একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে


Posted on: 2021-07-05 15:48:42 | Posted by: Shafiullah
একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

শখের বসে বাসায় একুরিয়ামে মাছ পালন স্বাভাবিক একটি বিষয়। একুরিয়াম বাসার সৌন্দর্যও বাড়ায়। যার কারনে বর্তমান সময়টাতে বাসায় একুরিয়াম রাখার প্রবনতাও দিন দিন বাড়ছে। সেই সাথে একুরিয়ামের ব্যবসার প্রসারতাও বাড়ছে। আজ আমরা একুরিয়ামের ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করব। আজকের আলোচনার শিরোনামগুলো তুলে ধরছি…

১. একুরিয়ামের ব্যবসা কেন করবেন?

২. কিভাবে একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন?

৩. একুরিয়ামের জন্য মাছের তালিকা

৪. মাছ বা অন্যান্য উপাদান পাইকারি কিনবেন কোথা থেকে?

৫. একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি লাগে?

৬. একুরিয়ামের ব্যবসাটিকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে করনীয় কি?

৭. এই ব্যবসার পাশাপাশি অন্য কি কি ব্যবসা করা যাবে?

 

এবার মূল আলোচনায় আসি…

১. একুরিয়ামের ব্যবসা কেন করবেন?

একুরিয়ামের ব্যবসা করার সবচেয়ে বড় কারন হল এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া। এখন মানুষ পোষা কুকুর, বিড়াল বা পোষা পাখি পালনের জন্য বেশি আগ্রহী। বাসার সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বা বাসায় সামুদ্রিক একটা ছোয়া পেতে অনেকেই নিয়ে আসছেন একুরিয়াম। শহরের বাসাগুলোতে প্রায়ই পোষা কুকুর, বিড়াল বা বারান্দায় পাখি বা একুরিয়াম দেখা যায়। এখন হাজারখানিক টাকা হলেই বাসায় একটা একুরিয়াম আনা যায়। তাই মধ্যবিত্তদের মাঝেও এর ভাল চাহিদা রয়েছে। সাধারনত ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা দামের একুরিয়াম বাংলাদেশের বাজারে বেচাকেনা হয়। আবার একুরিয়ামের কাস্টমার দোকানে শুধু একুরিয়াম কিনতেই আসে না। মাছ, মাছের খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে আসে। সাধারনত একুরিয়ামে যেসব মাছ পালন করা হয় সেগুলো বিদেশি জাতের মাছ। একটা সময়ে এসব মাছের অনেক দাম থাকলেও এখন এখন সাধ্যের মধ্যে।  অনেকে আবার এত দাম দিয়ে একুরিয়াম না কিনে ছোট জার কিনেন এবং সেগুলোতে ছোট আকারের মাছ পালন করে থাকেন। শহর ছড়িয়ে গ্রামেও বিভিন্ন বাড়িতে এখন একুরিয়ামের দেখা মিলে।

অর্থাৎ বর্তমানে একুরিয়ামের বাজার সম্ভাবনাময় একটি বাজার। তাই আপনার একুরিয়ামের ব্যবসা করা উচিত।

 

২. কিভাবে একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন?

একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করার আগে সর্বপ্রথম দেখে নিবেন যেখানে ব্যবসাটি করবেন সেখানে একুরিয়ামের চাহিদা আছে কিনা। যদি আপনি প্রত্যন্ত গ্রামে এই ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনার জন্য পরামর্শ থাকবে আপনি অন্যান্য ব্যবসার আইডিয়াগুলো দেখতে পারেন। আপনার এলাকায় যদি একুরিয়ামের চাহিদা থাকে তাহলে দোকানের জন্য স্থান নির্বাচন করবেন। লোকসমাগম বেশি এমন স্থানে একুরিয়ামের দোকান দেওয়ার চেষ্টা করবেন। মেইন রোডের পাশে হলে ভালো হয়। দোকান ঠিক করার পর দোকানে ফার্নিচার সেট করবেন। ফার্নিচারগুলোর মধ্যে নিজের জন্য বড় দুটি একুরিয়াম রাখবেন যেখানে আপনার মাছগুলো রাখবেন। তারপর বিক্রির জন্য কয়েকটি একুরিয়াম বানিয়ে নিবেন। ১ থকে ৫ হাজার টাকা দামের একুরিয়াম দিয়ে শুরু করবেন। পাশাপাশি ছোট জার গুলোও আনবেন। মাছও নিয়ে আসবেন সাথে একুরিয়ামের জন্য পাথর, এয়ার মটর, ফিল্টার, রাবারের ফ্লেক্সিবল পাইপ ইত্যাদিও নিয়ে আসবেন। একুরিয়াম আপনি নিজে তৈরি করতে পারেন। একুরিয়ামের নিচে যে কাঠের ফার্নিচার থাকে সেটা তৈরির জন্য কোনো কাঠমিস্ত্রি বা ফার্নিচার ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে নিতে পারেন। তাদের সাথে একটা চুক্তি করে নিবেন। আর উপরের কাচের অংশ আপনি নিজেই বানিয়ে নিতে পারবেন। তারপর প্রচার শুরু করে দিবেন।

৩. একুরিয়ামের জন্য মাছের তালিকা

একটু আগেই বলেছি একুরিয়ামের মাছগুলো মূলত বিদেশি জাতের। বাংলাদেশে একুরিয়ামের জন্য যেসকল মাছের চাহিদা বেশি সেগুলোর তালিকা তুলে ধরছি…

·        গোল্ডফিশ

·        গাপ্পি

·        এঞ্জেল

·        মলি

·        ক্যাট ফিস

·        টেট্রা জেব্রা

·        টাইগার শার্ক

·        সিল্ভার শার্ক

·        রোজি বার্ব

·        টাইগার বার্ব

·        গ্লাস ফিশ

·        অ্যালিফেন্ট নোজ

·        সাকিং ক্যাট

·        ফ্লাওয়ার হর্ন

·        ব্লু আকড়া

·        ফাইটিং ফিশ

·        সোর্ড টেইল


উপরে উল্লেখিত মাছগুলো ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একুরিয়ামগুলোতে শোভা পায়। সেগুলোর তালিকাও তুলে ধরলাম…

·        টেংরা

·        খলিশা

·        পুটি

·        চান্দা

·        বায়িং

·        মলা

·        চিংড়ি জাতীয় ছোট মাছ।

দেশীয় মাছগুলো একুরিয়ামের জন্য দেশীয় মানুষের চেয়ে বেশি কদর করে ইউরোপের মানুষেরা। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই একুরিয়ামের মাছ হিসেবে উল্লেখিত মাছগুলো রপ্তানি করে থাকে।

৪. মাছ বা অন্যান্য উপাদান পাইকারি কিনবেন কোথা থেকে?

একুরিয়াম, একুরিয়ামের মাছ বা অন্যান্য উপাদানের জন্য ঢাকায় মুলত ২টি পাইকারি বাজার রয়েছে। একটি হল কাটাবন। আরেকটি হল মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট। গুলশানেও একুরিয়ামের পাইকারি মার্কেট আছে। পাইকারি মার্কেট থেকে এসব মাছ কিনতে গেলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। তারা ভাল মাছ আপনাকে নাও দিতে পারে। যদি বুঝে কিনতে পারেন তাহলে কিনতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই এ ধরনের মাছের চাষ করে থাকেন, তাদের থেকে কিনতে পারেন। তাছাড়া আমাদের এই ওয়েবসাইটেও অনেকে পাইকারি একুরিয়ামের মাছ সরবরাহ করেন। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

৫. একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি লাগে?

কোন ব্যবসায় কত টাকা পুঁজি লাগে সেটা মূলত নির্ভর করে কোথায় এবং কেমন পরিসরে ব্যবসাটি শুরু করবেন তার উপর। তাই দোকানের ভাড়া এবং অ্যাডভান্স ছাড়াই আমরা হিসাব করব। আর দোকানের জন্য প্রথম তিন চার মাসের ভাড়া আগেই রেখে দিবেন। ওই টাকাটাও আমরা হিসাবের বাইরে রাখব। কারন এভাবে দোকান দিয়ে ব্যবসা করতে গেলে প্রথম লাভ উঠতে কয়েক মাস পর্যন্ত লেগে যায়।

একুরিয়ামের ব্যবসা করতে প্রথমে ফার্নিচার বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে। আর মাছসহ অন্যান্য জিনিস কিনতে ধরুন আরও ১৫ হাজার টাকা। সরকারি বিভিন্ন বৈধ কাগজপত্রের জন্য আপনাকে আরও ২ থাকে ৫ হাজার টাকা খরচ করা লাগতে পারে। সবমিলিয়ে দোকানের এডভান্স আর প্রথম ৩ থেকে ৪ মাসের ভাড়া ছাড়া ৪০ হাজার টাকা হলেই আপনি একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

৬. একুরিয়ামের ব্যবসাটিকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে করনীয় কি?

আপনাকে শুধু একুরিয়াম আর একুরিয়ামের মাছ, যন্ত্রপাতি বিক্রি করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আপনাকে এই সংক্রান্ত আরও অন্যান্য ব্যবসায় জড়াতে হবে। যেমন আপনি নিজে একুরিয়ামের মাছ চাষ করতে পারেন। তারপর এই মাছগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করবেন। বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ীরাই এভাবে মাছ চাষ করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। আপনিও করতে পারেন। তবে প্রথমেই মাছ চাষের পর্যায়ে না যাওয়াটাই ভালো। অফলাইনে ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যবসা করবেন। ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানে নিয়মিত আপডেট দিবেন। কাস্টমারদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন। আপনি আপনার পন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটেও বিক্রি করতে পারেন। এখানে যে কোনো ধরনের পন্য পাইকারি বা খুচরা বেচা কেনা করা যায়। সেলার একাউন্ট খুলতে বা পন্য বিক্রি করতে কোনো প্রকার চার্জ বা ফি প্রদান করতে হয় না।

 

৭. এই ব্যবসার পাশাপাশি অন্য কি কি ব্যবসা করা যাবে?

এই ব্যবসার পাশাপাশি আরও নানা ধরনের ব্যবসা করা যায়। যেমন পাখির ব্যবসা। কবুতরের ব্যবসা। পাখির ব্যবসা করলে একপর্যায়ে আপনি পাখির খামারও দিতে পারবেন। পাখি আর মাছ যদি একই দোকানে বিক্রি করেন তাহলে আপনি অতিরিক্ত কিছু কাস্টমার পাবেন। অনেকেই তাদের বাসার বারান্দায় পাখি পালন করে থাকে। যেসব পাখি এভাবে পালন করা হয় সেগুলো মূলত বিদেশি জাতের পাখি। এসব পাখির মধ্যে লাভ বার্ড, ককাটেইল, ফিঞ্চ, বাজরিগার, রেড লরি উল্যেখযোগ্য। আর পাখির ব্যবসা কিভাবে করবেন তা নিয়ে আমাদের আরেকটি আর্টিকেল আছে। পড়ার অনুরোধ থাকবে।

 

আবার আপনি চাইলে দোকান দেওয়া ছাড়াই বাসায় একুরিয়াম থেকে ব্যবসা করতে পারেন। বাংলাদেশে অনেকেই বিশেষ করে ছাত্ররা শুধু বাসায় একুরিয়ামে মাছ পালন করে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করছে। তারা সাধারনভাবেই বাসায় মাছ পালন করে। আর একুরিয়ামের এসব মাছ ঘন ঘন বাচ্চা দেয়। অতিরিক্ত মাছ বিক্রি করে বাসা থেকেই টাকা আয় করা যায়। এভাবে বাসায় পাখি পালন করেও ব্যবসা করা যায়। পাখি ও একুরিয়ামে মাছ দুটি একসাথেও পালন করে টাকা আয় করা যায়।

 

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ।


জনপ্রিয় পণ্য

সাম্প্রতিক পণ্য

Leave a Comment:

Comment as:

alibaba & Import Export expert

সি এন্ড এফ, আমদানি, আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft