অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া


Posted on: 2021-08-11 00:58:31 | Posted by: Shafiullah
অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

অনলাইনে কি কি ব্যবসা করা যায়? কিভাবে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করব? অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি দরকার হবে? অনেকেই এই প্রশ্নগুলো করে থাকেন। আবার অনেকেই অনলাইনে ব্যবসার জন্য ভাল আইডিয়া খুজে থাকেন।

আজ আমরা অনলাইনে করার জন্য বেশ কয়েকটি ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করব। এর মধ্যে কয়েকটি বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। আর কয়েকটি অতটা জনপ্রিয় না হলেও বেশ সম্ভাবনাময়। পুরো আর্টিকেলটি মনযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল। নিচে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়াগুলো তুলে ধরলাম।

 

১.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। অন্য কোনো কোম্পানির পন্য আপনি নিজে মার্কেটিং করে বিক্রি করাবেন। এবং ঐ পন্য বিক্রি করে যে লাভ হবে সেই লাভের একটি অংশ কোম্পানি আপনাকে দিবে। এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এবার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর নিয়ম কানুন গুলো বলি।

এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পন্য অনলাইনে বিক্রি করে। অনলাইনে কাস্টমার পাওয়াটা বেশ কঠিন একটা বিষয়। যারা অনলাইনে পন্য বিক্রি করে তারা কাস্টমার পাওয়ার জন্য একটা পদ্ধতি অবলম্বন করে। সেটা হল অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়োগ দেওয়া। অ্যাফিলিয়েট পার্টনারদেরকে একটি লিংক দেওয়া হয়। এটাকে রেফারেল লিংক বলে। তারা ঐ পন্যের প্রচার করবে। কাস্টমারদেরকে এই লিংক দিয়ে পন্য কিনতে বলবে। যখন কাস্টমার ঐ লিঙ্ক থেকে পন্য কিনবে তখন কোম্পানি অ্যাফিলিয়েট পার্টনারকে লভ্যাংশ প্রদান করবে।

এখন কথা হল কোথায় আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ পাবেন।

অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রায় সময় অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়োগ দেয়। বিশেষ করে অনলাইন শপগুলো এ ধরনের নিয়োগ দিয়ে থাকে। উন্নত রাষ্ট্রে আমাজনেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ আছে। আশা করা যায় বাংলাদেশেও আমাজন ব্যবসা শুরু করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

তাছাড়া বিভিন্ন অনলাইন শপগুলোর ফেসবুক বা লিঙ্কড ইন ফলো করবেন। এতে আপনি সহজেই এ ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে যাবেন।

 

২. ইউটিউব চ্যানেল

আপনি যদি সৃজনশীল হন তাহলে আপনার জন্য দারুন একটি আইডিয়া হল ইউটিউব চ্যানেল খোলা। এটি অনলাইন ব্যবসার জন্য ভাল একটি আইডিয়া। অনলাইনে ভিডিও দেখার পরিমানটা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষ এখন তাদের যেকোনো সমস্যা নিয়ে ইউটিউবে সার্চ করে। ক্লাস করতে ব্যবহার করে ইউটিউব। এমনকি ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম জানতেও ইউটিউবে সার্চ করে। কেউ প্রয়োজনে কেউ অপ্রয়োজনে প্রায় প্রতিদিন ইউটিউব ব্যবহার করে থাকেন। কেউ ইউটিউবে ক্লাস করেন বা কোনো টিউটোরিয়াল দেখেন, কেউ ওয়াজ দেখেন, কেউ খবর দেখেন, কেউ নাটক সিনেমা দেখেন, কেউ কার্টুন আবার কেউ খেলা দেখেন। ইউটিউব কন্টেন্ট এর যেনো শেষ নেই। আপনি যেই বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়ের উপরে ইউটিউব চ্যানেল খুলুন। ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেটা মনিটাইজ করে আয় করা শুরু করে দিতে পারেন। ইউটিউব চ্যানেল খোলা নিয়ে আমাদের এই ওয়েবসাইটে বিস্তারিত লেখা আছে। পড়ার অনুরোধ রইল।

 

৩. ব্লগিং

অনলাইনে আয়ের জন্য ভাল একটি উপায় হল ব্লগিং। বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য দারুন একটি আইডিয়া ব্লগিং। ইউটিউব চ্যানেলের মত আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়ে ব্লগিং করবেন। বিশ্বের জনপ্রিয় অনলাইন ব্যবসাগুলোর মধ্যে ব্লগিং একটি। ব্লগিং করার জন্য বিষয় নির্বাচন গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয়। ভাল বিষয় নির্বাচন না করার কারনে অনেকেই ব্লগিং শুরু করার এক বছরের মধ্যেই ব্লগিং ছেড়ে দেন। বর্তমানে ব্লগিং এর জন্য জনপ্রিয় বিষয়গুলো হল স্বাস্থ, শিক্ষা, টেকনোলোজি, ব্যবসা, ট্যুর গাইড, গল্প ইত্যাদি। বিষয় নির্বাচন করে আপনার ওয়েবসাইটের নাম নির্ধারন করবেন। এই নাম হতে হবে ইউনিক। নাম বাছাই করবেন ভাবনা চিন্তা করে। বিষয়ের সাথে নামের মিল রাখবেন। নামে কোনো সংখ্যা ব্যবহার করবেন না। এমন একটি নাম নির্বাচন করবেন যেটা শুনতে সহজ সরল কিন্তু অর্থবোধক।

ব্লগিং নিয়ে আমাদের এই ওয়েবসাইটে বিস্তারিত দেওয়া আছে। চাইলে পড়ে আসতে পারেন। 

এই অনলাইন ব্যবসাটি করতে খুব কম টাকা পুজি লাগবে। ১৫০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। এবং মাসে ৫০০০ টাকা থেকে ৩০০০০ হাজার টাকা অনায়াসেই আয় করতে পারবেন। এই ব্যবসা থেকে আরও বেশি টাকা আয় করা যায় তবে সেটার জন্য আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

 

৪.অনলাইন কোর্স তৈরি

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অনেক আগে থেকে অনলাইন কোর্সের ব্যবসাটি জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জনপ্রিয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনলাইন কোর্স ব্যবসাটি করে যাচ্ছে। যেমন টেন মিনিট স্কুল। তারা বিভিন্ন বিষয়ের উপর কোর্স তৈরি করে বিক্রি করছে।

বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন কোর্স তৈরি করে ব্যবসা করা যায়। বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষা কোর্স, গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্স, ব্যবসা প্রশিক্ষন বা কোনো পরিক্ষার প্রস্তুতির কোর্স হল জনপ্রিয়। আপনি এসব বিষয়ের উপর কোর্স তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন।

তবে এর জন্য আপনাকে ইউটিউবে এবং ফেসবুকে ঐ বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত আপলোড দিতে হবে। এতে আপনার মার্কেটিং হবে। আবার ঐ ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেইজ যদি মনিটাইজ করা থাকে সেখানকার ভিউ থেকেও আয় করতে পারবেন।

এসব অনলাইন কোর্সের কাস্টমার পেতে আপনি ফেসবুক ইউটিউব সহ অন্যান্য সোশ্যাল সাইটে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন।

 

৫. অনলাইনে পন্য বিক্রি

মানুষ ধীরে ধীরে অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছে। কেনাকাটার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রচলনটা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। অনলাইনে ব্যবসা শুরু করে এখন সফল ব্যবসায়ী এই রকম মানুষের সংখ্যাটা কম নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য থেকে শুরু করে বারান্দার জন্য গাছ সবকিছুর ব্যবসা এখন অনলাইনে জমজমাট। আপনি কেন বসে থাকবেন। আপনার বা কাছের পরিচিত কারও যদি অফলাইনে ব্যবসা থাকে তাহলে খুব সহজেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। অফলাইন ব্যবসা যদি নিজের না হয় তাহলে যার অফলাইন ব্যবসা তার সাথে চুক্তি করে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আর যদি আপনার অফলাইন ব্যবসা না থাকে তাহলেও অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবেন তবে সেটা একটু চ্যালেঞ্জিং হবে।

যদি আপনার অফলাইনে ব্যবসা থাকে তাহলে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে কোনো পুজি লাগবে না। কিন্তু শুধু অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে কিছু টাকা পুজি লাগবে।

 

৬. ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিংকে অনলাইন ব্যবসা বলা যাবে না। কারন ফ্রিল্যান্সিং কোনো ব্যবসা নয়। যারা ফ্রিল্যান্সিং করে তাদেরকে ফ্রিল্যান্সার বলে। সাধারনত আমারা যেমন দিনমজুর দেখি তারা সারাদিন কাজ করে এবং এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা পায়। আবার অনেকে চুক্তিভিত্তিক কাজ করে। ফ্রিল্যান্সাররা এমনই। নির্দিষ্ট কাজের বদলে টাকা পায়। ফ্রিল্যান্সাররা কাজ হিসেবে কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপিং, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি করে থাকে। দিনমজুররা যেমন যেদিন ইচ্ছে সেদিন কাজ করতে পারে ফ্রিল্যান্সাররা ঠিক এমনই। আপনি চাইলে কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

 

 অনলাইনে ব্যবসা করব কেন?

বর্তমান পৃথিবীতে শুধু ব্যবসা নয় ছাত্রদের ক্লাস, পরিক্ষা থেকে শুরু করে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট সবই অনলাইন নির্ভর। আপনার নিজের কথাই ধরুন। অনলাইনে কোন ব্যবসা কিভাবে করা যায় সেটা জানার জন্য এই আর্টিকেলটি পড়ছেন। আসলে দুনিয়াটা এখন ইন্টারনেট নির্ভর।

যেকোনো পন্য বা সেবা নেওয়ার জন্য মানুষ এখন অন্য কোনো মানুষকে জিজ্ঞাসা করার আগে গুগলকে জিজ্ঞাসা করে। কোনো পন্যের দাম জানার জন্য মার্কেটে যায় না। কেউ অনলাইনে দাম যাচাই করে মার্কেটে গিয়ে কিনে আবার কেউ অনলাইনেই অর্ডার করে। ধীরে ধীরে অনলাইনে কেনা কাটা করার অভ্যাস তৈরি হবে। অনলাইন ব্যবসার দিক দিয়ে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্ব থেকে একটু পিছিয়ে আছে। উন্নত বিশ্ব যেখানে কাষ্টমারদের প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেওয়ার জন্য রোবট ড্রোন ব্যবহার করছে সেখানে বাংলাদেশের অনলাইন মার্কেটগুলো মানুষের আস্থাটাও এখনও অর্জন করতে পারেনি। তবে আস্থা অর্জনের বিষয়টি ঠিক করতে বেশিদিন সময় লাগবে না। এখন বিশ্বের বড় বড় অনলাইন জায়ান্টরা বাংলাদেশের মার্কেটে প্রবেশ করছে। তাই বাংলাদেশে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করাটাকে খুব সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছি।

মনে করুন আপনার একটি পোষাক বিক্রির দোকান আছে। আপনি যদি ফেসবুকে একটি পেজ খুলে সেখানে নিয়মিত আপনার প্রোডাক্ট এর আপডেট শেয়ার করেন তাহলে আপনি অতিরিক্ত অনেক কাস্টমার পাবেন। আবার আপনার কাস্টমারদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবেন? কাস্টমারদের চাহিদা জানতে পারবেন। এতে আপনার ব্যবসা আরও বড় হবে। তাই অনলাইনে ব্যবসা করা উচিত।

 

আজকের আলোচনা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ।

 


জনপ্রিয় পণ্য

সাম্প্রতিক পণ্য

Leave a Comment:

Comment as:

alibaba & Import Export expert

সি এন্ড এফ, আমদানি, আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft