eibbuy.com
কিভাবে শুরু করবেন ডিলারশিপ ব্যবসা
ডিলারশিপ ব্যবসা।  অনেকের মুখেই এ ধরনের ব্যবসার নাম শুনেছেন। আজ আমরা আলোচনা করব ডিলারশিপ ব্যবসা কি? কিভাবে শুরু করবেন ডিলারশিপ ব্যবসা?এই ব্যবসার নিয়ম কি? ডিলারশিপ ব্যবসা করতে কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হয়? কিভাবে ডিলারশিপ ব্যবসায় টিকে থাকবেন? চলুন শুরু করা যাক.......

কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পন্য বিপণন  করাই হল মূলত ডিলারশিপ ব্যবসা। সহজ ভাষায় বললে কোনো কোম্পানির পন্য খুচরা অথবা পাইকারি বিক্রেতার কাছে বিক্রি করার ব্যবসাই হল ডিলারশিপ ব্যবসা। আর কেউ যদি কোনো কোম্পানির ডিলারশিপ নেয় তাহলে তাকে ঐ কোম্পানির ডিলার বলা হবে। একটি এলাকায় কোনো কোম্পানির কোনো পন্যের জন্য ডিলার সাধারণত একজনই হয়। কিন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক কোম্পানির ডিলার হতে পারেন।
প্রথমেই উল্লেখ করে নেই এই ব্যবসায় ঝুঁকি কম এবং ব্যবসা বুঝতে পারলে লাভও তুলনামূলক বেশি। ঝুঁকি কম হওয়ার কারণটা বলছি... ধরুন আপনি গাজীপুর জেলায় কোনো এক কোম্পানির সয়াবিন তেলের ডিলার। এখন আপনি ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল কোম্পানি থেকে এনেছেন। কিন্তু  বিক্রি করেছেন ৯০০ লিটার। অপরদিকে আপনার বাকি ১০০ লিটার তেলের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন ঐ ১০০ লিটার তেলের দায়ভার কিন্তু আপনার নয়। আপনি এগুলো কোম্পানি থেকে পুনরায় আনতে পারবেন। এ নিয়মটির ব্যতিক্রমও হতে পারে তবে সেটা চুক্তির উপর নির্ভর করবে। আপনি যদি কোনো কোম্পানির ডিলার হন তাহলে কোম্পানি আপনার কাছে  সবচেয়ে কম মূল্যে পন্য বিক্রি করতে হবে। এগুলো চুক্তি করে নিতে হয়।  সুতরাং ডিলারশিপ ব্যবসায় নামতে হলে দেখে শুনে বুঝে নামতে হবে নতুবা ব্যবসায় ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি কোনো বড় অথবা প্রসিদ্ধ কোম্পানির ডিলার হতে পারেন সেটাই ভালো হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে কোনো কোম্পানির ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে শেষে পুরো টাকাই জলে গিয়েছে। এভাবে প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিবেন না। ডিলারশিপ ব্যবসা করতে হলে আপনাকে দেখেশুনে করতে হবে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখেই এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন না। যাচাই-বাছাই করে নিবেন।

এবার আসি ডিলারশিপ ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন... ডিলারশিপ ব্যবসার নিয়ম কি......
কোনো কোম্পানির যখন কোনো অঞ্চলে ডিলার প্রয়োজন হয়, তারা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তাদের ওয়েবসাইটে, ইন্সটাগ্রাম, লিংকড-ইন, ফেসবুক পেইজে অথবা পোস্টারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। সেখানে আবেদনের নিয়ম দেয়া থাকে। কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে অনলাইনে  আবেদন করতে হয়, কোথাও সরাসরি আবার কোথাও দুভাবেই আবেদন করা যায়। আবেদনের পর কোম্পানির লোকজন আপনার আবেদন যাচাই-বাছাই করে আপনাকে ডিলার নিয়োগ দিবে। আর ডিলারশিপ ব্যবসায় কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হবে সেটা সুনির্দিষ্ট নয়। কোম্পানি কত বড়, তাদের সুনাম, বেচা কিনি কেমন তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলো আপনার কাছ থেকে বিনিয়োগ চাইবে। ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা লাগতে পারে। ডিলার হিসেবে বিনিয়োগ করার পূর্বে কোম্পানির অফিস কারখানা সব ঘুরে আসবেন। ডিলারশিপ ব্যবসায় বিনিয়োগের পদ্ধতি প্রধানত দু ধরনের হয়ে থাকে।

১.সিকিউরিটি মানি ইনভেস্টমেন্ট।

এ টাকাটা কোম্পানি আপনার কাছ থেকে ডিপোজিট রাখবে। আর এ টাকা কিন্তু একেবারের জন্য নিয়ে নিবে না। আপনার সাথে কোম্পানির  ডিলারশিপের চুক্তি শেষ হয়ে গেলে ফেরত দিয়ে দিবে। কত টাকা সিকিউরিটি মানি ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে নিবে সেটা কোম্পানি কত বড় এবং তাদের বেচা-কেনা কি-রকম তার উপর নির্ভর করে। কোনো কোম্পানির চাহিদা ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আবার কোনো কোম্পানির চাহিদা ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকাও হতে পারে। যদি কেউ এ ব্যবসায় নতুন নামে তাহলে তার খুব বেশি টাকা ইনভেস্ট না করাই ভালো হবে। এবং প্রথমেই বেশি টাকা দিয়ে বড় কোম্পানির ডিলার না হওয়ার পরামর্শই আমরা দিব।

২. পন্যের খরচের কিছু অংশ বিনিয়োগ
অর্থাৎ আপনি যে পন্য ক্রয় করবেন তার মূল্যের একটা অংশ আপনাকে অগ্রিম বিনিয়োগ করতে হবে এবং বাকি টাকাটা পরে অর্থাৎ আপনার পন্য বিক্রির পরে পরিশোধ করতে হবে।

উপরে উল্লেখিত দুভাবেই এ ব্যবসা করা যায়। কোনো কোম্পানি প্রথম উপায়ে ডিলার নিয়োগ দেয় আবার কোনো কোম্পানি দ্বিতীয় উপায়ে।
আর ডিলারশিপ ব্যবসা মূলত চুক্তি নির্ভর। আপনি কত দিনের জন্য ডিলার সেটাও চুক্তি করে নিতে হবে। এছাড়া আরও কিছু শর্ত যেমন দাম, মেয়াদোত্তীর্ণ পন্যের বিষয়, আপনার অঞ্চলের সীমানা এই সকল বিষয় নিয়ে স্ট্যাম্প করে নিবেন। কখনও কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ পন্য ফেরত নেওয়ার সময় পুরো পরিবহন খরচ দেয় কখনও আংশিক খরচ দেয় আবার কখনও দেয়না। এসকল বিষয় নিয়ে কোম্পানির সাথে আলোচনা করে চুক্তি করে নিবেন। প্রায় সময় দেখা যায় যে চুক্তি না থাকার কারনে হঠাৎ ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যায়। এতে করে ব্যবসায়ীদেরকে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। সুতরাং ঠিকমতো চুক্তি করে নিবেন আর যদি বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে কোনো আইনজীবীর সাহায্য নিবেন।

ডিলারশিপ ব্যবসা শুরু করতে আপনার একটি গোডাউন লাগবে। তারপর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ট্রেড লাইসেন্স এর দরকার হবে।

এবার আসি এস আর নিয়ে। ডিলারশিপ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি। এস আর মানে হচ্ছে সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ। অর্থাৎ বিক্রয় প্রতিনিধি। অনেক ডিলারশিপ ব্যবসায়ীরা একা পন্য বিপণন করতে পারেনা। তাদেরকে এস আর তথা বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হয় এবং এই বিক্রয় প্রতিনিধিরাই ব্যবসায়ী বা গ্রাহকদের কাছে পন্য পৌঁছে দেয়। এখন সমস্যা হচ্ছে এস আর নিয়োগ কে দিবে? কোম্পানি নাকি ডিলার? এটার সমাধান হল চুক্তি। প্রথমে কোম্পানির সাথে যে চুক্তি করেছেন সেখানে উল্লেখ করবেন যে এস আর কে নিয়োগ দিবে? যদি কোম্পানি নিয়োগ দেয়, সেটাতো ভালো। আপনাকে অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হবেনা কিন্তু ডিলারশিপ কমিশনটা একটু কম পাবেন। আর যদি আপনাকে এস আর নিয়োগ দিতে হয় সেটাও খারাপ নয়, আপনি আপনার পছন্দমত এস আর নিয়োগ দিবেন পাশাপাশি ডিলারশিপ কমিশনটা বেশি পাবেন।

তারপর আসি কোন ধরনের পন্যের ডিলারশিপ নেওয়া যায়? এবং কোন ধরনের পন্যের ডিলারশিপ নিলে লাভজনক হবে?
ইলেকট্রনিক পন্য যেমন ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট, ইলেকট্রিক তার, আয়রন, ওয়াশিং মেশিন এসব পন্যের ডিলারশিপ নেওয়া যেতে পারে। এ ব্যবসা অনেক লাভজনক হবে যদি আপনি কোনো বড় ব্রান্ডের ডিলার হতে পারেন। খাদ্যপন্য যেমন  ব্রেড, চিপস, চানাচুর, বিভিন্ন ধরনের  চকলেট, বিস্কুট ইত্যাদি জাতীয় খাদ্যপন্যের ডিলারশিপ নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের পন্যের ডিলারশিপ ব্যবসা পুরোপুরি ব্রান্ড ভ্যালুর উপর নির্ভর নয়। বাংলাদেশের অনেক স্থানেই বড় বড় ব্রান্ডের ফুড প্রোডাক্টের চেয়ে স্থানীয় ফুড প্রোডাক্টগুলোর ব্যবসা ভালো চলে। সুতরাং এক্ষেত্রে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। দক্ষ এস আর নিয়োগ দিতে হবে। তারপর মোটরসাইকেলের ডিলারশিপও নিতে পারেন। এটাও ডিলারশিপ ব্যবসাগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি ব্যবসা। সফট ড্রিংকস এবং মিনারেল ওয়াটারের ডিলারশিপও নিতে পারেন। কৃষি পন্যের ব্যবসাও ঊর্ধমুখী। সুতরাং এখানেও ডিলারশিপ নিতে পারেন।

ডিলারশিপ ব্যবসায় আপনি কোন পর্যায়ে থাকবেন সেটা আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা, মার্কেট প্লানিং  এবং সঠিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। আর এ ব্যবসায় অভিজ্ঞতা অনেক বড় কিছু। সুতরাং লেগে থাকতে হবে এবং সুযোগ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন। আর ডিলারশিপ ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। কর্মীদেরকে সবসময় হাসিখুশি রেখে তাদের থেকে সর্বোচ্চ কাজ আদায় করে নেওয়া। আপনাকে আপনার অধীনস্থদেরকে চাপ না দিয়ে সুন্দরভাবে কাজ আদায় করতে হবে।
আর আপনি যদি কর্মীদের চাপ দিয়ে কাজ আদায় করেন তাহলে প্রথমদিকে লাভবান হলেও পরে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।


উপরে উল্লেখিত ব্যবসা সম্পর্কে যদি কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত
গ্রামে খুব লাভজনক একটি ব্যবসা
আজ আমরা আপনাদের সাথে খুবই  লাভজনক এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করব। আপনি খুব সহজেই এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এবং এ ব্যবসা গ্রামেই বেশি সুবিধাজনক হবে। আর এ ব্যবসাটি হল গ্রামে সোলার প্যানেলের ব্যবসা।
সোলার প্যানেল নিয়ে দুধরনের ব্যবসা আপনি করতে পারবেন। আমরা সেই দুটি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আজকে আলোচনা করব।


সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে সৌর বিদ্যুৎ বলে। আমরা জানি সূর্যের আলো একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবেশ  দূষণ হয় না। মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিলও দিতে হয় না। আবার এতে লোডশেডিংয়ের ঝামেলাও নেই। সৌর বিদ্যুৎ আপনার টাকা সঞ্চয় করতে পারে। প্রথমে পুরো ডিভাইস ক্রয় এবং পাঁচ থেকে সাত বছর পর পর ব্যাটারি পরিবর্তন বাবদ খরচ ছাড়া আর তেমন কোনো খরচ নেই। ৮৫ থেকে ১০০ ওয়াটের সোলার হোম সিস্টেম হলেই লাইট, ফ্যান ব্যবহার, টিভি দেখা এবং মোবাইল চার্জ অনায়াসেই দেয়া যায়। বর্তমানে শুধু  বাংলাদেশে নয় পুরো বিশ্বে সৌর বিদ্যুৎের চাহিদা বেড়েই চলছে। আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করি সেখানকার মানুষ কিন্তু পুরোপুরি সরকারিভাবে সরবরাহকৃত  বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভর নয়। তারা নিজেদের চাহিদার প্রায় ৪০% বিদ্যুৎ নিজেদের সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদন করে এবং বাকি ৬০% বিদ্যুৎ সরকারি গ্রিড থেকে গ্রহন করে। এতে করে তাদের বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ এর চাহিদাও দিন দিন বেড়েই চলছে।
বর্তমানে শুধু বাংলাদেশেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮০০০০(আশি হাজার) সোলার সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৮% মানুষ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। গ্রামে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ বেশিরভাগ সময়েই থাকে না।

সুতরাং উপরের উল্লেখিত তথ্যসমূহ থেকে বুঝতেই পারছেন যে, সোলার প্যনেলের ব্যবসাটি খুবই লাভজনক এবং সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসা।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সোলার প্যানেলের ব্যবসাটি গ্রামেই বেশি সুবিধাজনক যদিও বর্তমান সময়ে শহরাঞ্চলেও এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অত্যন্ত লাভজনক এ ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে সোলার প্যানেলের ইতিহাস এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে একটু পড়াশোনা করে নিতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনা নয়। গুগলে একটু ঘাটাঘাটি করলেই মোটামুটি ধারণা হয়ে যাবে।
সোলার প্যানেলের ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে জানতে হবে যে মানুষ কি উদ্দেশ্য নিয়ে সোলার প্যানেল ক্রয় করে। সাধারনত সোলার প্যানেল ক্রয়ের উদ্দেশ্য দুইটি হয়ে থাকে। প্রথমটি হল যাদের ঘরে বিদ্যুৎ নেই তারা বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার জন্য সোলার প্যানেল ক্রয় করে থাকে। আর দ্বিতীয়টি হল, বিদ্যুৎ আছে কিন্তু বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য সোলার প্যানেল ক্রয় করে। এই দুই ধরনের মানুষদেরকেই আপনি গ্রাহক হিসেবে তৈরি করতে পারেন।
আপনি বিভিন্ন ভাবে এ লাভজনক ব্যবসাটি করতে পারেন। একটি হল আপনি পাইকারি ভাবে কয়েকটি সোলার ডিভাইস ক্রয় করে একটি ছোটোখাটো দোকান নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। মানুষের চাহিদা এবং আপনার পছন্দমতো ভালো কয়েকটি  কোম্পানির সোলার ডিভাইস ক্রয়  করবেন। তারপর দোকানে সাজিয়ে খুচরো ভাবে বিক্রি করবেন। আপনার দোকানে শুধু সোলার ডিভাইস নয়, পাশাপাশি সোলার সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য লাইট, ফ্যান, ব্যাটারি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পন্যও বিক্রি করতে পারেন।আপনার দোকানে সেলার পন্য কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তার নমুনা রাখবেন। আপনি প্রথম দিকে ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা দিয়ে এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এ ব্যবসাটি শুরু করতে কোন ক্ষেত্রে কত টাকা লাগতে পারে তার একটি হিসাব নিচে তুলে ধরছি.....
১.চারটি ছোটো আকারের  সোলার ডিভাইস - ৯০০০০ ৳
২.দোকানের এডভান্স - ২০০০০৳
৩. ফার্নিচার বাবদ - ২০০০০৳
৪.অন্যান্য ইলেকট্রনিক পন্য ক্রয় বাবদ- ২০০০০৳
৫.সরকারি লাইসেন্স ও অন্যান্য বাবদ -৮০০০৳
অর্থাৎ আমাদের ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা হলেই গ্রামে এ লাভজনক ব্যবসাটি শুরু করতে পারব। দোকান নেওয়ার ক্ষেত্রে দেখেশুনে নিবেন। মানুষের চলাচল বেশি এমন স্থানে দোকান নিবেন। আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন। শুধু আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন দিলেই হবে না, মানুষকে সোলার সিস্টেম ব্যবহারের উপকারিতাও বুঝাতে হবে। আর আপনার দোকানের গ্রাহক  বৃদ্ধির জন্য আরেকটি বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারেন। সেটি হল আপনার দোকানে মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা এবং বিকাশ, রকেট এবং নগদের ব্যবসাও চালু করতে পারেন। এটাও খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। এতে করে আপনার কিছু অতিরিক্ত টাকা আয় হলো, পাশাপাশি আপনার বিজ্ঞাপনের কাজটিও হয়ে গেল। সোলার সিস্টেম ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে কিছু লিফলেট সংগ্রহে রাখতে পারেন। আপনাদের আশেপাশে যখন কেউ নতুন বাড়ি বা ঘর নির্মাণ করে তাদেরকে সোলার প্যানেলের উপকারিতা সম্পর্কে লিফলেট দিবেন। তাদেরকে বুঝাবেন যে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে আপনার বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। এতে আপনার গ্রাহক বৃদ্ধি পাবে।
সোলার প্যানেলের ব্যবসার আরেকটি ধরন হচ্ছে কোনো সোলার ডিভাইস কোম্পানির ডিলার বা এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করা। অর্থাৎ কোনো কোম্পানির হয়ে নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করা। আপনি কোনো কোম্পানির ডিলার বা এজেন্ট হতে গেলে আপনাকে কোম্পানির সাথে কোনো চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হওয়া লাগতে পারে। সোলার ডিভাইস কোম্পানির ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি অফিসে গিয়ে আপনি ডিলারশিপের আবেদন করতে পারেন। গ্রাম অঞ্চলে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে আপনি কোনো সোলার ডিভাইস কোম্পানির ডিলার হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে এলাকায় সোলার সিস্টেমের চাহিদার উপর ভিত্তি করে আপনার আয় হবে। কারণ চাহিদা বেশি হলে বিক্রি বেশি হবে। আর আপনি নিজেই এলাকায় চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারেন। বিজ্ঞাপন এবং সঠিক উপায়ে মানুষকে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে উৎসাহিত করলে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে আপনি মাসে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন।

সোলার পন্যের ব্যবসা বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের জন্য দারুণ একটি ব্যবসার আইডিয়া। কারন উত্তরবঙ্গে সৌরবিদ্যুত এর চাহিদা বেশি।
এবার আসি সোলার সিস্টেমের উপর নির্ভর করে আরও এক ধরনের ব্যবসায়। এটি গ্রামে খুব লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া। শুধু তাই নয় এটা নতুন এক ধরনের ব্যবসার আইডিয়াও বটে।
এই ব্যবসার আইডিয়া বলার আগে কিছু তথ্য তুলে ধরছি..
যে সকল বাড়িতে সোলার সিস্টেম আছে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর বড় একটি অংশ আব্যবহৃত থেকে যায়। কারও মতে এ অব্যবহৃত বিদ্যুৎ  এর পরিমান ঐ সিস্টেমের মোট উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর ৩০%। সোলার প্যানেলে উৎপাদিত ব্যাটারির স্টোরেজে জমা হয়। কিন্তু ব্যাটারির স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে সোলার প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আর জমা হয় না। আর এ অব্যবহৃত বিদ্যুৎ এর অপচয় বন্ধ করে তা থেকে অপরের বিদ্যুৎ এর চাহিদা পূরণ করেও টাকা আয় করা যায়। কিভাবে তা বলছি...
সোলবক্স ডিভাইস নামক একটি ডিভাইস রয়েছে। এই ডিভাইস দ্বারা আপনার সোলার প্যানেলের ব্যাটারির স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে এরপর প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ছোটোখাটো একটি গ্রিডে যুক্ত হবে। এখানকার বিদ্যুৎ যাদের সোলার প্যানেল নেই তারাও ভোগ করতে পারবে। আপনার যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারনে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়, আপনিও সেখান থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি সোলবক্স ডিভাইস ব্যবহার করে এ ব্যবসা করতে পারেন। এক্ষেত্রে যাদের থেকে বিদ্যুৎ নিবেন তাদেরকে আপনি তাদের বিদ্যুৎ বিক্রয় করে যে অর্থ পাবেন তার একটি অংশ দিবেন। এতে সকলেরই আয় হবে এবং আগ্রহ বাড়বে। বর্তমানে সোলশেয়ার নামক একটি প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসা করে ভালো নাম কুড়িয়েছে।

সবশেষে বলব যে ব্যবসায় উন্নতি পেতে চাইলে মানের দিকে খেয়াল রাখবেন। সোলার ডিভাইস বিক্রি করলে খারাপ মানের ডিভাইস গ্রাহকদেরকে বুঝিয়ে দিবেন না। আপনি যদি সবসময় ভালো মানের পন্য বা সেবা দিতে পারেন তাহলে সর্বশেষে আপনিই বাজারে টিকে থাকতে পারবেন। যদিও এতে দাম একটু বেশি পড়বে। আর এ সম্ভাবনাময় ব্যবসাটি শুধু গ্রামে নয় শহরেও খুব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

আজকের আলোচনা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।
ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
৫ লাখ টাকায় শুরু করুন মবিলের আমদানি ব্যবসা
আজকের ব্যবসার আইডিয়া টি একদম বাস্তব ও লাভজনক ৷ মাত্র ৫ লাখ টাকা ইনভেষ্ট করে আপনি ১ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন ৷ বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে ৷ 

বর্তমানে লুব্রিকেন্ট হলো একটি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু ৷ দিন যত গড়াচ্চে এটার চাহিদা তত পরিমানে বাড়তেছে ৷ অধিকাংশ যানবাহনেই এই লুব্রিকেন্ট বা মবিলের প্রয়োজন হয় ৷ এটা কোন পচনশীল দ্রব্যও না ৷ দিন দিন এটার দাম বৃদ্ধি হয় কিন্তু কমে না ৷  আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না এই মোবিল কি দামে আমদানী করে কত দামে বিক্রি করা হয় ৷ বর্তমানে এটি খুবই একটি লাভজনক ব্যবসা ৷  কিন্তু এটি যেহেতু জ্বালানি তৈল সেহেতু এই পন্য আমদানী করতে সরকারী বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয় ৷ এই লাইসেন্স খুবই দুর্বল আর প্রচুর ব্যায় সাধ্য ব্যাপার ৷ 

কিভাবে শুরু করবেন এই ব্যবসা ?
যেহেতু আমদানী করতে সরকারী বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয়, আপনাকে প্রথমেই কোন আমদানীকারকের সাহায্য নিতে হবে যাদের অলরেডি এই লাইসেন্স আছে ৷ কিন্তু এজন্য লাইসেন্সের মালিক কে প্রতি লিটরে কিছু কমিশন প্রদান করতে হবে ৷ 
তবে আজকে আমি আপনাদের জন্য একজন আমদানীকারককে উপস্থাপন করবো যিনি আপনাদের থেকে কোন লাইসেন্স ফি নিবেন না ৷ আপনি পন্যের দুবাইতে ক্রয় মুল্য  সমপরিমান টাকা, ট্যাক্স, ভাড়া প্রদান করলেই পন্য পেয়ে যাবেন ৷ সরাসরি আমদানী মূল্যে ৷ মিনিমাম ৫ লাখ টাকার লুব্রিকেন্ট আমদানী করতে হবে ৷ আখি ট্রেডিং, মতিঝিল, ঢাকা ৷ ২০ বছরের ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আব্দুল ওহাব ভাই তরুনদের সাহায্য করতে চলে এসেছেন ৷ আমার খুবই কাছের মানুষ এবং একজন চরম সৎ, নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী ৷   

কত টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে ?
৫ লাখ টাকা মনিনাম ইনভেষ্ট করতে হবে ৷ এই টাকায় আপনি লুব্রিকেন্ট, গ্রিজ, গিয়ার ওয়েল ইত্যাদি পাবেন ৷ তবে সবকিছু নির্দিষ্ট ব্রান্ডে হবে ৷ কেউ যদি নিজস্ব ব্রান্ডে পন্য নিতে চান তবে নূন্যতম ২০ ফিট হাফ কন্টেইনার আমদানী করতে হবে ৷ তার মানে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা ৷ 

বিক্রি করবে কে ? 
আপনার পন্য আপানকেই বিক্রি করতে হবে ৷ আপনার যদি নিজস্ব দোকান থাকে তাহলে এটা সবচেয়ে ভালো ৷ আর যদি নিজস্ব দোকান না থাকে তবে আখি ট্রেডিং এর পক্ষ থেকে পন্য বিক্রির সকল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ৷ ভিডিওর শেষে আমি তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে দিবো ঐ মোবাইলে যোগাযোগ করলেই বিস্তারিত বলে দিবে ৷ 

পন্য যদি সেল না হয় ? 
দেখুন মার্কেটিং এ একটা কথা আছে, না বলতে কোন শব্দ নেই ৷ সেল হবেনা কেন ? এই পন্য নিয়ে আব্দুল ওহাব ভাই কোটি টাকার ব্যবসা করতেছেন ৷ আপনি পারবেন না কেন ? আপনাকে পারতে হবে ৷ একদিন নিজের ব্রান্ডের পন্য বাজারে বিক্রি করবেন সে লক্ষে মার্কেটিং শুরু করুন, ইনশাআল্লাহ্ সফল হবেন ৷ আপনার ব্যবসাকে সফল না হওয়া পর্যন্ত আখি ট্রেডিং আপনাকে সর্বত্নকভাবে সাহায্য করে যাবে ৷ 

লাভ কেমন হবে ? 
আমদানী পন্যে লাভ ২০%+- এর মত হয় ৷ ধরুন আপনি ৫ লাখ টাকার পন্য ৫ মাসে সেল করলেন ৷ তাহলেও কিন্তু প্রতি মাসে ২০০০০ লাভ করতে পারবেন ৷ যদি ১০ মাসে সেল করেন তাহলেও প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ৷ 

সবাই যদি আমদানী করে সেল করবো কোথায়?
অনেকেই এই প্রশ্ন করবেন ৷ এজন্যে আব্দুল ওহাব ভাই প্রতি জেলাতে ১ জন করে আমদানীকারক দিবেন ৷ ডজন ডজন আমদানীকারক দিবেন না ৷ সৌভাগ্যবান এক জন উদ্যোক্তাই পাবেন এই সুযোগ ৷

আব্দুল ওহাব ভাইয়ের মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭০৮-৮৯৯৫০১
বিস্তারিত
গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া
গ্রামে আপনি চাইলেই যেকোনো ব্যবসা করতে পারবেন না। আপনার পরিবার বা বংশপরিচয়ের দিকে তাকিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়। শহরে কিন্তু এরকমটা হয় না। আজ গ্রামে সম্মানজনক একটি ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করব। আর সেটি হল গ্রামে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার।

এই ব্যবসাকে প্রচুর সম্ভাবনাময় ব্যবসা বলতে পারেন। গ্রামের ছাত্ররা বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে আয়ের উপর অনেক আগ্রহী। যার জন্য  গ্রামের ছাত্রদের বড় একটি অংশ কম্পিউটার শিক্ষার জন্য শহর কেন্দ্রীক কোনো প্রশিক্ষন কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের কষ্ট এবং খরচ দুটিই অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়। এখন আপনি উক্ত শিক্ষার্থী এবং গ্রামের তরুন সমাজকে কম্পিউটার পারদর্শী করে তাদের ভবিষ্যৎ এবং আপনার নিজের আয়ের মাধ্যম গড়ে তুলতে পারেন। এজন্য  আপনাকে গ্রামাঞ্চলের কোনো বাজারে যেখানে মানুষের সংখ্যা মোটামুটি বেশি সেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দিতে হবে। আর সেখানে অবশ্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো হতে হবে।আপনি নিজে কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষ হতে হবে, এবং আরও দু- তিন জন সহকারীর প্রয়োজন হবে। যদি আপনি কম্পিউটারের উপর বিশেষজ্ঞ না হন তাহলেও চলবে।


সবকিছুর উপরে আপনাকে মানের উপর খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে ভালো মানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলে আপনার ব্যবসা সফল হবে। আপনারা কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। যেমন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি  বিষয়ের উপর ট্রেনিং প্রদান করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করতে হয় ছাত্রদেরকে এটাও শিখিয়ে দিবেন। এতে আপনাদের কোর্সের ফলাফল ছাত্ররা ভোগ করতে পারবে। এবং যখন ছাত্ররা কোর্স শেষে নিজেরা আয় করতে পারবে তখন কোর্সের চাহিদা বেড়ে যাবে।

আপনাকে চার পাঁচটি কম্পিউটার, চেয়ার টেবিল, ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে। একটি দেকান নিয়ে সেটিকে দুটি অংশে ভাগ করে একটি অফিসরুম হিসেবে এবং অপরটি প্রশিক্ষণরুম হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।দোকানের এডভান্স, ফার্নিচার, কম্পিউটার সহ ২.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে  হয়ে যাবে।
কি পরিমাণ টাকা লাগতে পারে তার একটি হিসাব নিচে দেওয়া হল....
১. চারটি কম্পিউটার বাবদ- (৪০০০০×৪)= ১৬০০০০৳
২.ফার্নিচার বাবদ- ৩০০০০৳
৩.দোকানের অ্যাডভান্স বাবদ- ২০০০০৳
৪. বিজ্ঞাপন বাবদ- ১০০০০৳
৫.সরকারি লাইসেন্স রেজিষ্ট্রেশন -১০০০০৳
আমাদের মোট দাড়ায় ২৩০০০০৳।



এবার আসি কি পরিমাণ আয় হবে...

আসলে আপনার আয় মুলত দুইটি জিনিসের উপর নির্ভর করবে। প্রথমটি হল আপনার সেবার মান। আপনারা যদি ভালোমানের কোর্স প্রদান করতে না পারেন তবে ছাত্র তেমন একটা আসবে না। তাই প্রশিক্ষণের মানের দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হল আপনার প্রচার।
প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য ভালো এবং কার্যকরী বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে। বিভিন্ন স্কুল কলেজের নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীদের  বিনামূল্যে অথবা বিশেষ ছাড়ে কোর্সে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিবেন। তাছাড়া ব্যানার, পোস্টারের মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাবেন।
আপনার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আপনি ৩০০০০৳ থেকে, ৫০০০০৳ খুব সহজেই আয় করতে পারবেন। গ্রামে ব্যবসা করে এই পরিমান আয় খুবই লাভজনক।
পাশাপাশি এই ব্যবসা সম্মানজনকও বটে।
শুধু প্রশিক্ষণ নয় আপনার কম্পিউটারগুলো দিয়ে আপনি চাইলে আরও কয়েক ধরনের ব্যবসা করতে পারেন। যেমন আপনি আপনার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে সাইবার ক্যাফে হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ঘন্টা হিসেবে আপনি ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার ভাড়া দিতে পারেন। শুধু তাই নয় আপনার এলাকার মানুষের চাকরির আবেদন বা ভিসার আবেদন, ছাত্রদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদনের কাজ ইত্যাদি  আপনি করে দিতে পারেন।
আবার আপনাদের ক্লাস ভিডিও করে ইউটিউব ফেসবুকে থেকেও আয় করতে পারেন।
সবশেষে এটা বলব যে ব্যবসা করা খুব সহজ নয় আর পরিশ্রমী হলে খুব কঠিনও নয়। পরিশ্রম করতে হবে মেধা খাটিয়ে। তাহলেই সফল হবেন।

আজ যে ব্যবসাটি নিয়ে আলেচনা করা হয়েছে সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
alibaba online shopping এর ইতিহাস
যারা আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় নতুন আছেন তাদের অধিকাংশই জানেন না যে আলিবাবা কি? এমনকি বড় বড় ব্যবসায়ীরাও আলিবাবা জিনিসটা কি সেটার উত্তর জানেন না অথবা উত্তর খুঁজেছেন কিন্তু মনমতো উত্তর পাননি। যেকোনো ব্যবসায়ীদের জন্যই আলিবাবা সম্পর্কে জানা উচিত। আজকের আলোচনায় আমরা জানবো আলিবাবা আসলে কি? তাদের কাজ কি? আমি আলিবাবা থেকে কিভাবে উপকৃত হব? তাছাড়া আলিবাবা থেকে কিভাবে পন্য আনবো, কোন ধরনের পন্য আনবো,কিভাবে পন্য এবং বিক্রেতা যাচাই করব, এই সম্পর্কিত আরও অনেক তথ্য আমরা ইতিমধ্যেই দিয়েছি। আপনি চাইলে দেখে আসতে পারেন।আজ আমরা  প্রাথমিক ধারনা থেকেই শুরু করব। চলুন শুরু করা যাক।


আলিবাবা হলো একটি চাইনিজ মাল্টিন্যাশনাল অর্থাৎ বহুজাতিক একটি ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। আলিবাবা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রতিষ্ঠানের একটি। আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা হলেন ১৯৬৪ সালের ১৫ই অক্টোবরে চীনের একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তান  "জ্যাক মা"। জ্যাক মা যখন কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হন তখনই তার মাথায় ই-কমার্স ব্যবসার আইডিয়া চলে আসে। তারপর তার আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে ৪ এপ্রিল ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আলিবাবা। আলিবাবার নামকরণ করা হয় সেই বিখ্যাত আরব গল্প "আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর" গল্প থকেই। আলিবাবাকে ব্যবসায়ীদের একটি প্লাটফর্মও বলতে পারেন। এখানে মূলত পন্য বেচাকেনা হয়। বিশ্বের যত ধরনের পন্যই বলুন না  কেনো আলিবাবায় আপনি প্রায় সবগুলোই পাবেন। আপনি আপনার যেকোনো পন্যও এখানে বিক্রি করতে পারেন। তার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার নামে বা আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তার পর আলিবাবাতে পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে হবে। তারপর বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যখন কোনো বায়ার ঐ পন্য সম্পর্কে সার্চ করবে তখন সে আপনার বিজ্ঞাপনটিও দেখতে পাবে। তারপর সে আপনার সাথে যোগাযোগ করে পন্য ক্রয় করবে। আবার আপনার কোনো ধরনের পন্যের প্রয়োজন হলে আলিবাবা থেকে ক্রয় করতেও পারেন। তবে পন্য ক্রয় করতে আপনার অ্যাকাউন্ট  না থাকলেও হবে।
ব্যবসা শুরু করার প্রথম বছরেই আলিবাবা প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পায় আমেরিকার বিখ্যাত Golden Sachs এবং জাপানের বিখ্যাত Soft Bank থেকে। ব্যবসায় প্রথম লাভের মুখ দেখতে আলিবাবাকে প্রায় ৩ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আলিবাবার প্রথম লক্ষ ছিল শুধু চীনের সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান করবে। কিন্তু আলিবাবার ব্যবসা এখন পুরো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। আর বর্তমানে চীনের বাইরে আলিবাবার সেলার থেকে বায়ারের সংখ্যা বেশি। এমনকি চীনে বিশ্বের বড় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান E-Bay ব্যবসা করতে গিয়ে আলিবাবার কারণে টিকতে পারেনি। চীনভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখে  Yahoo আলিবাবায় টাকা বিনিয়োগ করার চিন্তা ভাবনা শুরু করে এবং শেষে ২০০৫ সালে  Yahoo প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে ৪০% শেয়ার কিনে নেয়। আর সেই ৪০% শেয়ারের বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

বর্তমানে আলিবাবা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় জড়িয়ে পরছে। তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে ব্যবসা করছে। আলিবাবা ক্লাউড, আলিপে, তাওবাও, টিমল, পে টিএম, আলি এক্সপ্রেস, আলিমামা, আলিওয়াংথেং এগুলো সব আলিবাবার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এমনকি বাংলাদেশের দারাজ নামক প্রতিষ্ঠানটিও সম্পুর্ণ মালিকানাধীন। বাংলাদেশের খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান হাংরিনাকি, এটাও আলিবাবার মালিকানাধীন। বি টু বি, বি টু সি, সি টু সি সকল ধরনের ব্যবসাই বর্তমানে আলিবাবা করছে। তারা প্রায় ২০০টি দেশে ছড়িয়ে আছে।
আশা করি আলিবাবা সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারনা পেয়েছেন। আপনার মতামত বা কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
অ্যাকোয়ারিয়ামের সাকার ফিশ কেন জলাশয়ের মাছ চাষীদের মাথা ব্যথার কারণ?

বাংলাদেশে সাকার ফিশের পরিচিতি মূলত শহুরে লোকের কাছে। বাড়িতে বা অফিসে রাখা অ্যাকোয়ারিয়ামে রংবেরং এর মাছের মধ্যে কালো শরীরে হলুদ ছোপের এই মাছ দেখা যায় প্রায়ই। অনেকে একে চেনেন অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছের ময়লা খেকো মাছ হিসেবে, কারণ শোভা বর্ধনের পাশাপাশি মাছের বর্জ্য এবং অ্যাকোয়ারিয়ামের অন্যান্য ময়লা খেয়ে ফেলে এই মাছ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্মুক্ত জলাশয়ে পাওয়া যাচ্ছে এই মাছ।

কিছুদিন আগে ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের পেছনের পুকুরে বড় আকারের একটি সাকার ফিশ পাওয়া গেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কী করে শখের মাছ পালনকারীদের অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লো এই মাছ তা স্পষ্ট নয় এখন পর্যন্ত, কিন্তু এরই মধ্যে এই মাছ জলাশয়ের মাছ চাষীদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মাছের নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ, অথবা কমন প্লেকো। ক্যাটফিশ মানে শিং-মাগুর জাতের এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস। মুখের আকারে জলহস্তীর সাথে মিল থাকায় এই নামকরণ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, এই মাছের অনেকগুলো প্রজাতি আছে, এর মধ্যে যেটি বাংলাদেশে পাওয়া যায়, সেটি আকারে বেশি বড় নয়। ১৬-১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এই মাছ।

মি. মাহমুদ বলেছেন, এই মাছটি শিকারি জাতের নয়, বরং এটি তার মুখ দিয়ে শুষে বা চুষে খাবার খায়। মিঠাপানির এই মাছটির শরীর অমসৃণ। পিঠের উপরে ও দুই পাশে রয়েছে তিনটি বড় কাটার মত পাখনা, যা ধারালো। মুখের মধ্যে রয়েছে ধারালো দাঁত। এরা জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরণের ছোট মাছ খেয়ে থাকে। পৃথিবীর কোন দেশেই এই মাছ খাওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ নয়, বরং এটি অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ হিসেবেই পরিচিত।

ভয়ংকর একটি মাছের নাম সাকার ফিশ। এই সাকার ফিশ দ্রুত বংশবিস্তার ও প্রচুর খাদ্য গ্রহণের কারণে জলাশয়ের অন্যান্য প্রাণী হুমকির মুখে পড়ে। ইতোমধ্যে এই মাছের কারণে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে মিয়ানমার ও আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ। বর্তমানে আগ্রাসী এই মাছ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের উন্মুক্ত জলাশয়েও।

ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌর এলাকার আউশিয়া গ্রামের রশিদার রহমান জানান, তিন-চার বছর আগে অন্য মাছের পোনার সঙ্গে অদ্ভুত এই মাছটি পুকুরে আসে। এখন এই মাছের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তিনি। পুকুর থেকে কোনোভাবেই নিধন করা যাচ্ছে না। স্থানীয় বিভিন্ন খাল-বিল, নদীতেও এটি প্রচুর পরিমাণে দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে এই মাছের বিস্তার বিষয়ে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়া এই মাছের জীবনধারণের জন্য খুবই অনুকূল। দ্রুত মাছটির বিস্তার বন্ধ করা না গেলে বাংলাদেশের মাছ চাষিরাও মিয়ানমারের মৎস্য খামারিদের মতো ঝুঁকিতে পড়বেন।

বিষ প্রয়োগে এই মাছ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, জলাশয় একেবারে শুকিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু উন্মুক্ত জলাশয় থেকে নির্মূলের উপায় এখনও জানিনা আমরা। সে ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন করতে হবে, যেন কোথাও মাছটি পাওয়া গেলেই সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া সাকার ফিশ ধরার পর শুকিয়ে অন্যান্য মাছ ও পশুপাখির খাবারও তৈরি করা যায়।

এদিকে এই মাছের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে মিয়ানমার টাইমস জানিয়েছে, এই মাছ প্রচুর খাদ্য গ্রহণের কারণে জলাশয়ের অন্যান্য মাছ খাদ্য সংকটে পড়ে। এ ছাড়া এই মাছের আঘাতে অন্য মাছের শরীরে ঘা ও ইনফেকশন হয়ে যায়। আক্রান্ত মাছগুলো খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। এতে মাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, একপর্যায়ে সেগুলো মারা যায়। ফলে সাকার ফিশের উপদ্রবে অনেক মৎস্য খামারি পথে বসেছেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ দলও এনেছিল মিয়ানমার, কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি।

কিভাবে এলো বাংলাদেশে?

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত নব্বইয়ের দশকে অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে সাকার ফিশ আমদানি করা হয় বাংলাদেশে।
সাকার ফিশ বাংলাদেশে এখন নদী, খাল বা পুকুরের মত মুক্ত জলাশয়ে ধরা পড়ছে এই মাছ দেশে যে ধরণের সাকার ফিশ দেখা যায়, সেটা মূলত ব্রাজিল থেকে আনা হয়েছিল। এরপর স্থানীয় অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায়ীদের হাত ধরে দেশে এই মাছের চাষ প্রাথমিকভাবে শুরু হয়।

জলাশয়ে কিভাবে গেল?

অ্যাকোয়ারিয়ামের শোভা-বর্ধনকারী এই মাছ কিভাবে দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লো সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন গবেষণা নেই দেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদা হক বলেছেন, কিভাবে এ মাছ ছড়িয়ে পড়েছে, তার তথ্য তেমন জানা যায় না। কিন্তু ধারণা করা হয়, স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ চাষ করছিলেন, কেউ হয়ত অ্যাকোয়ারিয়ামে জন্য সরবারহ করার জন্য, কেউবা শৌখিনভাবে করেছেন। তিনি বলেছেন, হয়ত এসব জায়গা থেকেই কেউ অসাবধানে ছেড়ে দিয়েছে, যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়েছে মুক্ত জলাশয়ে।

এছাড়া এই মাছের মধ্যে লাফানোর প্রবণতা থাকায় তারা এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে বর্ষার সময় যখন নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে পানি বাড়ে সেখান থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই মাছ। মাছটি পানি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।

মৎস্য বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা বলছেন, শুরুতে মূলত উপকূলীয় কয়েকটি জেলার জলাশয়ে, অর্থাৎ পুকুর, খাল এবং নদীতেও এই মাছ দেখা গেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে হবিগঞ্জ কিংবা রংপুরের মত জেলা যা উপকূল থেকে দূরে সেখানকার জলাশয়েও দেখা গেছে এই মাছ।

স্থানীয় হাটবাজারেও অন্যান্য মাছের সাথে বিভিন্ন সময়ে এই সাকার ফিস দেখা যায়। মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে অনেক সময়ই মাছ চাষিরা অভিযোগ করেন যে তাদের ঘেরে চাষের মাছ খেয়ে ফেলছে এই মাছ। যে কারণে তাদের উদ্বেগের কথা স্থানীয় পর্যায়ে তারা জানিয়েছেন অনেক সময়।

জলাশয়ের মাছের কী ক্ষতি করে?

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের শিক্ষক হালিমা জাহান বলেছেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের ওপর সাকার ফিশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মুখের ভেতরে ছোট ছোট ধারালো দাঁত আছে এই মাছের তিনি বলছেন, "এটি জলাশয়ের জলজ পোকামাকড়, শ্যাওলা এসবের সঙ্গে সঙ্গে অন্য ছোট ছোট মাছ বা মাছের পোনা খেয়ে ফেলে। ফলে চাষিদের সমস্যা হয়।" আবার সাকার ফিশের পাখনা খুব ধারালো, দেখা যায় অন্য মাছের সঙ্গে লড়াই করার সময় সেগুলোর শরীরে সহজেই ক্ষত তৈরি হয়। এই ক্ষত দ্রুত পচন ধরিয়ে দেয়, এবং ফল হয় অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু। ফলে মাছের সংখ্যা অনেক কমে যায়।

মৎস্য আইন ২০১১ অনুযায়ী বাংলাদেশে দেশীয় প্রজাতির মাছের ক্ষতি সাধন হয় এমন যে কোন বিদেশি মাছ চাষ দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে, মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, সাকার ফিশ শিকার করে না, বরং সে চুষে বা শুষে একসঙ্গে প্রচুর খাবার খায় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তিনি বলেন, "যে কারণে যে কোন মুক্ত জলাশয়ে থাকা অন্য মাছের সঙ্গে আবাস এবং খাদ্যের যোগান নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। তাতে অনেক সময়ই দেশীয় জাতের মাছ টিকে থাকতে পারে না।" সেইটি একটি ক্ষতি, আর সে কারণে এই মাছের চাষে উৎসাহ দেয়া হয় না।

কিন্তু মি. মাহমুদ মনে করেন, চাষের মাছের ক্ষেত্রে এ মাছ উপকারী হতে পারে। কারণ ড্রাম বা হাপায় করে যখন মাছ চাষ করা হয়, তার গায়ে অনেক সময় যে শ্যাওলা জমে সেটি সাকার ফিশ খেয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে পারে, তাতে মাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে না।

কিভাবে নিরাপদ থাকা যাবে?
সাকার ফিশের কারণে ইতোমধ্যে মিয়ানমার ও আরব আমিরাতের মৎস্য চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক মি. মাহমুদ বলেছেন, মিয়ানমারে যে জাতের সাকার ফিশ দেখা যায় সেটি আকারে অনেক বড়। বাংলাদেশে যে জাতের সাকার ফিশ দেখা যায় সেটি খুব আকারের নয়। কোন জলাশয়ে যদি সাকার ফিশ দেখা যায় তাহলে সেটি জাল দিয়ে ধরে তুলে ফেলার পরামর্শ দেন মি. মাহমুদ। তবে এটি ক্যাটফিশ জাতের হওয়ায় জলাশয়ের একেবারে নিচের স্তরে থাকে, ফলে সরিয়ে ফেলার কাজটি খুবই কঠিন। গবেষকেরা বলছেন, যেহেতু দেশীয় মৎস্য খাতে গত কয়েক দশকে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটেছে, সে কারণে এ খাতে সুরক্ষা দেয়ার জন্য দেশীয় মাছের জন্য যা সহায়ক নয়, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

বিস্তারিত
৫০ হাজার টাকায় শুরু করুন মোজারেলা চিজ তৈরির ব্যবসা

মোজারেলা চিজ বর্তমানে একটি নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার ৷ দিন দিন মানুষের ফাস্ট ফুডের প্রতি আগ্রহ বাড়তেছে আর চাহিদা বাড়তেছে মোজারেলা চিজের প্রতি ৷  বর্গার, পিজ্জা সহ প্রায় অধিকাংশ ফার্স্ট ফুডে লাগে মোজারেলা চিজ ৷ এখন মানুষ বাসা বাড়িতে ও ব্যবহার করতেছে মোজারেলা চিজ ৷

দেশে প্রতিবছর প্রায় 20 শতাংশ হারে মোজারেলা চিজের বাজার বাড়ছে। অথচ, এখানে নতুন উদ্যক্তা, বিনিয়োগ সবই সংকট। অনেকেই জানেন না এই মোজারেলা চিজ কি কাজে লাগে বা এটার বাজার কোথায় ৷ আগে এই মোজারেলা চিজ বিদেশ থেকে আমদানী করা হতো ৷ কিন্তু দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাড়াতে এখন দেশেই উৎপাদন করা হচ্ছে এই মোজারেলা চিজ ৷  বাংলাদেশের  ঠাকুরগায়ে গড়ে উঠছে মোজারেলা চিজ তৈরির কারখানা ৷ তবে বর্তমানে তাদের প্রতিদন্ডি নেই বলে এসব কারখানা গুলোর মনোপলি মনোভাব খুব বেড়েছে ৷  তারা একক ভাবে ব্যবসা করে অনেক ভালো আয় করতেছে ৷

সম্ভাবনার বিজনেস হিসাবে এখানে কেউ আসতে পারেন।বিশেষ করে তরুন উদ্যক্তাগন এসব সেক্টরে এসে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বর্তমান বাজারে যে চাহিদা আছে,  তাতে প্রতি মাসে 40 টন চিজের প্রয়োজন। যে কারখানা রয়েছে তাতে প্রয়োজন মেটাতে হিমসিম খাচ্চে ৷ এজন্যে প্রয়োজন আরো 25-30 টা কারখানা ৷  তবে যত্রতত্র এসব কারখানা দেওয়া যাবেনা যেসব যায়গায় জায়গায় গরুর দুধ সহজলভ্য সেসব স্থানে এই কারখানা দিতে পারেন।

10 কেজি দুধে এক কেজি চিজ হয়। লাভাংশ 20-30 টাকা প্রতি কেজি তে থাকে। নিজের জায়গা ও ঘর থাকলে, ৪০-৫০ হাজার টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা শুরু করা যায়।  খুব বাজে পরিস্হিতি না হলে, দেড় বছরেই রিটার্ন তোলা সম্ভব।  পাশাপাশি, হাজার লোকের কর্মসংস্হান হবে,এ খাতে নতুন বিনিয়োগে।

মাত্র তিনটি উপাদানে তৈরি করা হয় মজরেলা চিজ / mozzarella cheese recipe

আমাদের দেশে এখন পিজ্জা , পাস্তা, স্যান্ডউইচ থেকে শুরু করে ফাস্টফুড, বিদেশি খাবার অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকে এখন ঘরেই বানিয়ে ফেলেন মজাদার এই আইটেমগুলো।
এগুলোতে ব্যবহার হয় প্রচুর পরিমাণ মজেরেলা চিজ। যা খাবারকে করে অনেক সুস্বাদু। কিন্তু, এই মজেরলা চিজ এর দাম অনেক বেশি।
তবে আপনি চাইলে ঘরেই অনেক অল্প সময়ে মাত্র তিনটি উপাদান দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন পারফেক্ট মজেরলা চিজ।

উপাদান -
১।দুধের ছানা,
২। ঘি
৩। লবণ

চিজ (Cheese)বানানোর প্রক্রিয়া :
১. ছানা, ঘি এবং লবণ সব একসাথে নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে যেন কোন দানা ভাব না থাকে।
সব একসাথে ব্লেন্ডারে দিতে হবে।  ব্লেন্ডার করার পর। কোন দানা ভাব থাকা যাবে না।
২. এবার মিশ্রণটি  একটি সিরামিকের বাটিতে চেপে চেপে বসাতে হবে।
৩. উপরে যদি বাড়তি ঘি ভেসে উঠে তবে তা টিস্যু পেপার দিয়ে ভালো ভাবে মুছে নিতে হবে।
৪. এবার প্লাস্টিক রেপিং দিয়ে ভালো ভাবে ঢেকে ফ্রিজে রাখতে হবে ২ ঘণ্টা।
৫. ফ্রিজ থেকে বের করে একটি ছুরি দিয়ে কিনারগুলো সাবধানে খুঁচিয়ে তুলতে হবে।
হয়ে গেল পারফেক্ট মজেরলা চিজ। এবার গ্রেড করে যে কোন খাবারে ব্যবহার করতে পারেন ঘরে তৈরি মজাদার চিজ।

প্রয়োজনীয় টিপস(Important Tips)-

১. সিরামিক বা প্লাস্টিকের বাটিই ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোন বাটি হলে চলবে না।
২.খেয়াল রাখতে হবে মিশ্রণে যাতে কোন দানা না থাকে। একটু ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে।
৩.প্লাস্টিক রেপিং না থাকলে ভারী কোন ঢাকনা দিয়েও ঢাকা যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন বাতাস ঢুকতে না পারে।

তাই, বেকার বসে না থেকে সামাজিক ব্যাবসার আদলে পুজি গড়ে, একটা বেইজলাইন স্টাডি করে, কারখানা দিন,ও নিজেরা বিপনন করেন। বেকারত্ব ঘুচান, স্বাবলম্বি হউন।

মাখনের চেয়ে চিজ কি বেশি স্বাস্থ্যকর?

আগে মাখন ও চিজের পুষ্টিগুণের একটা তুলনামূলক আলোচনা সেরে নেওয়া যাক।
পুষ্টিগত মূল্য (প্রতি ১০০ গ্রাম পিছু)

এনার্জি

মাখন>> ৭১৭ ক্যালোরি
চিজ >> ৩৪৯ ক্যালোরি

প্রোটিন

মাখন>> ০.৮ গ্রাম
চিজ >> ১৮ গ্রাম

ফ্যাট

মাখন>> ৮১ গ্রাম (যার মধ্যে ৫১ গ্রাম স্যাচুরেটেড ও ৩.৩ গ্রাম ট্র্যান্স ফ্যাট)
চিজ >> ৩২ গ্রাম (যার মধ্যে ১৮ গ্রাম স্যাচুরেটেড ও ১.১ গ্রাম ট্র্যান্স ফ্যাট)

ভিটামিন

মাখন>> ২৪৯৯ ভিটামিন-এ ছাড়াও এতে থাকে ভিটামিন কে এবং ই, নিয়াসিন, রিবোফ্ল্যাভিন, প্যান্টাথেনিক অ্যাসিড ও ফোলেট।
চিজ >> ৯৪৫ আই ইউ ভিটামিন-এ ছাড়াও এতে থাকে সামান্য পরিমানে ভিটামিন কে, ই, বি৬, বি১২ এবং রিবোফ্ল্যাভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ফোলেট ও বিটাইন।

মিনারেল

মাখন>> ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফসফরাসের সমৃদ্ধ উৎস। এ ছাড়াও মাখনে সোডিয়াম, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক ও ফ্লোরাইড থাকে।
চিজ >> ১০৪৫ মিগ্রা ক্যালসিয়াম ছাড়াও ফসফরাস, সোডিয়াম, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ও পটাসিয়াম।

ব্যাখ্যা

দেখা যাচ্ছে, ভিটামিন-এ এবং ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফসফরাসের সমৃদ্ধ উৎস হওয়া সত্ত্বেও মাখনের মধ্যে পুষ্টির বিষয়টি পুরোটাই ফ্যাটকে ঘিরে। আর এতে কিছুটা ময়েশ্চার থাকে।
 অন্যদিকে চিজের ব্যাপারটা সামান্য আলাদা। তাতে ফ্যাট অবশ্যই আছে, তবে সঙ্গে বাড়তি পুষ্টি উপাদান হিসেবে আছে অনেকটা প্রোটিন এবং ভিটামিন-এ ও অন্যান্য মিনারেলও।

চূড়ান্ত রায়

ছোটদের দৈনন্দিন প্রোটিন চাহিদা তাদের নিত্যদিনের খাবার থেকে মিলে যায়। তাই ছোটদের চিজ খাওয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। তাছাড়া চিজের তুলনায় স্বাদের বিচারে মাখন খেতে ভাল।
সেজন্য ছোটরা চিজের তুলনায় মাখন খেতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু ৪৫ বছরের পর থেকে স্বাস্থ্যের কারণে ফ্যাট খাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
মাখন যেহেতু স্যাচুরেটেড ফ্যাট তাই একটা বয়সের পরে মাখনে রাশ টানা জরুরি। তবে চিজ সেক্ষেত্রে মাখনের ভাল বিকল্প। ভিটামিন, প্রোটিন ও মিনারেলের সমৃদ্ধ উৎস চিজ আমাদের হাড় ও দাঁতকে শক্ত করে।
এর জিঙ্ক ও বায়োটিন টিস্যুর উন্নতি ও মেরামতিতে সাহায্য করে। চিজ ভাল রাখে ত্বক, চুল ও নখকেও। মাখন তাৎক্ষণিক শক্তি উৎপাদনে সক্ষম এবং থাইরয়েড ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির স্বাস্থ্য ভাল রাখে।
তবে ওই বাড়তি স্যাচুরেটেড ফ্যাটই মাখনকে স্বাস্থ্যগতভাবে পিছিয়ে রাখবে। তাই মাখনের চেয়ে চিজ অবশ্যই স্বাস্থ্যকর, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে।

কোথায় থেকে ক্রয় করবেন চিজঃ নিছে আমাদের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেয়া হলো, এখানে আপনি চিজ ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন। 

বিস্তারিত
ইভ্যালি মার্কেটিং সিস্টেম কী?

ধন্যবাদ প্রশ্নটি করার জন্য। বর্তমানে বাংলাদেশের যতগুলো ইকমার্স আছে তার মধ্যে সব থেকে বহুল আলোচিত হচ্ছে ইভ্যালি। আলোচনা সমালোচনা যা ই হোক তার পিছনে রয়েছে তাদের মার্কেটিং পলিসি। যার কিছুটা খালি চোখে না দেখে মতিষ্ক দিয়ে অনুভব করাই ভাল।

ইভ্যালি তখনো শরুই হয়নি। কিন্তু ইভ্যালির নামটা আমি জানি। কিভাবে? ঢাকা থেকে সিলেট এমনকি বড় ছোট বেশ কয়েকটি জেলা শহরে ইভ্যালি বিশাল বিশাল খাম্বায় বিলবোর্ড লাগিয়ে তাদের নামটা আমাকে সহ দেশের বেশির ভাগ মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে।

তারা যখন শুরু করে বিভিন্ন ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সব মিডিয়াতে তারা খুব ফলাও করে ব্যবসা শুরু করে। অন্যান্য ইকমার্স গুলো কেবল বিশেষ কোন দিন বা ইভেন্টে করলেও ইভ্যালি সমান তালে সব গুলোতেই চালিয়ে গেছে।

ইভ্যালি শুরু থেকেই তাদের ব্র্যান্ডিং/এড/ সব কিছু নিয়ে ইন্টারনেটে বাজিং/হাইপ তুলে ফেলেছে। হোক তাদের সমালোচনাই বেশি। কিন্তু তারা সফল!

তারা কাস্টমার কেয়ার অথবা সেবা দিতে না পারলেও ব্র্যান্ডিং চালিয়ে গেছে সমান তালে। বিশেষ করে অন্য সব ই কমার্স থেকে বিশাল পরিমানে ছাড় দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যেটা তাদের মার্কেটিং এর বিশেষ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করেছিল। হোক তারা তাদের সেবা শত ভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি। কিন্তু তারা মার্কেটিং এর দিক দিয়ে সফল।

তাদের মার্কেটিং পলিসি তরুণ/বাইকার বেছে বিয়েছে তাদের টার্গেট করেই অন্যান্য দের কাছে রিচ করেছে। ফলে সোস্যাল মিডিয়ার বাইকার গ্রুপ গুলোতে একমাত্র ই-কমার্স ইভ্যালির নাম ই ছড়িয়েছে।

অন্যান্য স্টার্ট আপ যখন সব ব্যালেন্সিং করে আগাচ্ছিল ওরা শুরুই করেছে হাইপ তুলে। তার জন্য অবশ্য বেশ ভাল এমাউন্টের টাকাও খরচ করতে হয়েছে তাদের। ট্রাফিক বক্স থেকে শুরু করে ঢাকার অনেক জায়গায়ই তারা তাদের ব্র্যান্ডিং করেছে। ইভ্যালির থিম সং টা নিশ্চয় এক বার হলেও আপনার চোখে পড়েছে? না পড়লে চলুন দেখে আসি ইউটিউবে-

খেয়াল করলে দেখবেন পুরো ভিড়িওটাই কিন্ত তরুণ তরুনীদের এঙ্গেজ করেছে এবং সেই সাথে জিংগেল বেশ আকর্শনীয় করে রেখেছে। যেটা ট্রেন্ড হিসেবে বাংলাদেশের কোন ই কমার্সই ফলো করে নি তাদের মত করে।

এখানে অবশ্য ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটা স্পন্সর করেও তারা মার্কেটিং কৌশল খাটিয়েছে। যেটি তাদের ছাঁকা কিছু রিচ দিয়েছে। কেননা অনেক দিন পরে কোন নাটক যদি হিট করে তবে তা কাজল আরেফিন অমি আর কাবিলার ব্যাচেলর পয়েন্ট।

আপনিই বলুন, বাংলাদেশের আর কোন ই-কমার্সের CEO সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে একটিভ? ভদ্রলোকের নাম রাসেল। Mohammad Rassel লিখে ফেসবুক, লিংকেডিন এমনকি গুগোল করলেও তাকে পেয়ে যাবেন সহজেই। তার লাগাতার পোস্ট গুলোও কিন্তু তাদের মার্কেটিং কৌশল হিসেবে কাজ করছে।

পুরো লেখাটি পড়ে এবার ভেবে দেখুন কোন জিনিসটা তাদের মার্কেটিং এর কাজ করছেনা? সব কিছুই তারা তাদের প্রচার/ মার্কেটিং হিসেবে বুস্ট পাচ্ছে। হোক সেটা পজেটিভ অথবা নেগেটিভ।

বাংলাদেশের সব ই-কমার্সেরই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমার মতে সেবা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছিল পিকাবো। কেননা লোক মুখে তাদের গুনগানই সবাই করে। কিন্তু আফসোস যে ভাল সেবা দিয়েও কোম্পানিটা বন্ধ হতে চলেছে।

বিস্তারিত
হাংরিনাকি কিনে নিলো দারাজ

ফুড ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘হাংরিনাকি’ কিনে নিল দারাজ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দারাজ ও হাংরিনাকি একীভূত হওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে কত টাকার বিনিময়ে এই একীভূতকরণ হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করেননি দুই পক্ষের কর্ণধারেরা।

এর মাধ্যমে হাংরিনাকির সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছে দারাজ। তবে এতে হাংরিনাকির বর্তমান ব্যবসায়িক কার্যাবলিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। হাংরিনাকির বর্তমান কর্মীরাই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। সরাসরি দারাজের পরিচালনায় পৃথক ও স্বতন্ত্র ফুড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হবে হাংরিনাকি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দারাজ কিনে নেয় চীনা ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা।

দারাজ কেন হাংরিনাকি কিনল—এ প্রশ্নের জবাবে দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদল হক বলেন, দারাজের ফুড ব্যবসা নেই। ফুড ব্যবসায় যেতে হাংরিনাকি কেনা হয়েছে। তা ছাড়া হাংরিনাকি নামটাও দারাজকে আকর্ষণ করেছিল। দারাজ যেমন ৬৪ জেলায় আছে, হাংরিনাকিও ৬৪ জেলায় থাকবে।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম ফুড ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হাংরিনাকি। দেশের পাঁচটি শহরে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট, ক্লাউড কিচেন এবং হোম কিচেন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার গ্রাহককে প্রতিদিন পৌঁছে দিচ্ছে সুস্বাদু খাবার। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এখন তাঁদের পছন্দমতো খাবার অর্ডার করতে হাংরিনাকি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে, দারাজ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। দারাজ ক্রেতা ও বিক্রেতার সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে লক্ষাধিক বিক্রেতার ক্ষমতায়নে কাজ করছে। শতাধিক ক্যাটাগরির আওতায় কোটিরও বেশি পণ্য পাওয়া যায় দারাজে, যার চাহিদা পূরণে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আনাচকানাচে ২০ লাখেরও বেশি প্যাকেজ ডেলিভারি দিয়ে থাকে।

বিস্তারিত
করোনার আঘাতের পর দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি চীনের

করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি করেছে চীন। আজ রোববার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমদানিও ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটির। মহামারির সময়ে ইলেকট্রনিক পণ্য ও টেক্সটাইলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এটি রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কারণ, মহামারির সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গৃহস্থালি পণ্য ও প্রতিরক্ষামূলক পণ্যের চাহিদা বিশ্বব্যাপীই ব্যাপক বেড়ে যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। ইলেকট্রনিকস ও মাস্কের রপ্তানি বেড়েছে ব্যাপক পরিমাণে। এ ছাড়া আমদানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ। শুল্ক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে ১০৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি তথ্য থেকে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিকস পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ। মাস্কসহ টেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৫০ দশমিক ২ শতাংশ।
চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, পরে যা বিশ্বের সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। গত এক বছরে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির। তবে করোনার প্রভাব সবার আগে কাটিয়ে উঠেছে চীন। গত বছর বড় অর্থনীতির মধ্যে কেবল চীনই প্রবৃদ্ধির ধারায় ছিল।

বিস্তারিত
alibaba & Import Export expert

আমদানি,রপ্তানি,আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন।

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft