কিভাবে বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসা শুরু করবেন

কিভাবে বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসা শুরু করবেন


Posted on: 2022-05-28 23:14:55 | Posted by: eibbuy.com

কাঠের আসবাবপত্রের বদলে বাঁশের তৈরী আসবাবপত্র বিকল্প হিসাবে এখন  মানুষ ব্যবহার করতে শুরু করছে। বাঁশ দিয়ে বানানো আসবাবপত্রের দাম কম এবং ভাল ভাবে মানের এবং বেশ মানান সই।  কাঠ দিয়ে বানানো খাটের দাম যদি ২০ হাজার টাকা হয় সেখানে বাঁশ দিয়ে বানানো খাটের দাম হবে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কাঠের খাটটি বিক্রি করে যদি শতকরা ২৫ ভাগ লাভ হয় সেখানে বাঁশের খাটটি বিক্রি করে শতকরা ৩০ ভাগ লাভ করা যেতে পারে। নিজেকে একজন স্বাবলম্বী ও মাঝারী মানের আসবাবপত্র উৎপাদন  উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরী ব্যবসাটি হতে পারে আপনার জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা।  বর্তমানে আমাদের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র,  যেমন: খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, সাধারন টেবিল, চেয়ার, মোড়া, দোলনা ইত্যাদি  বাঁশ ও বেত দিয়েও বানানো হয় । যেগুলো দেখতে খুব সুন্দর এবং টেকসই।দেশীয় ডিজাইন ছাড়াও বিদেশি ডিজাইনের বাশেঁর তৈরী আসবাবপত্র বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন। তাই বলা যায় বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা। আজকের পর্বে আমরা অলোচনা করব  , কিভাবে বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসায় করবেন ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত অলোচনা করব। বিস্তারিত জানতে পুরো পোস্ট পড়ুন।

কিভাবে বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসায় শুরু করবেনঃ

প্রথমে চাই একটি সঠিক বিজনেস প্ল্যান।এটি সকল ক্ষেত্রে একই অবস্থা। আপনি সঠিক প্ল্যান থাকতে হবে। তা না হলে যে কোন লাভজনক ব্যবসায় আপনি লোকসানে সমুক্ষীন হবেন। বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসায় শুরু করার প্রথম  বাঁশ কোথা থেকে কিনবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিবেন, কারণ এ ব্যবসায় আপনার প্রচুর পরিমাণ বাঁশ এর প্রয়োজন হবে। এর আমাদের জানতে হবে  দাম কি রকম, বছরে সব সময় দাম একই রকম থাকে কিনা, কি জাঁতের বাঁশ আসবাবপত্র তৈরীর জন্য ভাল তা জানতে , এবং পরিবহন খরচ কত হবে। এবং কি পরিমাণ বাঁশ আনলে কি পরিমাণ পরিবহন খরচ তা বিস্তারিত জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি আপনার কাছাকাছি লোকেশন থেকে বাঁশ সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন এতে করে পরিবহন খরচ কম হবে। এবং আপনি ব্যবসা লাভবান হতে পারবেন। বাঁশের তৈরী আসবাবপত্র তৈরী করতে প্রথমে মেশিনের মাধ্যমে আপনি যে আসবাব পত্র তৈরী করতে চান সে সাইজ অনুযায়ী  বাঁশ কাটতে হবে। এর পর কাস্টমার এর চাহিদা অনুযায়ী এবং আপনারা এলাকায় চাহিদা  অনুযায়ী বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করে দিতে পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করা হয় খাট, সোফা, সাধারন টেবিল, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি তৈরী করা হয়। বিভিন্ন ডিজাইনের নকশা দিয়ে আসবাবপত্র তৈরী করা হয়। পণ্যটিকে সুন্দর দেখাতে বিভিন্ন রং ব্যবহার করা যায়। এই ভাবে বাঁশের আসবাবপত্র তৈরী করা যায়। আপনি চেষ্টা করুন যেন আপনার উৎপাদিত পন্যটি খুব সুন্দর হয়।

কেন আপনি  বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসায়  শুরু করবেনঃ

এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। সময়ের সাথে সাথে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাশেঁর তৈরী আসবাবপত্র ব্যবসাটিতে ঝুঁকির পরিমান কম। এই জন্য অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই ব্যবসাটি শুরু করতে আগ্রহী। এই ব্যবসাটি বাড়ির নারীরাও করতে পারে। এটি একটি জনপ্রিয় ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। অল্প টাকা বিনিয়োগ করে অনেক টাকা আয় করা যায় এই ব্যবসায়ের মাধ্যমে। ভালমানের আসবাবপত্র তৈরী করে বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে।

কি কি আসবাবপত্র উৎপাদন করতে পারেন??

বাড়িতে প্রবেশের মুখেই রাখা  বাঁশের তৈরি ফুলদানি। ড্রয়িংরুমে থাকা বাঁশের তৈরি সোফা,  বাঁশের তৈরি কফি,  দেয়ালে বাঁশের তৈরি ছবির ফ্রেম, ঘর সাজানো শোপিস, বুকশেলফ আর কোনায় বাঁশের তৈরি লম্বা ফুলদানি। বাঁশের তৈরি ডাইনিং টেবিল–চেয়ার, বাঁশের তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ঝুড়ি। শোবার ঘরের খাটের পাশে বাঁশের তৈরি সাইড টেবিল,  বাঁশ দিয়ে বানানো টেবিল ল্যাম্প, কিংবা ঘরে ঝোলানো ল্যাম্পশেডও,  বাঁশের তৈরি প্রয়োজনীয় ক্যাবিনেট।
রান্নাঘর পরিপাটি রাখতে এখন মানুষ বাঁশ দিয়ে উৎপাদন করা আসবাবপত্র ব্যবহার করছে। তাই আপনি উৎপাদন করতে পারেন  মসলার বক্স, প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার র‍্যাক বা শেলফ, বাঁশের তৈরি টিস্যু হোল্ডার  বারান্দায় রাখা   বাঁশের মোড়া,  বাসার সামনে বা ছাদে যদি ছোট বাগান থাকে, সেখানে এক জোড়া বাঁশের চেয়ার আর টি–টেবিল।

সম্ভাব্য পুঁজি
বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসায় আপনি কি ধরনের পন্য উৎপাদন করতে চান তার উপর নির্ভর করে আপনার ইনভেস্ট  কত টাকা লাগবে। তাহলে এখন এটি বলা সহজ নয়। কিছু পন্য উৎপাদন এর ক্ষেত্রে  ব্যবসাটি শুরু করতে হলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করে নিতে হবে। তবে স্থানীয় প্রযুক্তিতে বানিয়ে নিতে পারেন ।

বাজারজাত করনঃ
বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরির ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে বাজারজাত করন কেন্দ্র  করতে হবে । একটি কারখানার জন্য আর একটি শোরুম বা বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য। যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো এবং মানুষের চলাচল বেশি সেখানে এই ব্যবসাটি শুরু করা ভালো। বাজারে বা মার্কেটের পাশে একটি দোকানে এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। শোরুমের পিছনে বা নীচে কারখানা থাকলে পরিবহন খরচ লাগে না। বাড়িতেও এই ব্যবসাটি শুরু করা যেতে পারে। অনলাইনে আপনি ফেসবুক পেইজ খুলে  বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনার ব্যবসার প্রচার করতে পারেন। এবং আপনি চাইলে আমাদের  eibbuy.com সাইটে সাপ্লায়ার হিসেবে ফ্রীতে নিবন্ধন করে পন্য বিক্রি করতে পারেন। এতে কোন টাকা লাগবে না। আমাদের সাইটে আছে অনেকেই যারা বাঁশ দিয়ে পন্য উৎপাদন করে এখানে পাইকারি বাজার সেল করে । এ ছাড়া আপনার প্রথম লক্ষ থাকতে হবে লোকাল মার্কেট যা আপনি নিজে তৈরি করে নিবেন।
যোগ্যতা: পণ্যের বিভিন্ন রকম ডিজাইন করতে প্রশিক্ষনের প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আপনার যদি প্রশিক্ষন না দেওয়া থাকে তাহলে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিবেন। এবার আসি আপনার উৎপাদন যদি অনেক বেশি হয়  তাহলে দক্ষ কারিগর নিয়োগ দিতে হবে। উৎপাদন ও বিক্রি একই সাথে চালাতে হবে। তাছাড়া গ্রাহকের পছন্দের মত আসবাবপত্র বানিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র ব্যবসায় লাভ কেমন :
এই ব্যবসাটি করে বেশ ভালই লাভবান হওয়া যায়। এই ব্যবসাটি থেকে শতকরা ৩২ ভাগ লাভ বের করা সম্ভব।
সবধরনের বাঁশ কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। যেসব বাঁশ হালকা, নমনীয় এবং প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী, সেগুলোই ব্যবহৃত হয়। বাড়ির সাজসজ্জায় ব্যবহার করা যায়, এমন একটি চমৎকার উপাদান বাঁশ। বাঁশের সেরা সুবিধা হলো, এটি সবধরনের আবহাওয়ার উপযোগী। তাই এটি যেকোনো জায়গার জন্য উপযুক্ত।
আজ এই পর্যন্ত, আপনি বাঁশ আসবাবপত্র উৎপাদন ব্যবসায় করতে চাইলে আপনার আশেপাশে এলাকার বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন তারা কি বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র ব্যবহার করছে কিনা বা করবে কিনা, এবং কোথায় এর ভালো মানের মার্কেট রয়েছে, ব্যবসাকে ভালোবাসুন সফলতা একদিন আসবেই। আমাদের পোস্ট এ-ই পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।


Related Post

জনপ্রিয় পণ্য

সাম্প্রতিক পণ্য

Leave a Comment:

Comment as:

alibaba & Import Export expert

সি এন্ড এফ, আমদানি, আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2022 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Fluttertune