গার্মেন্টস স্টক লট ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন

গার্মেন্টস স্টক লট ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন


Posted on: 2021-04-15 22:38:41 | Posted by: Shafiullah
গার্মেন্টস স্টক লট ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন

গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ। বাংলাদেশের রপ্তানি পন্যের প্রায় পুরো অংশই গার্মেন্টস পন্য। গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে স্টক লট ব্যবসা। আজ আমাদের আলোচনা এই স্টক লট ব্যবসা নিয়েই। স্টক লট ব্যবসা কি? কিভাবে  স্টক লট ব্যবসা করবেন? স্টক লট ব্যবসার সুবিধা-অসুবিধা কি? কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হবে স্টক লট ব্যবসা করতে? কোন ধরনের পন্য ক্রয় করবেন? পন্য কোথায় বিক্রি করবেন? কিভাবে পন্য বিক্রি করবেন? এই সকল বিষয় নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করব।

আমরা জানি যে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমান গার্মেন্টস পন্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস কোম্পানিগুলো বিদেশের বায়ারদের থেকে ৫০০০ পিস থেকে শুরু করে ৫ লাখ - ১০ লাখ পিস পন্যের অর্ডার নেয়। এগুলো যেকোনো ধরনের গার্মেন্টস পন্য হতে পারে। যেমন- টি শার্ট পলো শার্ট, প্যান্ট, সুয়েটার ইত্যাদি পন্য। মাঝে মাঝে এই অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। অর্ডার বাতিল  হওয়ার কারণে তৈরি পন্যগুলো গার্মেন্টস মালিকরা কম দামে বিক্রি করে দেয়। সেই পন্য স্টক লট ব্যবসায়ীরা কিনে এনে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। আবার কখনও গার্মেন্টস  কোম্পানিগুলো যে পরিমান পন্যের অর্ডার পায় তার থেকে বেশি তৈরি করে। যেমন ধরুন একটি গার্মেন্টস কোম্পানি ৫০ হাজার টি শার্টের অর্ডার পেয়েছে। এখন গার্মেন্টস কোম্পানি কিন্তু একেবারে ৫০ হাজার পিস টি শার্ট তৈরি করবে না। তারা অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার অথবা ১০ হাজার পিস বেশি তৈরি করবে। কারন কিছু টি শার্টে স্পট থাকতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত কিছু টি শার্ট তৈরি করে। এই অতিরিক্ত পন্য প্রায় সময় প্রয়োজন হয় না। তাই তারা এগুলো কম দামে বিক্রি করে দেয়। এটাই হল গার্মেন্টস স্টক লট ব্যবসা।

এই ব্যবসা সম্পর্কে অনেকে আগ্রহ রাখলেও বুঝতে পারেননা যে কিভাবে স্টক লট ব্যবসা করবেন। কিভাবে এই ব্যবসার শুরুটা করবেন।
প্রথমে আপনি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে স্টক লট  ব্যবসা শুরু করাটাই ভালো হবে। প্রথমেই  বেশি টাকা ইনভেস্ট করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।  আর এমন পন্য দিয়ে শুরু করবেন যেগুলো ভালো চলবে। প্রথমে চেষ্টা করবেন ব্রান্ডের পন্য ক্রয় করতে। এতে দ্রুত বিক্রি করতে পারবেন।
১ থেকে ২ হাজার পিস টি শার্ট দিয়ে  শুরু করতে পারেন। প্রথমে ১ থেকে ২ হাজার পিস টি শার্ট বা পলো শার্ট কিনে এগুলো বিভিন্ন দোকান এবং নিজে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। ধরুন আপনি ১০০০ পিস প্রিন্টেড টি শার্ট কিনলেন। একটি টি শার্টের দাম যদি হয় ৭০ টাকা তাহলে খরচ পড়বে...
১০০০×৭০=৭০০০০৳
আরও অন্যান্য খরচ ধরেন ৫০০০ টাকা। তাহলে আপনার প্রতি টি শার্টের মূল্য দাড়ায় ৭৫ টাকা। আর এগুলো আপনি ১০০/১১০ টাকা দরে বিক্রি করবেন দোকানগুলোতে এবং নিজে খুচরা বিক্রি করলে ১৫০-১৮০৳ দরে বিক্রি করতে পারবেন। এটাতো হল আপনার স্টক লট ব্যবসার শুরু। শুরুতে লাভের পরিমান কম হবে এটাই স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে নতুন কাস্টমার পাবেন। তারপর আপনি বড় লটের পন্য কিনতে পারবেন। বিদেশে পন্য পাঠাবেন।

স্টক লট ব্যবসার সুবিধা হচ্ছে এতে ঝুঁকি কম এবং লাভও বেশি। কিন্তু এ ব্যবসার কিছু অসুবিধাও আছে। যেমন ধরুন অনেকগুলো লট এমন থাকে যেখানে ভালো পন্যের হার ৪০-৬০/৭০%। বাকি পন্যের একটা অংশ রিপেয়ার করা যায়। কিন্তু একটা অংশ পন্য ব্যবহার যোগ্য থাকেনা। সুতরাং কিনার সময় বুঝে শুনে কিনবেন। স্পট থাকবেই, কিন্তু আপনাকে হিসাব করে কিনতে হবে যাতে রিপেয়ার করার খরচ এবং বাতিল পন্যের মুল্য উঠে লাভ কিরকম হবে। তারপর স্টক লট ব্যবসার আরেকটি অসুবিধা হল সবসময় আপনি এক ধরনের পন্য পাবেন না। তারপর মিক্সড সাইজের পন্যও স্টক লট ব্যবসার অন্যতম একটি অসুবিধা। এসকল বিষয় আপনি যখন নতুন থাকবেন, হিসাব করতে কঠিন হবে। অভিজ্ঞতার সাথে সহজ হয়ে যাবে। আবার কখনও পুরো লটের পন্যই ক্রয় করতে হয়। অর্থাৎ একটি লটে যদি ৩০৫৬০ টি পন্য থাকে তাহলে সবগুলি কিনতে হয়। তাই পন্য ক্রয় করার আগে মার্কেটে চাহিদা কেমন তা যাচাই করে নিবেন।

এবার আসি পন্য কোথায় কিভাবে বিক্রি করবেন।
স্টক লটের ব্যবসা করতে গেলে আপনার একটি গুদামঘর বা দোকানের প্রয়োজন হবে। যেসব স্থানে গার্মেন্টস স্টক লটের ব্যবসা চলে সেসব স্থানে দোকান নেওয়ার চেষ্টা করবেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে ভাল সম্পর্ক করে বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করবেন। বায়ারদেরকে পন্যের স্যাম্পল দেখাবেন। এভাবে আপনার কাস্টমার তৈরি হতে থাকবে। ধীরে ধীরে বিদেশের বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করবেন। মনে রাখবেন আপনি যে পন্য দেশে ১২০ টাকায় বিক্রি করেন সেটা বিদেশে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। সেখানে দাম একটু বেশি পাওয়া যায়। তাই বিদেশি বায়ারদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করবেন। বর্তমানে অনেকেই স্টক লটের পন্য বিদেশে বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন।
আর পন্য ক্রয় বিক্রয় করতে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যাংক ব্যবহার করবেন। এতে প্রতারণার শিকার থেকে রক্ষা পাবেন।


আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ। 


জনপ্রিয় পণ্য

সাম্প্রতিক পণ্য

Leave a Comment:

Comment as:

Admin 2021-04-15 22:44:44
Thanks for your information
Upvote:
alibaba & Import Export expert

সি এন্ড এফ, আমদানি, আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft