি,এস,এম / A4 80 জি,এস,এম / A3 জি,এস,এম  কাগজ বিশেষ ভাবে প্রচলিত এবং ব্যবহৃত।


কাগজের পাইকারি বাজার কোথায়??


যে কোন ব্যবসার পুর্বে তার পাইকারি বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হওবে। কাগজের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার হলো ঢাকার বাবু বাজার। এ চাড়া আপনার শহরে যারা পাইকারি কাগজ বিক্রি করে তাদের থেকে নিতে পারেন।


কত টাকা ইনভেস্ট করতে হবে??


মুটামুটি প্রথমিক আবস্থায় পাইকারি ব্যবসা দিতে চাইলে  সব মিলিয়ে ৫ লাখ টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। তবে কাগজের ব্যবসা ব্যবসটি বাড়াতে চাইলে কাগজ কাটিং মেশিন রাখতে পারেন। তবে ব্যবসার প্রসারতার সাথে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে হবে।


লাভ লোকসান??


কাগজের ব্যবসায় কোন লোকসান নেই। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা আসময়ে স্টক করা বা কাগজ পানিতে ভিজে গেলে  লোকসান হতে পারে।

আর লাভ হবে আপনি কি পরিমান কাগজ বিক্রি কিরলেন। আপনার ব্যবসার প্রচার যত বেশী করতে পরবেন তত বেশী বিক্রি হবে এবং তত বেশী লাভ হবে।


সর্তকতাঃ


বছরে কাগজের দাম উঠানামা করে সে সব বিষয়ে পুর্ন খেয়াল রাখবেন। বাকি কম দিতে চেস্টা করবেন। ব্যবসাকে ভালো বাসুন সফলতা একদিন আসবেই ।

বিস্তারিত
কিভাবে শুরু করবেন বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা (A to Z)

আজকের পর্বে বাংলাদেশের বহুল পরিচিত ও ব্যবহৃত ডিজিটাল প্রনিয়ান্সিল ব্যংকিং ব্যবস্থা বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। বিকাশ ব্যবসাটি একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা হলেও এর ব্যবসায়ীক গুরুত্ব অনেক। অনেকে বিকাশ ব্যবসা করতে চান কিন্তু বিকাশ এজেন্ট নিতে কি কি প্রয়োজন বিকাশ এজেন্টদের কমিশন বা লাভ কত এগুলো না যানার কারনে বিকাশ ব্যবসা করতে পারছেন না।  আজকের পর্বে এসব  ১- বিকাশ এজেন্ট কমিশন কত ২- বিকাশ এজেন্ট হতে কি লাগে ৩- বিকাশ ব্যবসায় লাভ কি ৪- কেন বিকাশ ব্যবসা করবো প্রশ্নের বিস্তারিত আলোচনা করব। তো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইল।

কেন বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করবো?

আপনার যদি একটি দোকান বা আপনার দোকানে কাস্টমার বাড়াতে চান বা আপনার দোকানের ব্যবসার সাথে সাথে সাইড ব্যবসা করতে চান তাহলে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা হতে পারে আপনার জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা। কারন বিকাশ একটি বহুল ব্যবহৃত ব্যংকিং ব্যবস্থা।


বিকাশ এজেন্ট হতে কি কি লাগে??

আপনি যদি আপনার দোকানে বিকাশ এজেন্ট নিতে আগ্রহী হন তাহলে আপনি দুই ভাবে এজেন্ট হতে পারবেন (১) বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করে। (২)বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিস থেকে।
( বিকাশ নিতে হলে আপনার একটি সিম কার্ড লাগবে যাতে কোন বিকাশ একাউন্ট নেই। তাই নতুন সিম নেওয়া ভালো)

* বিকাশ ওয়েব সাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিলে তারা আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করে দিবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিস যমা দিলে তারা যাছাই বাছাই করে আপনাকে এজেন্ট দেওয়ার উপযুক্ত হলে তারা এজেন্ট দিয়ে দিবে।

*বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দিয়ে আসুন তারা যাছাই বাছাই করে আপনাকে এজেন্ট দেওয়ার উপযুক্ত হলে তারা এজেন্ট দিয়ে দিবে।

* বিকাশ এজেন্ট নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র।
(১) দোকানের ট্রেড লাইসেন্স যার মেয়াদ রয়েছে।
(২) যার নামে ট্রেড লাইসেন্স তার তিন কপি ছবি।
(৩) তার ন্যাশনাল অইডি কার্ডের ফটকপি
(৪) আয়কর বা টিন সাটিফিকেট এর ফটোকপি।
(৫) দোকানের সিল।
(৬) একটি সিম।

উপরুক্ত কাগজ পত্র ঠিকঠাক মত দিলে এবং আপনাকে এজেন্ট সিম দেওয়ার উপযুক্ত মনে হলে তারা আপনাকে ট্রেনিং এর ডাকবেন ট্রেনিং এর তারিখ থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনার বিকাশ এজেন্ট সিমটি লেনদেন এর জন্য চালু করে দিবে।


বিকাশ এজেন্ট কমিশন বা লাভ কত??

প্রতি ক্যাশ ইন বা ক্যাশ আউট এ প্রতি হাজারে ৪টাকা১০ পয়সা। অথাৎ কাস্টমারকে টাকা পাঠালে প্রতি হাজারে ৪.১০ টাকা এবং কাস্টমার ক্যাশ আউট বা আপনার কাছ থেকে টাকা উঠালে প্রতি হাজারে ৪.১০ টাকা পাবেন। প্রতি লাখে ৪১০ টাকা পাবেন।  টাকা সাথে সাথে আপনার এজেন্ট একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে। কাস্টমার এর এ সকল টাকা আপনি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিস এর কর্মকর্তা ডিএসও এর কাছ থেকে তুলতে হবে। এতে কোন প্রকার চার্জ নেই। এ ছাড়া যাদের কাস্টমার একাউন্ট খুলে দিলে একটা এমাউন্ট আপনার একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে।

বিকাশ এজেন্টে ব্যবসা করতে কত টাকা ইনভেস্ট করতে হবে??


বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায় ইনবেস্ট আপনার নিজের সমার্থ এর উপর নির্বর করবে। তবে নুন্যতম ৫ হাজার টাকা সবসময় এজেন্ট একাউন্টে রাখতে হবে। যত বেশী ইনবেস্ট করবেন তত বেশি কাস্টমার এর চাহিদা পুরন করতে পারবেন এবং তত বেশি কমিশন বা লাভ হবে।

বিকাশ এজেন্ট বা বিকাশ ব্যবসায় বিশেষ সতর্কবার্তাঃ


বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট হেক করতে সাধারনত হেকাররা বেশী চেস্টা করে। তারা বিভিন্ন অফার ও লোভ বা বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে এজেন্ট একাউন্টের পিন নাম্বার শেয়ার করতে বলে। এরুপ কখনো করবেন না করলে তারা আপনার সমস্ত টাকা কখন  নিয়ে যাবে আপনি টের পাবে না। যদি তাদের কথা আপনার কাছে সত্য মনে হয় তাহলে বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭ এ কল করে যাচাই করে নিবেন তারা আপনাকে সঠিকভাবে  সাহায্য করবে।

( সর্বশেষ কথা হলো বিকাশ কর্তৃক অইন মেনে চলুন। মানি লন্ডারিং আইন মেনে চলুন কোন লেনদেন সন্দেহ বা আবৈধ মনে হলে ডিএসওকে যানান না হলে আপনার বিরুদ্ধে আইগত ব্যবস্থায় নেওয়া হবে)

বিস্তারিত
কলম তৈরির ব্যবসা করে প্রতি মাসে আয় করুন দেড় লাখ টাকা pen making business

মানুষ যখন থেকেই লেখা পড়া শুরু করে ঠিক তখন থেকেই কলমের দরকার হয়ে পড়ে । ডিজিটাল এই যুগেও কলমের চাহিদা অস্বীকার করা যাবেনা ।
কলম অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, ইত্যাদি সব যায়গাতে লাগে।  কলম এর এই চাহিদা বিবেছনা করে  কলম তৈরির ব্যবসা খুব চাহিদা সম্পন্ন একটি ব্যবসা।
বাংলাদেশে অনেকে কলম তৈরির ব্যবসা করে অনেক ভালো মানের আয় করতেছেন। আপনারা যারা অল্প মূলধন নিয়ে কলম তৈরির ব্যবসা শুরু করতে চান
তাদের জন্যই আজকের এই পোষ্ট ।


কলম তৈরি করার মেশিনঃ
কলম তৈরির ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে প্রথমে কলম তৈরির মেশিন ক্রয় করতে হবে । যেহেতু আপনি কলম তৈরির ব্যবসাটা আপনার নিয়মিত আয়ের উৎস
হিসাবে নিতে ছাচ্চেন, সেহেতু আপনাকে কলম তৈরির জন্য একটা ভালো মানের মেশিন ক্রয় করতে হবে।
কলম তৈরি করার জন্য বাজারে প্রচুর মেশিন পাবেন। কিন্তু দাম অনেক বেশি । কলম তৈরির ব্যবসা করার জন্য আপনি পাবেন টিন ধরনের মেশিন।

১৮০০০ টাকায় ডালাই বডি (গেরান্টি নাই)
৩৫০০০ টাকায় MS লোহার বডি ( ১ বছর এর গেরান্টি)
৪৫০০০ টাকায় ডায়মন লোহার বডি ( ৩ বছর এর গেরান্টি)

মেশিন মুলত একি। সুধুমাত্র তৈরির করার লোহা আলাদা। তবে নতুন করে কলম তৈরির ব্যবসা করার জন্য আপনাকে ভালো মানের মেশিনটি ক্রয় করার পরামর্শ রইলো।

কলম এর কাচামাল ও বাজার মূল্যঃ

কলম তৈরির ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রথমে কলম তৈরির জন্য কিছু কাচামাল কিনতে হবে । যারা আপনাকে মেশিন সরবরাহ করবে তারাই আপনাকে বলে দিবে
কাচামাল কোথায় পাবেন । কলম তৈরির ব্যবসা করার জন্য কি কি কাচামাল লাগবে নিচে তার একটা লিস্ট দেয়া হলো ।

কাচামাল এর দাম
১/  বডি…………… ১৪৪ পিছ…………. ১২৫ টাকা ( মিডিয়াম কোয়ালিটি বডি)
২/ এডেপ্টার………১৪৪পিছ……………৬ টাকা
৩/ কেপ……………১৪৪পিছ্‌……………২৫ টাকা
৪/ পয়েন্ট……………১৪৪ পিছ………….৩৫ টাকা
৫/ ১০ পিছ এর পেকেট………………….৩.২০ টাকা প্রিন্ট সহ
৬/ কালি…………….১ লিটার………….৬৩০/৭০০ টাকা

আপনারা যখন বেশি পরিমানে কিনবেন তখন দাম আরো অনেক কম হবে। এই সকল কাচামাল আপনারা ঢাকা চক বাজার এ পাবেন ।

প্রতি পিছ কলম এর খরচ
কলম তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে প্রত্যেকটা কলমের উৎপাদন খরছ হিসাব করতে হবে। তবে কাচামাল যত বেশি কিনবেন আপনার খরচ তত কম পরবে।
নিচে একটা কলম উৎপাদনের খুচরা হিসেব দেয়া হয়েছে ।
১। বডি ০.৮৩
২। এডেপ্টার ০.০৪
৩। পেকেট ০.০২
৪। কেপ বা মোক্ষা ০.১৭
৫। পয়েন্ট ০.২৪ টাকা
৬। কালি যদি ৭০০ টাকা লিটার হয় ত প্রতি গ্রাম ০.৭ টাকা প্রতি কলমে ১ গ্রাম এর একটু বেশি লাগে অর্থাৎ ০.৭ টাকা
১ টি কলমে মোট খরচ
প্রতি কলমে খরচ হয় (০.৮৩ + ০.০৪ +  ০.০২ + ০.১৭ + ০.২৪  +  কালি ০.৭) =   ২টাকা

লাভ কত?
প্রতি কলম এর উৎপাদন করতে কাচামাল লাগবে ২ টাকার। প্রতি কলম পাইকারি বিক্রি করতে পারবেন ৩.৫০ টাকা থেকে ৪ টাকা পর্জন্ত।
সুতরাং প্রতি কলমে ১ থেকে ১.৫ টাকা লাভ হয়। যদি আপনি ৩.৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন তবে  ১০০ টি কলম বিক্রি করলে লাভ হবে  ১৫০ টাকা।

এখানে উৎপাদন খরচ ১০০ কলম তৈরি করতে ৩০ টাকা। তাহলে আপনার থাকবে ১৫০ – ৩০ = ১২০ টাকা। এখানে গাড়ি ভাড়া ধরুন ২০ টাকা।
তাহলে আপনার থাকবে ১০০ টাক।

সুতরাং প্রতি পিস কলম থেকে ১ টাকা লাভ করতে পারবেন

এখন আসি আপনার লাভ কত।

প্রতিদিন ৫০০০ পিছ কলম বিক্রি করলে
আপনার ইনকাম ৫০০০ x  ১ = ৫০০০ টাকা
এক জন শ্রমিক এর ইনকাম ৫০০০ x ০.১ = ৫০০ টাকা

মাসিক ইনকাম

আপনার ইনকাম ৫০০০ x ৩০ = ১৫০০০০ টাকা
এক জন লেভার এর ইনকাম ৫০০ x ৩০ = ১৫০০০ টাকা

শুনতে অনেকটা অবাস্তব হলেও এটা কলম তৈরির ব্যবসা করে অনেকেই আয় করতেছেন , এখানে সব বিশ্লেষণ করে দেখনো হয়েছে।
কিন্তু শর্ত একটাই, উপরের নিয়ম অনুযাজি কাজ করতে হবে ।

বিস্তারিত
পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

প্রায় ছয় মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত সরকার। গত বুধবার দেশটির খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান এক টুইট বার্তায় এ ঘোষণা দেন। টুইটে তিনি বলেন, যেহেতু পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং এ বছর প্রচুর উৎপাদন হয়েছে, তাই সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের সংবাদে বলা হয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঐ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাজীব গৌবা উপস্থিত ছিলেন।

বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারির পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ নিয়েও মন্ত্রীদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামী মার্চ মাসের প্রত্যাশিত উৎপাদন আশা করা হচ্ছে ৪০ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮ দশমিক ৪ লাখ মেট্রিক টন। আর আগামী এপ্রিলে দেশটিতে ৮৬ লাখ টন পেঁয়াজের উৎপাদন হবে বলে ধরা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬১ লাখ টন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় পেঁয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। সে সময় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে দেশটি। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বাংলাদেশে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। প্রতি বছর ভারত থেকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করে থাকে। ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে দফায় দফায় পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। দাম ওঠে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বাজার সামলাতে চীন, মিশর, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। অভ্যন্তরীণ সংকট দেখিয়ে গেল বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত সরকার। 


তথ্য সূত্রঃইত্তেফাক/আরকেজি



বিস্তারিত
alibaba & Import Export expert

আমদানি,রপ্তানি,আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন।

এখানে ক্লিক করুন
© 2020 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft