কিভাবে হবেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা

কিভাবে হবেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা


Posted on: 2021-05-10 12:29:08 | Posted by: Shafiullah
কিভাবে হবেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা

উদ্যোক্তা কি
একজন ব্যক্তি যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোন চাকরি বা কারো অধিনস্ত না থেকে নিজে থেকেই কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করেন বা পরিকল্পনা শুরু করেন তখন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয় । ব্যবসায় উদ্যেক্তার উদ্যেগ যখন সফল কিংবা স্বনিরভর হয় তখন তাকে বলা হয় ব্যাবসায়ি ।

নারী উদ্যোক্তা কি
বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা শব্দটা শুনলেই অনেকে নাক সিটকানো শুরু করেন। কারন আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে নারী উদ্যোক্তা মানে হলো নারীদের নিসিদ্ধ কাজ করা। কারন আমাদের সমাজে নারীদের জন্য বরাদ্ধ কেবল গ্রিহস্থলি কাজ কর্ম। একজন নারী উদ্যোক্তা আর একজন পুরুষ উদ্যোক্তার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। একজন নারি যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোন চাকরি বা কারো অধিনস্ত না থেকে নিজে থেকেই কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করেন বা পরিকল্পনা শুরু করেন তখন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয় ।

কিন্তু আমাদের সামজিক এই বাধা কে কাটিয়ে অনেক নারী উদ্যোক্তা আজকাল তাদের কাজ দিয়ে সফলতার অনেক উচ্চ শিখরে পৌঁচে গেছেন। এখন মানুষের মন থেকে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি অবজ্ঞা অনেকটা কেটেছে। মানুষের মনে নারী উদ্যোক্তাগণ এখন জায়গা করে নিয়েছেন। অনেক পুরুষের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাগণ এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের কাজ দিয়ে, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে।

নারী উদ্যোক্তা বলতে কি বোঝায়
আসলে আমরা পুরুষ উদ্যোক্তা বলতে জা বুঝি নারী উদ্যোক্তা বলতে তাই বুঝি। একজন নারী উদ্যোক্তা যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোন চাকরি বা কারো অধিনস্ত না থেকে নিজে থেকেই কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করেন বা পরিকল্পনা শুরু করেন তখন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয় । নারী উদ্যোক্তাকে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেবার কোন প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের দেশে এই শব্দটাকে আলাদা একটা ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করি। কারন আমাদের দেশে নারিকে কেবল পুরুষের পণ্যের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু একজন নারি যে নিজেও একটা উদ্যোগ নিয়ে সফল কিংবা স্বনিরভর হতে পারে সেটা আমরা মনেই করিনা। কারন সেই আদিকাল থেকেই নারিকে আমরা বন্ধি করে রাখতে ভালোবাসি।

নারী উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য
একজন নারী উদ্যোক্তার আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নেই। একজন পুরুষ উদ্যোক্তা এবং একজন নারী উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য তেমন কোন পার্থক্য নেই। সবাই সমান। আমাদের সমাজে কেবল নারী উদ্যোক্তাকে আলাদা হিসাবে দেখা হয়। নারী উদ্যোক্তা হলো সেই নারী যে নিজেকে সফল কিংবা স্বনির্ভর হতে নিরন্তর কাজ করে যায়। একজন নারী উদ্যোক্তা পুরুষের পাশাপাশী পরিবারে অর্থনৈতিক কাজে ভূমিকা রাখে। দেশের উন্নয়নে কাজ করে ।

১। স্বাধীন ব্যবসাই যার স্বপ্ন
অনেক নারীই আছেন যাদের জন্যে একটি ভালো বেতনের চাকরিই যথেষ্ট। এদের মধ্যে কিছু নারী উদ্যোক্তা আছেন যারা উচ্চাভিলাষী, বেকারত্ব এড়াতে তারা নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পারদর্শী করে তোলেন। এতে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ ক্ষতির কিছু নেই, নির্দোষ চাহিদা বলা যায়। কিন্তু একজন নারী উদ্যোক্তা অন্যের কাজ সম্পন্ন করে যতটা না তৃপ্তি লাভ করেন, তার চেয়ে বেশী তৃপ্তি লাভ করেন নিজ কাজের সফলতায়। নতুন কিছু করে সফলতার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য দরকার তীব্র মাত্রার আত্মবিশ্বাস। আপনার জীবনের লক্ষ্য আর ব্যবসার উদ্দেশ্য এক না হয়ে থাকলে এগুলোর একটিকে অপরটির সাথে সম্পৃক্ত করুন। নতুবা, ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলার সমূহ সম্ভাবনা রয়ে যায়।

২। চাহিদা পূরণের সুযোগ সৃষ্টিই যার কাজ
অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তাই ব্যক্তিগত চাহিদার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের ব্যবসার প্রাথমিক ধারনাটি পেয়ে থাকেন। আমরা কোন সমস্যার পড়লে সাধারনত উপেক্ষা করে চলে আসি, তা নিয়ে আর ভাবতে চাই না। কিন্তু একজন উদ্যোক্তা চান ভবিষ্যতে তার মত এই ঝামেলার মুখোমুখি যেন আর কারো না হতে হয়। তাই তিনি সমাধান খোঁজেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর প্রবর্তিত ব্যতিক্রমধর্মী সমাধান ব্যবস্থা, তাঁর রুটি-রুজির যোগান দিয়ে থাকে।

৩। ঝুঁকিগ্রহণ যার নেশা
সাবধানতা অবলম্বনবশঃত ঝুঁকিগ্রহণ- একজন জাত নারী উদ্যোক্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা তাকে অন্য দশজনের চেয়ে আলাদা করে রাখে। চাকরিজীবিরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট রাখার প্রচেষ্টা নিয়েই তাদের দিনানিপাত হয়। পক্ষান্তরে একজন নারী উদ্যোক্তা সর্বদাই অবস্থানের পরিবর্তনের পক্ষপাতী, এবং পরিবর্তন প্রায়শঃই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সুযোগ গ্রহণ, অনিশ্চয়তার প্রতি অদ্ভূত টান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরও নিজেকে সামলে রাখার ক্ষমতা একজন উদ্যোক্তাকে অনন্য ও অদ্বিতীয় করে তোলে।

৪। স্বপ্নতাড়িত আবেগ যার কাছে অগ্রাধিকার পায়
একজন নারী উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে, সফলতার চেয়ে আবেগের গুরুত্ব বহুলাংশে বেশী। সফলতা সাধারণত ব্যক্তি-বস্তু-স্থানবিশেষে চরকির মত ঘূর্ণায়মান, কিন্তু একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পেছনে আবেগের ভূমিকাই সর্বাধিক। একজন ব্যবস্থাপক হয়তো সাপ্তাহিক বা মাসিক আয়-ব্যয় অথবা লাভ-ক্ষতির সংখ্যার প্রতি বেশী মনোযোগী হয়ে থাকেন, অপরদিকে প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য একজন উদ্যোক্তার কাছে প্রতিটি মুহূর্তই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৫। অসাধ্য সাধনে যার নেই অনীহা
একজন চাকুরীজীবীর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে তার অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের ওপর। অপরদিকে একজন নারী উদ্যোক্তা অতীত ও বর্তমানের সকল নথি ব্যবহার করে থাকেন মনমতো ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিকাঠি হিসেবে। পূর্বতন সকল স্মারক ও প্রমাণ যদি কোনকিছুকে একদম অসম্ভব বলেও দাবী করতে চায়, একজন উদ্যোক্তা সেগুলোকে বাধা হিসেবে না দেখে অসাধ্য সাধনের কোন না কোন রাস্তা খুঁজে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ধৈর্য্যের অভাব বা সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তার কাছে কোন বাধা নয়। কারন যুগান্তকারী পরিবর্তন রাতারাতি ঘটে না, অনেকগুলো ছোট পদক্ষেপ একসময় বড় পরিবর্তনে রূপ নেয়।

নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যা

#১ যথেষ্ট মূলধনের অভাব
নারী উদ্যোক্তার জন্য এটি একটি বড় সমস্যা। যথেষ্ট মূলধনের অভাব যতটা না একজন পুরুষ পড়েন তার থেকে বহুগুন বেশী নারীদের পড়তে হয়। প্রথমত, নারীদের নিজেদের নামে সম্পত্তি থাকে না, বা যতটুকু থাকে না দিয়ে লোন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে একধাপ নারীরা পিছিয়ে যায়।  
দ্বিতীয়, ব্যাংক লোনে নারীরা যত টুকু টাকা পায় না দিয়ে একটি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। শেষ ভরসা থাকে তাদের হাতে থাকা জমানো টাকা বা পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া কিছু টাকা। যার ফলে, একজন উদ্যোক্তা হিসাবে খুব কম নারী নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।
মূলধনের অভাব মূলধন দিয়ে সমাধান করা ছাড়া উপায় নেই। এ ক্ষেএে জমানো টাকা ও পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। ব্যবসা শুরু করার পর ব্যাংক লোন দিয়ে ব্যবসা বাড়ানো যাবে।

#২ পারিবারিক বন্ধন
আমাদের সমাজে একজন মহিলার বিবাহের পরে প্রধান কাজ হিসাবে স্বামী ও সন্তানের দেখাশুনা করা বিবেচনা করা হয়। যদিও বর্তমানে অনেকেই এই ধারনা থেকে বের হতে পেরেছে। যদিও যারা এই ধারনা থেকে বের হয়েছে তারা চাকরিকে বেশী প্রাধন্য দিয়ে থাকে। ফলে নারী উদ্যোক্তা হওয়া আর হয়ে উঠে না।
এই ক্ষেএে একজন নারী হিসাবে উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে বিবাহের আগেই নিজেকে জানান দিতে হবে। বিবাহের পরে উদ্যোক্তা হতে হলে আপনার পরিবারকে আপনার উদ্যোক্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাদের সাপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আরো পড়ুন – যেসব গুন উদ্যোক্তাকে সফল করে

#৩ সীমিত গতিশীলতা
একজন পুরুষ যখন যেখানে মন চায় যেতে পারে, যেকারো সাথে সহজেই মিশতে পারে। কিন্তু একজন নারী উদ্যোক্তার জন্য যা অনেক বড় চ্যালেঞ্জের কাজ।
সমাধান হিসাবে আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিতে পারেন। আপনার ভাই কিংবা স্বামী হতে পারে আপনার ব্যবসার পাটনার। আশার কথা বর্তমানে অনেক নারী উদ্যোক্তা এটিকে আর সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করছে না।

#৪ উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেএে শিক্ষা
উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে অনেক শিক্ষিত হতে হবে এই কথা ঠিন না। কিন্তু ন্যূনতম শিক্ষা গ্রহন করা ছাড়া একজন নারী হিসাবে উদ্যোক্তা হওয়া অনেক কঠিন। আপনি যতটুকু পড়াশুনা করেছেন তাই যথেষ্ট, কিন্তু আপনি যেই বিষয়ের উপর উদ্যোক্তা হতে চান না ভাল ভাবে জেনে ও বুজে নিতে হবে।

#৫ রিস্ক বা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবনতা কম
আমাদের দেশের নারীরা সাধারনত টাকা আয়ের উপায় হিসাবে একটি নিদিষ্ট আয়ের চাকরি খুঁজে থাকেন। উদ্যোক্তা হতে হলে যে ঝুঁকি নিতে হয় তা তারা নিতে চায় না। এর যথেষ্ট কারনও আছে বটে। তারপরেও যদি আপনি একজন নারী উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে ঝুঁকি নিতেই হবে। এক্ষেএে কম ঝুঁকির ব্যবসার দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন।

নারী উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়
আমাদের সমাজে সফল ব্যবসায়ীর তালিকায় নারীর সংখ্যা খুব একটা নেই বললেই চলে। এর পিছনে বিভিন্ন ধরনের মানুষিক, পারিবারিক এবং সামাজিক কারন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারপরেও কিছু কিছু নারী পিছপা হয়ে থাকেনি। সকল বাঁধা পেরিয়ে নিজেদেরকে সাফল্যের শিখরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। বর্তমানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা পূর্বের তুলনায় সহজ। একজন জয়ী ব্যবসায়ী নারী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে অবশ্যই করনীয় কিছু পদবিন্যাসগুলো কি কি হতে পারে একনজরে দেখে নিইঃ

আত্মবিশ্বাসঃ আত্মবিশ্বাস সাফল্যের চাবিকাঠি। নারীরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের ক্ষমতার অপ্রতুলতার জন্য পরিচিত। তাই যেকোন জায়গায় লড়াই করার আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনি যদি নিজেকে বিশ্বাস করেন না তাহলে কেউ আপনার পণ্য বা পরিষেবাগুলিতে বিশ্বাস করবে না। বিনিয়োগকারীরা আপনার সাথে বিনিয়োগ করবে না; এমনকি আপনার অধীনস্থ কর্মীরাও আপনার সাথে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না। আত্মবিশ্বাস ছাড়া ব্যবসার কোন ক্ষেত্রেই আপনি ইতিবাচক ফলাফল পাবেন না। বিশ্বাস করুন যে আপনার মাঝে সুপ্ত যে মেধা আছে বিশ্ব সেটাই চায়। আপনি পৃথিবীকে অনেক কিছু দিতে পারবেন যদি শুরুতেই আপনার আত্মবিশ্বাসকে বাড়াতে পারেন।  

মিশন ও ভিশনঃ কেন আপনি একটি ব্যবসা শুরু করতে চান? এই প্রশ্নটি অনেকটা অপ্রত্যাশিত হতে পারে কিন্তু এটি একটি নীরব ফ্যাক্টর যা নির্ধারণ করে যে আপনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হবেন নাকি ব্যর্থ হবেন। বিশ্বের সবচেয়ে সফল নারী উদ্যোক্তাদের খেয়াল করুন। আপনি দেখতে পাবেন যে তাদের সব ব্যবসার জন্য একটি শক্তিশালী কারণ আছে এবং সেই কারণই তাদের ব্যবসার প্রকৃত উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য যত স্পষ্ট হবে লক্ষ্য তত সুনির্দিষ্ট এবং সফল হবে।
কাজের জন্য প্রস্তুতিঃ ব্যবসার সাফল্য মানসিকতা ও কাজের প্রস্তুতির উপর নির্ভরশীল। সফল উদ্যোগক্তা হতে ব্যবসা নিয়ে আপনার সঠিক মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আপনার পথ যাই হোক না কেন তার সাথে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে নারীদের চলার পথ স্বভাবতই খুব কঠিন হবে তাই ভেঙ্গে পড়া যাবে না। এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।

ব্যর্থতাকে মেনে নিনঃ ব্যবসা মানেই ঝুঁকি। সফল হওয়ার জন্য শুরুতে আপনাকে অবশ্যই ব্যর্থ হতে হবে। সবচেয়ে সফল ব্যবসায়ী নারীরা প্রত্যেকেই ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে। তাই যদি আপনি এমন কয়েকজন নারীর মধ্যে থাকতে চান তাহলে যা কিছু ঘটবে সেগুলোকে সফলতার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে আপনাকে অবশ্যই ব্যর্থতাগুলোকে স্বীকার করতে হবে।

একটি ব্যবসা শুরু করুনঃ হ্যাঁ। ব্যবসার শুরুটা আপনিই করুন। অনেকেই নিজেকে উচ্চ পর্যায়ের সফল নারীদের মত দেখতে চায় কিন্তু বেশির ভাগই উদ্যোক্তা হতে ভয় পায় তাই কোন পদক্ষেপ নিতে চায় না। আপনি শুধু স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে সফল নারী উদ্যোক্তা হতে পারবেন না, সেখানে যেতে আপনাকে কিছু শুরু করতে হবে। রিসোর্সের অভাব আপনাকে থামাতে পারবে না যদি আপনি সামনে অগ্রসর হতে চান।

দক্ষতা বাড়ানঃ কিছু উদ্যোক্তা মেধাবী হয়েই জন্মান; অন্যদেরকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হয়। যদি পরিবার কিংবা সমাজ থেকে কেউ সাহায্য না করে তবে আপনি নিজেই আপনার সিদ্ধান্তকে স্বাগতম জানিয়ে কাজে নেমে পড়ুন। প্রয়োজন হলে নিজের দক্ষতাকে বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন রিসোর্স থেকে কাজ শিখুন, অভিজ্ঞতা বাড়ান।

ব্যবসার ভাব-সম্প্রসারন করুনঃ “আপনি আপনার ব্যবসা কতটা ভাল জানেন? আপনি কেন আপনার ব্যবসা নিয়ে এত উৎসাহী? আপনার ব্যবসা সমাজকে কি কি ইতিবাচক ফল দিচ্ছে?” -এই ব্যাপারগুলো আপনি কিভাবে বিনিয়োগকারী অথবা অন্য ব্যবসায়ীকে বোঝাবেন তা নিয়ে কাজ করুন। চলার পথ সহজ করার জন্য আপনার ব্যবসাকে বুঝুন এবং সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করুন।

সময় ভাগ করে নিনঃ আপনার কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য ২৪ ঘণ্টাকে আপনার সুবিধামত ভাগ করে নিন। তবে মনে রাখবেন আপনার সময়সূচী যেন সহকর্মীদের সময়ের সাথে সামঞ্জ্যতা বজায় রাখে।

গ্রাহকদের মূল্যায়ন করুনঃ আপনার ব্যবসার সফলতার মৌলিক মাধ্যম হল গ্রাহক শ্রেণী। তারা কি চায়, কিভাবে চায় তা আপনাকেই দেখতে হবে। কারন তারাই একটি ব্যবসার মিশন ও ভীষণকে পরিপূর্ণ করতে সহযোগিতা করে।
প্রক্রিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর গঠনঃ ব্যবসার জন্য উপরের প্রতিটি বিষয়ই আপনাকে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। তাই প্রতিটি প্রক্রিয়া যেন সঠিক উপায়ে সঠিক সময়ে পরিচালিত হয় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রক্রিয়ার ভিত্তি যত মজবুত হবে কাজের উৎকর্ষতা তত বাড়বে।

নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ
দেশের শিক্ষিত নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন- বিসিকের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ‘ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (স্কিটি)।
গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের শিক্ষিত নারী যারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা গড়ে তুলতে চান তাদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মডিউল অনুযায়ী এ প্রশিক্ষণ কোর্সটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে স্কিটি।

প্রশিক্ষণ কোর্সটিতে সশরীরে উপস্থিত থেকে এবং ভার্চুয়ালি (অনলাইনে) অংশগ্রহণ করা যাবে।
প্রশিক্ষণ কোর্সের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্কিটির  শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়ন অনুষদের সহকারী অনুষদ সদস্য মুনিরা মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। (স্কিটি, বিসিক, প্লট-২৪/এ, রোড-১৩/এ, সেক্টর-৬, উত্তরা, ঢাকা)
এ ছাড়া স্কিটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. শফিকুল আলমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। (ফোন: অফিস- ৮৯৩৩৬৬১, ৪৮৯৬১৯৪৮)।
সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির পর যোগ্য উদ্যোক্তাদের বিসিকের নিজস্ব তহবিল এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে সহায়তা করা হবে। সেই সঙ্গে দেয়া হবে শিল্প নিবন্ধন।

বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তা
নারীদের জন্য বাংলাদেশে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরিবেশ এখনো উপযুক্ত নয়। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই কাজ করে এ দেশের নারীরা নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে যত উদ্যোক্তা আছেন, তার প্রায় ৩২ শতাংশ নারী। একটি দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে কতজন নারী—এ হিসাবে বিশ্বের ৫৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৬ নম্বরে। আর্থিক লেনদেনবিষয়ক বহুজাতিক কোম্পানি মাস্টারকার্ডের নারী উদ্যোক্তাবিষয়ক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।


‘মাস্টারকার্ড ইনডেক্স অব উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর (এমআইডব্লিউই)’ শীর্ষক এ জরিপে বলা হয়েছে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে একজন নারীর যে সুবিধাগুলো পাওয়া জরুরি, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্তি ও সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ। এই দুটি মৌলিক সুবিধাপ্রাপ্তিতে এমআইডব্লিউই সূচকে ১০০–তে বাংলাদেশের স্কোর ৩২, যা জরিপে অন্তর্ভুক্ত ৫৪টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এত কম সুযোগ-সুবিধা পেয়েও তাহলে বাংলাদেশের নারীরা কীভাবে বেশি হারে উদ্যোক্তা হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জরিপে বলা হয়েছে, পরিবার ও নিজেদের আর্থিক চাহিদা পূরণের জন্যই এ দেশের নারীরা উদ্যোক্তা হচ্ছেন। যেকোনো ব্যবসার সুযোগ পেলেই বাংলাদেশি নারীরা তা কাজে লাগান।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ড। প্রতিবেদনে নারীদের ব্যবসার করার পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে আর্থিক সহায়তার অভাব, আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোক্তা প্রবণতার অভাব তুলে ধরা হয়েছে।


জনপ্রিয় পণ্য

সাম্প্রতিক পণ্য

Leave a Comment:

Comment as:

alibaba & Import Export expert

সি এন্ড এফ, আমদানি, আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft